
কম্পিউটার ব্যবহার করতে জানেন না বিদ্যালয়ের কম্পিউটার শিক্ষক সরকারি ও এমপিওভুক্ত ২৩টি কলেজে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক রয়েছেন ১৩৬ জন। কিন্তু ভয়াবহ বৈপরীত্য হলো—এই ২৩টি কলেজের মধ্যে ১১টিতে শিক্ষার্থী সংখ্যা ১০ জনেরও কম, আর একটি কলেজে চলতি শিক্ষাবর্ষে একজন ছাত্রও ভর্তি হয়নি। সর্বশেষ তিন বছরের চিত্র প্রায় একই। অথচ এ কলেজগুলোতেই বিজ্ঞান বিভাগে প্রতিবছর ব্যয় হচ্ছে ২ কোটি টাকারও বেশি।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২০২১ সালের নীতিমালায় বলা হয়েছে, কলেজে বিজ্ঞান বিভাগ চালাতে হলে ন্যূনতম ২০ জন শিক্ষার্থী থাকতে হবে। কিন্তু ২০২২ সালে যাচাই-বাছাই শুরু হলেও এর বাস্তবায়ন এখনো চোখে পড়েনি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাধ্যমিক থেকেই ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং, আধুনিক ল্যাব স্থাপন, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য বিজ্ঞান বৃত্তি, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং ছাত্রশূন্য কলেজে শিক্ষক পুনর্বিন্যাস ছাড়া বিজ্ঞান শিক্ষার এই পতন ঠেকানো যাবে না।
জেলার একাধিক অধ্যক্ষ অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় রাজনৈতিক তদবিরে অধিকাংশ কলেজ এমপিওভুক্ত হয়। শিক্ষার্থী না থাকলেও শিক্ষক কমানোর উদ্যোগ নিলেই রাজনৈতিক চাপ আসে।
নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স ও ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী শায়লা পারভীন শ্রাবণী জানান, মফস্বলে বিজ্ঞান শিক্ষার এই পতন চলতে থাকলে পরবর্তী দশকে দেশজুড়ে বিজ্ঞানভিত্তিক উচ্চশিক্ষার ঘাটতি দেখা দেবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যোগ্য শিক্ষার্থী পাওয়া কঠিন হবে। প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি, চিকিৎসা –প্রকৌশল খাত, গবেষণা ও উদ্ভাবন সবক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
নেত্রকোনা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. আবু তাহের খান বলেন, ‘উপজেলা পর্যায়ে বিজ্ঞানে ছাত্রসংখ্যা প্রায় শূন্যের কোঠায়। ছাত্রশূন্য কলেজগুলোতে বিজ্ঞান বিভাগ বন্ধ করে অন্য কলেজে একীভূত করা জরুরি। এতে করে সরকারের অর্থ অপচয় রোধ হবে।’
মাউশির ময়মনসিংহ অঞ্চলের পরিচালক এ. কে. এম. আলিফ উল্লাহ আহসান জানান, এমপিওভুক্ত কলেজগুলোর শিক্ষকদের অন্য কলেজে বদলির সুযোগ নেই। ছাত্র কমে গেছে সামনে হয়ত বাড়তে পারে। আমরা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সরকারের অর্থ অপচয় রোধ এবং কাম্য শিক্ষার্থী বাড়াতে কি পদক্ষেপ নেওয়া হবে সে ব্যাপারে চিঠি দেবো।
সম্পাদক ও প্রকাশক:- গজনবী বিপ্লব
নেত্রকোণা অফিস:- গজনবী ভিলা, সাতবেরিকান্দা, নেত্রকোণা সদর, নেত্রকোণা