নেত্রকোনার মদন উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুমে জ্বালানি তেলের চরম সংকটের কারণে কৃষকের বোরো পাকা ধান কাটা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
মদন উপজেলার বিভিন্ন হাওর এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে সব বোরো ধান পেকে গেছে । ডিজেল চালিত ধান কাটা হারভেস্টার মেশিনের পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে অনেক জমির ধান পেকে গেছে সময়মতো পাকা ধান কাটা সম্ভব হচ্ছে না, মদনের কৃষকের মনে দুশ্চিন্তা বেড়ে গেছে পাকা ধান হারভেস্টার মেশিন দিয়ে জ্বালানি তেল সংকটের কারণে কাটতে পারছে না। গোবিন্দশ্রী পশ্চিম পাড়া,বড্ডা, বারঘরিয়া , গ্রামের কৃষক মাজু মিয়া,কৃষক জানু মিয়া, কৃষক নুরুল হক অনেকেই জানান, আমরা ভাটি অঞ্চলের মানুষ আমাদের বোরো ধান সব পেকে গেছে পুরোপুরি পাকা ধান কাটার সময় হারভেস্টার মেশিনের উপর নির্ভর করতে হয়। ডিজেল তেল সংকটের কারণে আমাদের পাকা ধান কাটা সম্ভব হচ্ছে না।
বেশি দামে কিনতে হচ্ছে তাও আমরা হারভেস্টার মেশিনের প্রয়োজনীয় ডিজেল তেল প্রতিদিন যা লাগে তা পাচ্ছি না। ডিজেল তেল সংকটের জন্য ধান কাটা মেশিন পরে আছে। ধান পেকে নষ্ট হচ্ছে আবার তেলের পাম্পে গেলে সরবরাহ কম থাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তেল পাওয়া যাচ্ছে না। কি করবো উপায় খুঁজে পাচ্ছি না।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে,সারা উপজেলায় এ বছর উল্লেখযোগ্য ১৭৬৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। তবে জ্বালানি তেল সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে পাকা ধান কাটা ব্যাঘাত সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। হাওর অঞ্চলের কৃষকদের দাবি আমাদের সারা বছরের কষ্টের ফসল বোরো ধান সব পেকে গেছে জ্বালানি তেলের জন্য ধান কাটা বন্ধ রয়েছে অনেক জায়গায়। সঠিক সময়ে পর্যাপ্ত জ্বালানি ডিজেল তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে জ্বালানি তেল সংকট অনেকাংশে দূর হবে এবং বোরো ধান কাটা সহজ হয়ে উঠবে।
এ বিষয়ে মদন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান মিজান বলেন, এবার মদন উপজেলায় ১৭৬৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে। আজ ১৩ এপ্রিল মদনের জ্বালানি ডিজেল তেল সংকট ছিল জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে কিছু হাওরের হারভেস্টার মেশিন কার্যক্রমে কিছুটা সমস্যা হয়েছে। দুর্যোগের জন্য জ্বালানি ডিজেল ১৪ হাজার লিটার মজুত আছে কৃষকদের আমরা পরামর্শ দিচ্ছি, তারা যেন পাকা ধান দ্রুত কেটে ফেলে।
জ্বালানি তেলের জন্য অন্য উপজেলা থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে আমরা কৃষি বিভাগ মাঠ পর্যায়ে ডিজেল তেলের জন্য ধান কাটা যাতে ব্যাঘাত সৃষ্টি না হয় সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নিচ্ছি। পাশাপাশি বিকল্প প্রযুক্তি ব্যবহারে ধান কাটার জন্য কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইউএনও মিজ বেদবতী মিস্ত্রী বলেন,গতকাল পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল এসেছে। আমাকে আর কৃষি অফিসারকে কোনো কৃষক এখনো পর্যন্ত কোন অভিযোগ করেনি।
সম্পাদক ও প্রকাশক:- গজনবী বিপ্লব
নেত্রকোণা অফিস:- গজনবী ভিলা, সাতবেরিকান্দা, নেত্রকোণা সদর, নেত্রকোণা