নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলমান অবৈধ চাঁদাবাজি বন্ধে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। অভিযানে দুইজন চাঁদাবাজসহ মোট তিনজনকে আটক করা হয়েছে। এ সময় উদ্ধার করা হয় চাঁদাবাজির প্রমাণস্বরূপ বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ ও স্থিরচিত্র।
মদন সেনা ক্যাম্প সূত্রে জানানো হয়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, কেন্দুয়ার নতুন বাসস্ট্যান্ড থেকে ঢাকাগামী প্রতিটি বাস থেকে আর্থীক ভাবে লাভবান হওয়অর উদ্দেশ্যে প্রতিটি বাস থেকে ২,০০০ টাকা করে চাঁদা আদায় করে আসছিল একটি সংঘবদ্ধ চক্র। এই চক্রে স্থানীয় কিছু ব্নিএনপি রাজনৈতিক নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের পর গতরাত ১০ জুন মঙ্গলবার রাতে মদন সেনা ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার বিএ-১১৯৪৯ লেফটেন্যান্ট মোঃ শাহরিয়ার আহম্মেদের নেতৃত্বে ৬৩ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের একটি দল অভিযান পরিচালনা করে। সেনাবাহিনীর এ অভিযানে সহায়তা করে বাংলাদেশ পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা।
অভিযানে আটক হওয়া ব্যক্তিরা হলেনঃ-
১, উপজেলা বিএনপির সহ-সম্পাদক, ছিলিমপুর গ্রামের মৃতঃ আব্দুছ সালাম খানের ছেলে মোঃ আব্দুল আউয়াল খান (৬৫) নীজ বাড়ি থেকে।
২, শ্রমিকদল, কেন্দুয়া পৌরসভা শাখার ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক, ছিলিমপুর গ্রামের, মোঃ আব্দুল মমেন কাদেরির ছেলে
আনিছুর রহমান কাদিল (৩৫) তাকে আটক করা হয় বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন একটি ভাড়া বাসা থেকে।
৩. – কোমলপুর গ্রামের মৃত লাল মিয়ার ছেলে মোঃ গেদু মিয়া (৩৮) নতুন বাসস্ট্যান্ডের পেছনের একটি ধানক্ষেত থেকে তাকে আটক করা হয়।
কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, আটককৃত আনিছুর রহমান কাদিল ও আব্দুল আউয়াল খানের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করা হয়েছে। অন্যদিকে, মোঃ গেদু মিয়াকে এই মামলার সাক্ষী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আটককৃতদের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এ অভিযানকে কেন্দ্র করে কেন্দুয়ার সাধারণ মানুষ ও বাসচালকদের মাঝে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফিরে এসেছে। দীর্ঘদিনের চাঁদাবাজি ও হয়রানির অবসানে সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগকে স্থানীয়রা ‘সাহসী পদক্ষেপ’ হিসেবে দেখছেন এবং এমন অভিযান নিয়মিত চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
কেন্দুয়া বাজারের নাম প্রাকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যাবসায়ী বলেন, আমাদের চোখের সামনে প্রতিদিন এরকম ঘটনা ঘটছে প্রতিবাদ করার সাহস আমাদের নাই। ৫ই আগষ্টের পর থেকে রফিক হিলালী গ্রোপের কিছু নামধারী রাজনৈতিক ব্যাক্তি বাসষ্টেন্ড, সিএনজি ষ্টেন্ড ও অটোরিক্সা ষ্টেন্ড দখল করে চাঁদাবাজি করে আসছে। কোই প্রতিবাদ করলে তাদের এলাকায় থাকা দায় হয়ে যাবে। তাই ভয়ে কোউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। বিশেষ করে ছিলিমপুর গ্রামের নেতাদের অত্যাচারে অতিষ্ট বাসষ্টেন্ড এলাকা। নেত্রকোণা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব রফিক হিলালীর আপন ভগ্নীপতি জয়নাল আবেদিন কেন্দুয়া বিএনপির সভাপতি ও বাসষ্টেন্ডের সভাপতি তার নেতৃত্বেই হয় চাাঁদাবাজি।
সম্পাদক ও প্রকাশক:- গজনবী বিপ্লব
নেত্রকোণা অফিস:- গজনবী ভিলা, সাতবেরিকান্দা, নেত্রকোণা সদর, নেত্রকোণা