দীর্ঘ তদন্ত শেষে আলিফ হত্যা মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরুচট্টগ্রামের আলোচিত অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।সোমবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ গঠনের শুনানির মধ্য দিয়ে এ মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
মামলাটিতে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা ২২ জন আসামিকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে আদালতে হাজির করা হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী।
তিনি বলেন, গত ১৪ জানুয়ারি মামলার প্রথম ধার্য তারিখ ছিল। সেদিন আসামিদের উপস্থিতি নিশ্চিত করে অভিযোগ গঠনের জন্য ১৯ জানুয়ারি দিন নির্ধারণ করেন আদালত।
তিনি আরও জানান, মামলাটি যেহেতু বিচারিক কার্যক্রমের শুরুতে রয়েছে, তাই প্রথম তারিখে নথিপত্র পর্যালোচনা করা হয়। সব আসামির উপস্থিতিতে অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ জানুয়ারির শুনানিতে কয়েকজন আসামি আদালতের অনুমতি নিয়ে বক্তব্য দেন এবং নিজেদের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ ও নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করেন। আদালত তাদের আইনজীবী নিয়োগ ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা প্রদানের বিষয়ে আইনানুগ সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার সময় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষায়িত গোয়েন্দা শাখার সদস্যরা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গ্রেপ্তার করেন। পরদিন তাকে কোতোয়ালি থানায় দায়ের হওয়া রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হলে জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো হয়।
এ ঘটনার প্রতিবাদে ইসকন অনুসারীরা বিক্ষোভে নামেন। বিক্ষোভ চলাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে আদালত এলাকা ও আশপাশে মসজিদ, দোকানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে হামলা চালান।
এরই মধ্যে ২৬ নভেম্বর বিকেলে আদালতের প্রধান ফটকের বিপরীতে রঙ্গম কনভেনশন হলের গলিতে একদল ইসকন অনুসারীর হামলায় প্রাণ হারান আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ।
এ ঘটনায় গত বছরের ২৯ নভেম্বর দিবাগত রাতে নিহত আলিফের বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়।
২০২৫ সালের ১ জুন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, তৎকালীন কোতোয়ালি জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহফুজুর রহমান আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। তদন্তে সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় এজাহারনামীয় তিনজনের অব্যাহতির আবেদন করা হয়। পাশাপাশি চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ নতুন করে আরও ১০ জনকে আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
পরবর্তীতে গত বছরের ২৫ আগস্ট চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম আলাউদ্দিন মাহমুদের আদালত শুনানি শেষে মোট ৩৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ করেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক:- গজনবী বিপ্লব
নেত্রকোণা অফিস:- গজনবী ভিলা, সাতবেরিকান্দা, নেত্রকোণা সদর, নেত্রকোণা