প্রিন্ট এর তারিখঃ জুলাই ২৯, ২০২৬, ২:৪৫ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুলাই ৪, ২০২৬, ১০:২৯ এ.এম
অন্ধকারে বসেও আলো খুঁজছেন কেন্দুয়ার ফ্রিল্যান্সাররা

"ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে ব্যাহত হচ্ছে অনলাইন আয়, বাড়ছে ব্যাকআপ নির্ভরতা"
ডিজিটাল অর্থনীতির প্রসারে ঘরে বসেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ক্লায়েন্টের সঙ্গে কাজ করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছেন কেন্দুয়ার অনেক তরুণ-তরুণী। ফ্রিল্যান্সিং এখন শুধু কর্মসংস্থানের একটি মাধ্যম নয়, বরং অনেকের জীবিকার প্রধান অবলম্বন। তবে ঘন ঘন লোডশেডিং এই সম্ভাবনাময় খাতের সঙ্গে যুক্তদের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে নির্ধারিত সময়ে কাজ সম্পন্ন করা, অনলাইন মিটিংয়ে অংশ নেওয়া এবং ক্লায়েন্টদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ফ্রিল্যান্সাররা। বিশেষ করে বিদেশি ক্লায়েন্টদের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎ চলে গেলে নানা বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে তাদের।
কেন্দুয়া বাজারের আইটি নেক্সট প্রতিষ্ঠানের পরিচালক প্রকৌশলী রাফি বলেন, “ফ্রিল্যান্সিংয়ের ক্ষেত্রে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গুরুত্বপূর্ণ মিটিং কিংবা কাজের সময় বিদ্যুৎ চলে গেলে অনেক সময় ক্লায়েন্টের কাছে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়।” কেন্দুয়ার ফ্রিল্যান্সার তৌফিক বলেন, “অনেক সময় বিদেশি ক্লায়েন্টের সঙ্গে ভিডিও মিটিং চলাকালে বিদ্যুৎ চলে যায়। তখন ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে কাজের ধারাবাহিকতা নষ্ট হয়। এতে পেশাগত ভাবমূর্তির ওপরও প্রভাব পড়ে।” রঙিনবাড়ি আইটি সলিউশনের ইনস্ট্রাক্টর সাইমুন জাহান শুভ বলেন, “বিদ্যুৎ যাওয়ার নির্দিষ্ট কোনো সময়সূচি নেই। ফলে কাজের পরিকল্পনা করা কঠিন হয়ে পড়ে। বাধ্য হয়ে বিকল্প ব্যবস্থা রাখতে হচ্ছে।
লোডশেডিংয়ের দুর্ভোগ কাটাতে অনেক ফ্রিল্যান্সার এখন আইপিএস, মিনি ইউপিএস, সোলার সিস্টেমসহ বিভিন্ন ব্যাকআপ ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করছেন। কেউ শুধু রাউটার সচল রাখতে মিনি ইউপিএস ব্যবহার করছেন, আবার কেউ দীর্ঘ সময় কাজ চালিয়ে নিতে বড় ক্ষমতার আইপিএস ও ব্যাটারি স্থাপন করেছেন।
প্রযুক্তি সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি ভালো মানের আইপিএস, পর্যাপ্ত ক্ষমতার ব্যাটারি এবং রাউটার ব্যাকআপ থাকলে কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত ল্যাপটপ ও ইন্টারনেট চালু রাখা সম্ভব। তবে এসব বিকল্প ব্যবস্থার জন্য বাড়তি খরচ বহন করতে হচ্ছে ফ্রিল্যান্সারদের।
বিদ্যুৎ চলে গেলে অনেক সময় মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সেবাতেও সমস্যা দেখা দেয়। এ কারণে অনেক ফ্রিল্যান্সার একাধিক মোবাইল অপারেটরের সিম ব্যবহার করছেন। একটি নেটওয়ার্ক দুর্বল হলে অন্যটি দিয়ে কাজ চালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন তারা।কেন্দুয়ার মতো বৃহৎ উপজেলায় বিদ্যুতের বরাদ্দ আরও বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এ উপজেলার জনসংখ্যা, ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি ও প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদাও বেড়েছে।ফ্রিল্যান্সারদের মতে, বিদ্যুতের অনিশ্চয়তা শুধু তাদের ব্যক্তিগত আয়ের ওপর নয়, দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
কারণ আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্সিং বাজারে সময়মতো কাজ জমা দেওয়া এবং নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।কেন্দুয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জোনাল ম্যানেজার প্রকৌশলী ওমর ফারুক বলেন, “বর্ষাকালে ঝড়-বৃষ্টির সময় গ্রাহকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে অনেক সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয়। এছাড়া বজ্রপাতের কারণে বিতরণ লাইনের তার ছিঁড়ে যাওয়া বা অন্যান্য ত্রুটির কারণেও সাময়িক সমস্যা তৈরি হয়।” তিনি আরও বলেন, “কেন্দুয়া উপজেলার জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ বরাদ্দ রয়েছে, তা বর্তমান চাহিদার তুলনায় অনেক ক্ষেত্রে অপ্রতুল। চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।
লোডশেডিংয়ের মধ্যেও ব্যাকআপ ব্যবস্থা ব্যবহার করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন কেন্দুয়ার ফ্রিল্যান্সাররা। তবে তাদের প্রত্যাশা, দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন, বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করা হবে।
কারণ ফ্রিল্যান্সিং এখন শুধু ব্যক্তিগত আয়ের মাধ্যম নয়; এটি তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। তাই এই খাতের বিকাশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও উন্নত ইন্টারনেট ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।
সম্পাদক ও প্রকাশক:- গজনবী বিপ্লব
নেত্রকোণা অফিস:- গজনবী ভিলা, সাতবেরিকান্দা, নেত্রকোণা সদর, নেত্রকোণা