নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় বৈখরহাটি নরেন্দ্র কান্ত উচ্ছ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধাণ শিক্ষকের বিরুদ্বে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। যার কারণে ২০২৬ সালের এস এস সি পরীক্ষার্থী হরিজন সম্প্রদায়ের পুজা রাজভর নামে দশম শ্রেণরি এক ছাত্রী আত্নহত্যা করেছে বলে অভিযোগ ভোক্তভোগী পরিবারের।
পুজা রাজভর বৈখরহাটী বাজার সংলগ্ন দৈলা গ্রামে মামার বাড়িতে থেকে বৈখরহাটি নরেন্দ্র কান্ত উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করত। গত কয়েকদিন আগে শিক্ষার্থী পুজা রাজভর পাকনির্বাচনি পরিক্ষায় সকল বিষয়ে কৃতকার্য হতে পারেনি। পরিবারের সুপারিশ ও মেয়েটির আকুতি আমলে নেননি ভারপ্রাপ্ত প্রধাণ শিক্ষক। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লুভনা নাসরিন রানী ২০২৬ সালে এসএসসি পরিক্ষার ফরম পুরণ করতে দেননি পুজা রাজভরকে।
ফরম পুরণ করে পরিক্ষায় অংশ গ্রহণ করতে না পারার দুঃখে তার নানর বাড়ির বসত ঘরে আড়ার সাথে গলায় গামছা ও ওড়না পেচিয়ে আত্ন হত্যার চেষ্টা করে। খোঁজ পেয়ে পরিবারের লোকজন তাকে উদ্বার করলেও কিছুক্ষণ পর সে মারা যায়।
এ ছাড়াও বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লুভনা নাসরিন রানী দুই, তিন, চার বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের মোটা অংকের টাকা অনৈতিক ভাবে গ্রহণ করে ফরম পুরণ করে পরিক্ষার সুযোগ করে দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্বে। গত এক মাস আগে ফরম পুরণের সময় শেষ হয়ে গেলেও তিনি এখন পর্যন্ত ফরম পুরনের টাকা নিচ্ছেন অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে।
এ বছর বিদ্যালয়টি থেকে বিজ্ঞান ও মানবিক শাখায় মোট ১৬৮ জন শিক্ষার্থী ২০২৬ সালে এসএসসি পরিক্ষায় অংশ গ্রহণ করবে।
পুজা রাজভরের নানী বলেন, আমরা নীচু জাতের, আমাদের প্রতিবাদের কোন মূল্যনেই। আমার নাতি বার বার হেডমাষ্টরের কাছে গিয়ে পা ধরে বলেছে পরিক্ষায় অংশ গ্রহণের সুযোগ করে দিতে। কিন্তু তিনি তা শূনেন নি। যে কারণে আমার নাতি আত্নহত্না করে জীবণ দিয়েছে। আমরা বিচার চাই। আমরা নিচু জাতের মানুষ বিচার চাইলেই কি হবে? আমরাতো আর বিচার পার না।
বিদ্যালয়ের অফিস সহকারি অঞ্জন কুমার পন্ডিত বলেন, আমার জানামতে বেশী টাকা নেওয়া হয়নি। ফরম পুরণের তথ্যমতে মোট ১৬৮ জন শিক্ষার্থী এবারের এসএসসি পরিক্ষায় অংশ গ্রহণ করবে। সকল বিষয়ে কতজন পাশ করেছে তা একমাত্র প্রধাণ শিক্ষকেই বলতে পারবেন। সকল কাগজপত্র হেড স্যারের কাছে আমি কিছু বলতে পারবনা। তবে আমি যতদূর জানি সকল বিষয়ে ৬২ জন সকল বিষয়ে পরিক্ষায় উর্তিন্ন হয়েছিল।
বাহাগুন্দ গ্রামের মাসুদ মিয়া বলেন, এই প্রধান শিক্ষক তিনি তার নিজ খেয়াল খূশিমত বিদ্যালয়টি পরিচালনা করে আসছেন। যারা তিন চার বিষয়ে ফেল করেছে তাদেরকে ৭-৮ হাজার টাকার বিনিময়ে ফরম পুরণের সুযোগ দিয়েছে প্রধাণ শিক্ষক। অনিয়ম দুর্নীতি করে ছাত্রদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে লঅখ টাকার বেশী। আমরা সুষ্ট তদন্তের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করি।
এ ব্যাপারে সরজনিনে গিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধাণ শিক্ষক লুভনা নাসরিন রানীকে বিদ্যালয়ে পাওয়া যায়নি। তারসাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি অসুস্থতার কারণে ডাক্তার দেখাতে গৌরিপুর চলে এসেছি। আপনাদেরকে কোন আপ্যায়ন করতে পারিনি। আপনাদের সাথে যোগাযোগ করে চা পানের খরছ বাবদ কিছু দিবনে, সভাপতি আপনাদের সাথে যোগাযোগ করবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক:- গজনবী বিপ্লব
নেত্রকোণা অফিস:- গজনবী ভিলা, সাতবেরিকান্দা, নেত্রকোণা সদর, নেত্রকোণা