নেত্রকোণা: নেত্রকোণার বিভিন্ন স্থানে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের মূল্যবান সরকারি জমি দখল হয়ে গেলেও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে জেলা প্রশাসনের কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, গত ১ মার্চ ২০২১ তারিখে নেত্রকোণা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রাজস্ব (এসএ) শাখা থেকে (স্মারক নং: ০৫.৪৫.৭২০০.০০৮.৯৯.০০২.২০.১৭৭/১(৪)) কেন্দুয়া উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার রেজাউল করিম ভূঁইয়াকে এক নির্দেশ প্রদান করা হয়। নির্দেশনায় নেত্রকোণা (ঠাকুরাকোনা)-কলমাকান্দা সড়কের বাহাদুরকান্দা বাজার, কলমাকান্দা ব্রিজের এপ্রোচ এবং নান্দাইল-আঠারবাড়ী-কেন্দুয়া সড়কের সাহিতপুর বাজারে অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করে সরজমিনে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছিল। তবে নির্দেশনার পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও তিনি সেই প্রতিবেদন জমা দেননি।
অভিযোগ রয়েছে, কেন্দুয়া উপজেলার সান্দিকোণা ইউনিয়নের সাহিতপুর বাজারে মো. মোজাহিদুল ইসলাম নামের এক প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গত ৪-৫ বছর ধরে সড়ক ও জনপথ বিভাগের জমি অবৈধভাবে দখল করে 'স্বাদের বাড়ি রেস্টুরেন্ট ও মিষ্টান্ন ভান্ডার' গড়ে তুলে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। শুধু তা-ই নয়, তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের পশ্চিম পাশের সরকারি জমি দখল করে আরও ৫টি স্থায়ী দোকানঘর নির্মাণ করেছেন। প্রতিটি দোকান থেকে ৩ লাখ টাকা করে জামানত নিয়ে ভাড়া দিয়ে প্রতি বছর লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।
অভিযোগ উঠেছে, সার্ভেয়ার রেজাউল করিম ভূঁইয়া ব্যবসায়ী মোজাহিদুল ইসলামের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের মাধ্যমে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা থেকে বিরত রয়েছেন। এলাকাবাসী জানান, সরকারি জায়গা দখলকারীরা এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় সাধারণ মানুষ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পান না। অনৈতিক লেনদেনের কারণেই প্রতিবেদনটি আটকে রাখা হয়েছে বলে তাদের ধারণা।
অভিযোগের বিষয়ে মো. মোজাহিদুল ইসলাম বলেন, "আমি কোনো সরকারি জায়গা দখল করিনি। আর যদি দখল করেও থাকি, তবে সবার স্থাপনা উচ্ছেদ করা হলে আমিও ছেড়ে দেব।
প্রতিবেদন জমা না দেওয়ার বিষয়ে সার্ভেয়ার রেজাউল করিম ভূঁইয়া বলেন, "আমি প্রতিবেদন তৈরি করেছিলাম। কিন্তু তখন কোনো ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা না হওয়ায় পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে পারিনি।সড়ক ও জনপথ বিভাগের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, তিনি নতুন যোগদান করায় বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন।
অন্যদিকে নেত্রকোণার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সুখময় সরকার জানান, বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না এবং তিনি দ্রুত এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। সরকারি জমি দ্রুত উদ্ধারের আশ্বাস দিয়ে কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা চৌধুরী বলেন, "আমি বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সাথে কথা বলব। দ্রুতই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
