
ছবি সংগৃহিত
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে নারীরা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন কি না, সেটা নিয়ে সর্বস্তরে আস্থার সংকট আছে। ৫৪ বছর পরেও এখনো নারীকে কেন শুনতে হয়, ৫ থেকে ৭ শতাংশ আমাদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হবে। বাংলাদেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী। এখন সেখানে আমরা যদি ভোট না দিই, তাহলে কী হবে। কিছু উঠান বৈঠকে, সেখানে যখন নারীদের জিজ্ঞাসা করা হলো, আচ্ছা, আপনারা ভোট না দিলেও তো হয়।
তাঁরা বলছেন, ভোট না হয় না দিলাম। কিন্তু আমার ভোটটা যদি অন্য কেউ দিয়ে দেয়? এই যে আস্থার সংকট, এটি আমাদের কাটিয়ে উঠতে হবে।
নির্বাচনে নারীদের প্রার্থী করার ক্ষেত্রে যদি রাজনৈতিক দলগুলো অনেক বেশি সদিচ্ছা না দেখায়, তাহলে নারী পারবেন না। অর্থ ও পেশিশক্তির যে প্রভাব বিগত সব নির্বাচনে কমবেশি দেখা গেছে, সেখানে নারী প্রান্তিক হয়ে যাবেন।
অন্তত ন্যূনতম পর্যায়ে হলেও রাজনৈতিক দলগুলোকে নিশ্চিত করতে হবে—সব নাগরিকের অংশগ্রহণ। কিন্তু প্রশ্ন হলো, ‘সব নাগরিক’ বলতে আমরা কাদের বুঝি? প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষও তো এই নাগরিক পরিসরের অংশ—নারী, শিশু, আদিবাসী, প্রতিবন্ধী সবাই।
আমরা এরই মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে প্রস্তাব করেছি, প্রতিবন্ধীবান্ধব ভোটকেন্দ্র ও বুথ স্থাপন করতে হবে। যেন তাঁরা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন। একইভাবে যেসব কেন্দ্রে নারী ভোটার বেশি, সেখানে নারী আনসার সদস্য নিয়োগের দাবি তুলেছে নাগরিক সমাজ।
এভাবেই অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা সম্ভব। যেখানে প্রত্যেক নাগরিক, বিশেষ করে প্রান্তিক মানুষ নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে ভোট দিতে পারবেন।আমরা চাই অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন, যেখানে নারী পরিচয়ে পুরো জনগোষ্ঠী কেবল অংশগ্রহণ করবে না; বরং মনোনীত হবেন, নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন।
আমাদের আগ্রহের জায়গা হলো নারীর ক্ষমতায়ন। আমরা এটিকে বাস্তবিক প্রয়োগে দেখতে চাই। নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর জেতাটাই যেন সবচেয়ে বড় কথা না হয়। দুঃখের বিষয় হলো, সব আলোচনার শেষে সবাই শুধু বললেন যে নারীর অংশগ্রহণের জন্য বাংলাদেশ এখনো তৈরি না।
তাহলে আমাদের দেশের যে একটা দোদুল্যমান অবস্থা, সেটা রয়েই গেল। নারীদের এগিয়ে আসার জন্য আমরা কী করছি। আমরা আর শুনতে চাই না যে তাঁর স্বামী, ভাই ও বাবা তাঁকে সুযোগ করে দিয়েছেন বলে তিনি আজ অংশগ্রহণ করতে পেরেছেন।
আমি মনে করি যে রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন হওয়া দরকার। রাজনীতিতে থাকার জন্য পারফরম্যান্স সবচেয়ে বড় যোগ্যতা হওয়া উচিত। জবাবদিহি তো বটেই। আমরা এখনো দেখছি যে সবাই বলে ‘আমি ক্ষমতায় যাব’, কেউ বলে না যে ‘আমি মানুষের জন্য কাজ করব’।
তারপরও আমরা আশা করি, যাঁরা রাষ্ট্র পরিচালনায় থাকবেন, তাঁরা ভুলে যাবেন না যে এই দেশের জনগোষ্ঠীর ৫১ শতাংশ হলো নারী। তাদের ছাড়া কোনো উন্নয়ন পরিকল্পনা কার্যকর হবে না। যুবদের জন্য কর্মসংস্থান দরকার, শিক্ষা সংস্কার দরকার, নারীর অংশগ্রহণ দরকার ও জবাবদিহি দরকার।
এর কোনো বিকল্প নেই। আমরা আশা করছি যে নিরপেক্ষ ও খুবই সুন্দর একটা নির্বাচন হবে। কারণ, আমরা এবার ভোটার হিসেবে অংশগ্রহণ করতে চাই। ইউরোপীয় ইউনিয়নকে ধন্যবাদ। প্রথম আলোকেও ধন্যবাদ অংশীজন হিসেবে এ আয়োজনে সঙ্গী হওয়ার জন্য।
আমরা আমাদের দলের পক্ষ থেকে সব সময় বলে আসছি যে আগামী নির্বাচন আন্তর্জাতিকভাবে যাতে স্বীকৃত নির্বাচন হয় এবং এটার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে যাতে কোনো রকমের প্রশ্ন না হয়, সে রকম একটা নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে হবে। সেই লক্ষ্যে আমরা আমাদের যাবতীয় ভূমিকা রাখব।
জনগণ বহু বছর পর স্বাধীনভাবে ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দেওয়ার একটা সুযোগ পেতে যাচ্ছে। তাই এবার জনগণই সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করবে। জনগণই ভোট পাহারা দেবে। এ ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা গৌণ হবে, মুখ্য হবে ভোটারদের ভূমিকা।
বিএনপির অঙ্গীকার ছিল ফ্যাসিবাদের পতন ঘটাতে পারলে, এরপর ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করা দলগুলো নির্বাচনে জয়ী হলে ঐকমত্যের ভিত্তিতে জাতীয় সরকার প্রতিষ্ঠা করা হবে।
এর মধ্য দিয়ে বিএনপি ৩১ দফা বাস্তবায়ন করবে। এই ৩১ দফা আমরা জনগণের সামনে ঘোষণা করেছি ২০২৩ সালের ১৩ জুলাই। আমাদের প্রতিশ্রুতি—নাগরিকদের সব মতামতের জন্য রাষ্ট্রের দরজা খোলা থাকবে। জনগণের প্রস্তাব ও অংশগ্রহণের ভিত্তিতেই এই সংস্কার বাস্তবায়ন করা হবে।
আমাদের দফা ২৪-এ নারীর মর্যাদা, সুরক্ষা ও ক্ষমতায়নের অঙ্গীকার আছে। আমরা সরাসরি নির্বাচনে নারীর অংশগ্রহণ ধীরে ধীরে বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছি—আগামী নির্বাচনে অন্তত ৫ শতাংশ থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে ৩৩ শতাংশে পৌঁছানো পর্যন্ত। সামাজিক, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি বিবেচনায় নিয়ে নারীর অগ্রগতি টেকসইভাবে এগিয়ে নিতে হবে।
অর্ধেক জনসংখ্যাকে পিছিয়ে রেখে উন্নয়ন সম্ভব নয়—এই বিশ্বাস থেকেই নারীর অংশগ্রহণকে আমরা মৌলিক শর্ত হিসেবে দেখি। আমাদের ১৬ নম্বর দফায় ধর্মীয় স্বাধীনতা ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণের প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
পাহাড়ি ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে আমরা সংরক্ষিত আসন বা কোটার বিষয়ে ইতিবাচক। আমাদের এই জনগোষ্ঠীর মধ্যে তাদের প্রতিনিধিত্বটা নিশ্চিত করতে চাই। সংসদের উচ্চকক্ষ গঠনের ক্ষেত্রে বিএনপি বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী, গোত্র, ধর্ম, বর্ণের প্রতিনিধিত্ব রাখার চেষ্টা করবে।
দুর্গম অঞ্চলসহ সব শ্রেণির ভোটারদের ভোট দিতে পারাটা একটি মৌলিক অধিকার। আমি মনে করি এই অধিকারটি ভাত-কাপড়-বাসস্থানের অধিকারের চেয়েও বড়।
কারণ, একটা জাতি বা দেশের জন্য ভাত-কাপড়ের ব্যবস্থা তো তখনই করা যাবে, যখন তারা আসল প্রতিনিধি নিয়োগ বা নির্বাচন করতে পারবে। সুতরাং ভোট দেওয়ার এই সুযোগটা করে দেওয়াটা যেকোনো অধিকারের চেয়ে অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ বলে আমি মনে করি।
এবার আমরা প্রবাসী ভোটারদের জন্য প্রস্তাব উত্থাপন করেছিলাম এবং নির্বাচন কমিশন তাতে সম্মতি জানিয়েছে। তারা প্রস্তুতিও নিচ্ছে। আমরা এটা চাই যে দেশের মানুষ যেখানেই থাকুক, যে পর্যায়ে থাকুক, যে রঙের বা যে বিশ্বাসের হোক না কেন, তারা যেন সবাই পূর্ণভাবে তাদের অধিকারটি পায়। সেই ব্যবস্থা সরকার এবং কর্তৃপক্ষ করবে।
প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, পাহাড়ে, জঙ্গলে যারা আছে, বিদেশিদের সঙ্গে তাদেরও কীভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া যায়, সেটা যেন চিন্তাভাবনা করা হয়। এটা আমাদের দাবি। বিভিন্ন গোষ্ঠীর জন্য আলাদা প্রতিনিধিত্ব থাকা, আমি মনে করি এটা একটি যৌক্তিক দাবি। নীতিগতভাবে আমরা এটাকে সমর্থন করি।
এখন প্রয়োজন হচ্ছে একটা সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। ৫৪ বছরে আমাদের আজকের ব্যর্থতার পেছনে সুষ্ঠু নির্বাচন না হওয়াটা একটা বড় কারণ হিসেবে কাজ করছে। সুতরাং এই নির্বাচনটা কীভাবে সুষ্ঠু হবে, এ ব্যাপারে রাজনৈতিক দলেরও দায়িত্ব রয়েছে।
নির্বাচনের আচরণবিধি সব দলকে মানতে হবে। কিন্তু সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দলগুলোর নিজস্ব অঙ্গীকার শুধু নয়, নিজেরা নিজেদের নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। নিজেদের ভেতরে পরিবর্তন আনতে হবে। কারও মাধ্যমে নির্বাচনে ব্যত্যয় ঘটলে জনগণই এ বিষয়টি দেখবে। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে যারা জিতবে, আমরা তাদের গলায় মালা দেব।
জাতীয় নাগরিক পার্টিতে তরুণেরা যেমন আছেন তেমনি নারীদের একটা বড় অংশগ্রহণ আমাদের দলে রয়েছে। আমাদের দলের নীতিনির্ধারণী জায়গাতেও নারীদের অংশগ্রহণ সুনিশ্চিত রাখার চেষ্টা করেছি। সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে ঐকমত্য কমিশনে আমরা অনেক দিন এটা নিয়ে বিতর্ক করেছি।
কিন্তু শেষে রাজনৈতিক দলগুলো আমরা একমত হয়েছি যে নারীরা সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হয়ে আসবেন। কিন্তু কোন পদ্ধতিতে সেটা; সেটা ক্লাস্টার করে হবে, নাকি ঘূর্ণমান পদ্ধতিতে হবে; এই পদ্ধতির বেড়াজালে গিয়ে আমরা এত সুন্দর একটা প্রস্তাবকে বাস্তবায়ন করতে পারিনি।
আমরা মনে করি, সরাসরি নারীরা নির্বাচিত হয়ে আসছেন, সেই সুযোগটা আমাদের সব সময় উন্মুক্ত রাখা প্রয়োজন। নারী প্রতিনিধি দেওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলো অন্তত ১৫ শতাংশ নারী সাংসদ প্রার্থী মনোনয়ন দিতে বাধ্য থাকে, সে রকম একটা আইন করা প্রয়োজন।
ঐকমত্য কমিশনে আমরা প্রথমে একমত হয়েছি যে অন্তত ১০০ আসনে নারী প্রতিনিধি আসতে পারেন। এখন ৫০টি আসন সংরক্ষিত আছে, আরও যদি অন্তত ৫০টি আসন থাকে—তখন একটা ন্যায্যতার জায়গা তৈরি করা সম্ভব হবে।
বিদ্যমান ব্যবস্থায় সংসদে নারী প্রতিনিধি সরাসরি ভোটে নির্বাচিত না হওয়ায় তাঁদের ক্ষমতায়নটা সেভাবে হয় না। যদি তাঁদের জনগণের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততার জায়গা থাকত, তাঁরা নারী ভক্তদের কাছে যেতে পারতেন সরাসরি, তাহলে সেই জিনিসগুলোকে আরও সুন্দরভাবে সংসদে তাঁরা উত্থাপন করতে পারতেন বলে আমরা মনে করি।
আমরা আশাবাদী, সামনের যে নির্বাচন, সেখানে জাতীয় নাগরিক পার্টি তরুণ যুবক এবং যাঁরা নারীরা আছেন, তাঁদের খুব ভালো ধরনের একটা প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ আমরা নিশ্চিত করতে পারব।
একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে পারাটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমাদের সংস্কার কমিশনে এ বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। আমরাও বিশ্বাস করি, এই নির্বাচনের অন্তর্ভুক্তি নির্ভর করছে রাজনৈতিক দলগুলোর আন্তরিকতার ওপর।
নাগরিকদের অন্তর্ভুক্তির প্রশ্নে আমাদের মধ্যে কোনো দ্বিমত নেই। এটি শুধু রাজনৈতিক নয়, সামাজিক পরিবর্তনেরও বিষয়। কমিউনিকেশন, শিক্ষা ও সংস্কৃতির সঙ্গেও এটি যুক্ত। তাই সব শ্রেণি–পেশার মানুষকে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় যুক্ত করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
নারীর অংশগ্রহণের বিষয়ে আমরা সরাসরি নির্বাচনে ১০০টি নারী আসনের প্রস্তাব দিয়েছি। যদিও প্রক্রিয়াগত কিছু প্রতিবন্ধকতা আছে, যেমন তিনটি আসন মিলিয়ে একটি করা বা ঘূর্ণায়মান পদ্ধতি। তবু নীতিগতভাবে আমরা একমত যে নারীর আসন বাড়াতে হবে। আমরা ৭ শতাংশ প্রস্তাব করেছি, ধীরে ধীরে ৩৩ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে।
নারীরা সরাসরি নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন, কিন্তু সামাজিক ও পারিবারিক বাধা তাঁদের পথে বড় চ্যালেঞ্জ। আমাদের পুরুষতান্ত্রিক সংস্কৃতি বদলাতে না পারলে নারীর প্রকৃত নেতৃত্ব গড়ে উঠবে না। তাই আমরা চাই, এই পরিবর্তন ধীরে ধীরে হলেও স্থায়ীভাবে হোক।
আমরা স্বীকার করি, রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহার প্রণয়ন বা অঙ্গীকারে অনেক সময় দলীয় নেতারা নিজেরাই গুরুত্ব দেন না, জনগণও তা বিশ্বাস করে না। তবু আমাদের প্রত্যাশা, এই নির্বাচনে অন্তর্ভুক্তি, নারীর অংশগ্রহণ ও রাজনৈতিক অঙ্গীকারের বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করেই একটি নতুন আস্থার সূচনা ঘটুক।
দলগুলো যদি নিজেদের ভেতর পরিবর্তন আনে, নিজেদের অঙ্গীকারে সত্য থাকে, তাহলেই অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব, যেখানে নাগরিকেরাই হবে গণতন্ত্রের কেন্দ্রবিন্দু।
২০২৪–এর জুলাই–আগস্ট গণ–অভ্যুত্থান দেখিয়েছে যে নারী, যুবক ও কর্মজীবী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে, করেছে। কিন্তু রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোয় যখন নেতৃত্বদান ও প্রতিনিধিত্বের প্রশ্ন আসে, তখন বহুজনকে ইচ্ছাকৃতভাবে সরিয়ে রাখা হচ্ছে। এর ফলে দুয়ার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এবং অংশগ্রহণের ব্যালান্স ভেঙে পড়ছে।
অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের লক্ষ্যে প্রথমত নির্বাচনী পদ্ধতির নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সততা, স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা পুনর্বিবেচনা জরুরি। মনোনয়নের প্রক্রিয়ায় অর্থের লেনদেন ও মনোনয়ন–বাণিজ্য প্রতিরোধ করতে হবে, নির্বাচন কমিশনকে এমন সক্ষমতা রাখতে হবে, যাতে প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হয়।
দ্বিতীয়ত, আচরণবিধি থাকা যথেষ্ট নয়, এটি প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিটি রাজনৈতিক দলের একটি অভ্যন্তরীণ সেল থাকা উচিত, যারা তাদের মনোনীত প্রার্থীর আচরণবিধি লঙ্ঘন হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে।
পাশাপাশি প্রতিটি জেলায় শক্ত রেগুলেটরি মনিটরিং কমিটি গঠন করে নির্বাচনী আচরণ পর্যবেক্ষণ ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা দরকার। তৃতীয়ত, ইশতেহার নিয়ে আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে দায়বদ্ধতার অভাব আছে। রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহার ও অঙ্গীকারকে বাস্তবে রূপ দিতে নিয়মিত ট্র্যাকিং
থাকা প্রয়োজন। তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচন পর্যন্ত প্রতি সপ্তাহে আচরণবিধি লঙ্ঘন ও গ্রহণকৃত শাস্তি সম্পর্কে জনসমক্ষে রিপোর্ট পাওয়া উচিত। একইভাবে ইশতেহারের অগ্রগতি সম্পর্কে পারদর্শী প্রতিবেদন জনগণের কাছে উন্মুক্ত রাখতে হবে।
চতুর্থত, একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়তে চাইলে নারী ও তরুণদের জন্য ইতিবাচক বৈষম্যমূলক পদক্ষেপ নিতে হবে। তরুণ প্রজন্মের প্রকৃত আকাঙ্ক্ষা এখনো কোনো রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে প্রতিফলিত হয়নি। তরুণ ও শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর নিত্যদিনের মৌলিক দাবি—শিক্ষা ও কর্মসংস্থান, এগুলোও নির্বাচনী বিষয়ে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।নারীদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ না থাকায় রাজনীতিতে তাঁদের অংশগ্রহণও সীমিত থাকে।
একজন কোটিপতির সঙ্গে একজন প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, একজন আদিবাসী। যেমন ধরুন, আমি বলি কুলাউড়ায় ২৭টি চা–বাগান আছে, ৭০ হাজার চা–শ্রমিক আছেন। কিন্তু ওখানে একজন চা–শ্রমিক তো নির্বাচন করার সাহস পান না।
কিন্তু ৭০ হাজার চা–শ্রমিক থেকে একজন প্রার্থী যদি নির্বাচন করতো, নিশ্চয়ই একজন চা–শ্রমিক পার্লামেন্টে যেতে পারতো। কিন্তু তাঁকে আটকে রাখা হয়েছে কী করে? এই জামানত দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে। এ কারণে আমাদের প্রস্তাব ছিল, প্রার্থীর বাৎসরিক আয়ের একটি শতাংশ জামানত হিসেবে নির্ধারণ করা হোক, যাতে ন্যায্যতা থাকে।
এ ছাড়া রাজনৈতিক দলগুলো এখন মনোনয়ন–বাণিজ্যে লিপ্ত। দুর্বল কিন্তু ধনী প্রার্থীদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা নিয়ে মনোনয়ন দেয়। তাই দলীয় প্রাইমারি ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন, যাতে স্থানীয় সমর্থকেরাই প্রার্থী নির্ধারণ করতে পারেন। আমাদের বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির পুরো নির্বাচনী ইশতেহার হবে খুবই অন্তর্ভুক্তিমূলক।
সেখানে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কথা থাকবে, নারীর কথা থাকবে, মুক্তিযোদ্ধাদের কথা থাকবে, শ্রমজীবী মানুষের কথা থাকবে এবং মিডল ক্লাসের। যেহেতু আমরা মিডল ক্লাসের অংশ, আমাদের কথা অবশ্যই থাকবে। সুতরাং সমগ্র দেশবাসীর কথা আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে থাকবে।
রাজনীতি ও নির্বাচন আলাদা নয়, দুটিকে একত্র করে এগোনো দরকার। নারীদের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের অভ্যন্তরীণ আলোচনাগুলো বাড়াতে হবে। নারী নিজেরাও মাঠে নামবেন, লড়াই করবেন, নিজের অধিকার আদায়ে সোচ্চার হবেন।
নারী পারছেন না বা নারী দুর্বল বা নানা সমস্যার কারণে এটা হচ্ছে—এ থেকে আমার কাছে মনে হয়েছে যে রাজনৈতিকভাবে রাজনৈতিক দলগুলোর এবং সমাজ ও রাষ্ট্রের নারীর প্রতি যে দৃষ্টিভঙ্গি, সেই জায়গার ঘাটতির কারণেই আসলে আমরা এ বিষয়ে একমত হতে পারিনি।
এই যে নারীরা অংশগ্রহণ করতে পারবেন কি না সমানভাবে বা সুষ্ঠু নির্বাচনে, এখনো সেই জায়গা নেই। আমাদের নির্বাচনী পদ্ধতিতে এখন বলা আছে, সংসদে ৫০টি সংরক্ষিত আসন থাকবে, যেখানে সম–অবস্থাটা নেই । ফলে সম–অবস্থা এক দিনে আনা না গেলেও সেটাকে কীভাবে একটা অন্তর্ভুক্তিমূলক ইতিবাচক জায়গায় নেওয়া যায়, সে জন্য কিন্তু নারী কমিশন থেকে প্রস্তাব করা হলো এবং আমরাও প্রস্তাব করেছিলাম।
ঐকমত্য কমিশনের বৈঠক থেকে আমরা শুনেছিলাম যে ১০০টি নারী আসনের প্রস্তাব করা হয়েছে, অনেকে একমত হয়েছে। পরে দেখলাম, সবাই তাদের আগের অবস্থানে ফিরে গেছে। আমি মনে করি, রাজনৈতিক দলগুলোর দৃষ্টিভঙ্গির ঘাটতির অভাব এবং রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণের ঘাটতির জন্যই এটা আমরা পারিনি।
কারণ, আমরা যদি মনে করি যে কোনো পুরুষ বা কেউ আমাকে হাতে ধরে কোথাও কোনো কিছু করে দেবে, এটা হবে না। কারণ, সমাজের মধ্যে নারী–পুরুষের বৈষম্য আছে, সুযোগের ঘাটতি আছে। আবার এই দিন শেষে আসলে আমাকে কাজ করে আমার জায়গাটা তৈরি করতে হবে।
বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থায় বাংলাদেশে আদিবাসী মানুষের নির্বাচিত হওয়া প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ব্যবস্থায় সাঁওতাল, খাসিয়া ও গারো মানুষের পক্ষে নির্বাচিত হওয়া সম্ভব নয়। উদাহরণস্বরূপ, উত্তরবঙ্গের কোনো ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আদিবাসী নন, ময়মনসিংহেও নেই। পার্বত্য চট্টগ্রামে কিছু আছেন। কারণ, সেখানে বাঙালি ও আদিবাসীর সংখ্যা প্রায় সমান।
বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থায় আদিবাসী মানুষের নির্বাচনী অংশগ্রহণ সীমিত। সংখ্যা ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তাঁরা মনোনয়ন পান না। কুলাউড়া, শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের মতো এলাকায় যথেষ্ট ভোটার থাকা সত্ত্বেও আদিবাসী প্রার্থীরা দাঁড়াতে পারেন না। তাই আমি প্রস্তাব করছি, আদিবাসীদের জন্য সংরক্ষিত আসনের প্রয়োজন।
বাংলাদেশের ৩০০ আসনের মধ্যে কয়েকটি আসন আদিবাসীদের জন্য বরাদ্দ করা হোক। আগামী নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোকে এ বিষয়ে তাদের ইশতেহারে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি রাখতে হবে। নির্বাচনের পরেও আদিবাসীদের জন্য ইনক্লুসিভ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।
ইশতেহারে আদিবাসী মানুষের অধিকার, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক উন্নয়ন ও তরুণদের কর্মসংস্থানসংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি থাকা দরকার।
এভাবে রাজনৈতিক দলগুলোয় স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি, সংরক্ষিত আসন ও বিশেষ ব্যবস্থা থাকলে আদিবাসী জনগোষ্ঠী সমান সুযোগ পাবে। অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সুষ্ঠু সংসদ নির্বাচনের জন্য নাগরিক সমাজের এই প্রত্যাশা গুরুত্বপূর্ণ।
আমরা যখন দেখলাম যে জুলাই গণ–অভ্যুত্থান বা দেশের অর্থনীতির বনিয়াদের ওপর নারীর অবদান থাকা সত্ত্বেও এই পুরো প্রক্রিয়ায় নারীর প্রতিনিধিত্ব এমন একটা জায়গায় গিয়ে পৌঁছাল, যা আমরা একেবারেই প্রত্যাশা করিনি। আমরা অন্তর্বর্তী সরকার ও ঐকমত্য কমিশনের ওপর এত ভরসা রেখেছিলাম।
ঐকমত্য কমিশনের তত্ত্বাবধানে যে সনদ তৈরি হলো, সেখানে আসলে নারীর প্রতিনিধিত্ব একেবারেই ছিল না। তাই নারীর রাজনৈতিক অধিকার ফোরাম থেকে আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে সনদকে প্রত্যাখ্যান করেছি। আমাদের কাছে মনে হয়েছে যে প্রক্রিয়াগতভাবে এই সনদে নারীর অনুপস্থিতি ছিল এবং যতগুলো সভা হয়েছে, সেখানে নারীর অংশগ্রহণ একেবারে ন্যূনতম থেকেও কম ছিল।
আমরা জানি, রাজনৈতিক দলগুলো অনেক সময় দিয়েছে, অনেক পরিশ্রম করেছে এবং আলোচনাগুলো সমৃদ্ধ হয়েছে, কিন্তু নারীর প্রতিনিধিত্বের অভাবে জুলাই সনদ সবার হয়েছে—এ কথাটা আমরা তো গর্ব করে বলতে পারছি না।
সামনে যাঁরা নেতৃত্ব দেবেন, তাঁরা সবার নেতা হবেন। তাঁরা শুধু পুরুষের নেতা হবেন না, শুধু একটা গোষ্ঠীর নেতা হবেন না বা একটা ধর্মের নেতা হবেন না। আমাদের তাকাতে হবে যে সবচেয়ে প্রান্তিক ও সবচেয়ে দুর্বল মানুষের চাহিদার দিকে। আমি মনে করি যে আমরা যদি সবচেয়ে প্রান্তিক ও সবচেয়ে দুর্বল মানুষের চাহিদা পূরণ করি, তাহলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠের চাহিদা পূরণ হয়ে যায়।
যখন আমরা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিলাম, তখন আমরা খুব বাহবা পাচ্ছিলাম যে, ‘খুব ভালো করছ’ বা আন্দোলনের পরবর্তী সময়ে ‘জুলাইয়ের কন্যারা’ অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
নারীকেন্দ্রিক অংশগ্রহণটাকে অনেক বেশি হাইলাইটেড করা হয়েছিল। আমাদের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়—তারা অনেকগুলো প্রোগ্রাম আয়োজন করেছে, যেখানে আন্দোলনের নারীর ভূমিকা তুলে ধরা হয়েছিল।
কিন্তু এগুলো কোনো কিছুই আসলে ঠিকঠাক বাস্তবায়নের জায়গায় তারা করতে চায়নি। রাজনৈতিক দল, ঐকমত্য কমিশন বা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের যে কাজের উদ্যোগ, এগুলো সবকিছুই আসলে টোকেনিজমের অংশ ছিল—এগুলো ছিল শো অফ, দেখানোর জন্য দেখানো। রাজনীতি মানুষের জীবনের জন্য, রাজনীতির জন্য মানুষের জীবন না।
রাজনৈতিক দলগুলো যেন নির্বাচনটা যাতে গ্রহণযোগ্য হয়, সেই জায়গাটা আগে থেকেই নিশ্চিত করেন। নির্বাচনের পরে যাতে গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে না হয়। আমি চাই যে ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি এবং সেটার বাস্তবায়ন—সেই বিষয়ে তাঁরা যাতে খেয়াল রাখেন।
আমি রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে প্রত্যাশা রাখব যে নারী হোক, পুরুষ হোক, তারা যাতে তরুণদেরও প্রার্থী হিসেবে এবং জিতিয়ে আনার যে মডেল সেট করার জায়গাটা, সেটা যাতে তারা করে। এটা যেন শুধু পরিবারতন্ত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে।
সারা দেশে আমরা জেলা পর্যায়ে ঢাকা, বান্দরবান, নওগাঁ, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, চট্টগ্রাম ও কুষ্টিয়ায় মোট নয়টি সংলাপ আয়োজন করেছি। একশনএইড মূলত সুশীল সমাজ সংগঠন (সিএসও) নিয়ে কাজ করে, যারা একেবারে তৃণমূলে প্রান্তিক মানুষদের সঙ্গে যুক্ত। আমরা চেষ্টা করেছি আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগণের ভাবনা তুলে আনতে।
সংলাপের আগে প্রাথমিকভাবে ৯ জেলার ১২৩টি নাগরিক সমাজ সংগঠনের প্রায় ২৮০ প্রতিনিধির সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। দিনব্যাপী কর্মশালার মাধ্যমে আমরা নির্বাচন নিয়ে তাঁদের চাওয়া-পাওয়া জানার চেষ্টা করেছি। পরবর্তীতে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে তা আলোচনা করেছি।
যেখানে একেবারে এলাকাভিত্তিক কিছু সমস্যাও উঠে এসেছে। সেগুলোকে সেখানকার রাজনৈতিক নেতারা কীভাবে সমাধান করছেন, সেটাও আমরা বোঝার চেষ্টা করেছি।
৯টি সংলাপে আমরা মোট ৩১৫ জন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, গণমাধ্যম ও শিক্ষাবিদদের একত্র করতে পেরেছিলাম। সেখানে নাগরিক সমাজ প্রতিনিধিরা তাঁদের চাওয়া-পাওয়াগুলো জানিয়েছেন। আলোচনার মূল উদ্দেশ্যই ছিল স্থানীয় পর্যায় থেকে আমরা যে প্রত্যাশাগুলো পাব, সেগুলো জাতীয় পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া।
নাগরিক সমাজের চাওয়ার মধ্যে আছে যে নির্বাচন কমিশনের পূর্ণ স্বাধীনতা, নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহি যেন থাকে।প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেন অবশ্যই রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়। আচরণবিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হোক। এ ক্ষেত্রে তাঁরা বারবার বলেছেন যে আচরণবিধি শুধু রাজনৈতিক দলের জন্য নয়, বরং ভোটার ও নির্বাচনসংশ্লিষ্ট সবার জন্যই।
নারীদের জন্য অগ্রাধিকারমূলকভাবে ৩৩ শতাংশ মনোনয়নের প্রস্তাব এবং সংরক্ষিত আসনে সরাসরি নির্বাচনের প্রস্তাবও আমরা স্থানীয় পর্যায় থেকে পেয়েছি। নির্বাচনী ব্যয়ের স্বচ্ছতা ও পরিবেশবান্ধব নির্বাচনী প্রচারের প্রত্যাশা আমরা অনেক জায়গা থেকেই পেয়েছি।
প্রত্যাশার এই জায়গা থেকে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা মূলত দুটি বিষয়ে আলোচনা করেছেন। প্রথমত, তাঁরা নির্বাচনকে কীভাবে দেখতে চান; দ্বিতীয়ত, একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হলে, নির্বাচিত সরকারের কাছে তাঁদের কিছু সুনির্দিষ্ট দাবি আছে। তাঁরা বলেছেন, যে দলই ক্ষমতায় আসুক, তারা যেন অবশ্যই মৌলিক মানবাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে।
তারা যেন নারীর ক্ষমতায়ন ও নারীর কার্যকর নেতৃত্ব তৈরিতে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়। সংখ্যালঘু, আদিবাসী এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ ও অন্তর্ভুক্তির জন্য যেন কাজ করে এবং তার জন্য সুনির্দিষ্ট ফলাফল পর্যবেক্ষণের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে কাজ করে। দুর্নীতি দূরীকরণ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন স্থাপন এবং গুণগত মানসম্পন্ন বৃত্তিমূলক ও কর্মমুখী শিক্ষার জন্য যেন সেই দল কাজ করে। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় টেকসই ও ন্যায়ভিত্তিক পরিকল্পনা যেন সুনির্দিষ্ট হয় এবং সে অনুযায়ী যেন তা বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়।
নির্বাচিত হলে সব রাজনৈতিক দলের কাছে মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনের প্রতিশ্রুতি আশা করছেন তাঁরা।
অংশগ্রহণকারী: রাশেদা কে চৌধূরী, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা। সালাহউদ্দিন আহমদ, স্থায়ী কমিটির সদস্য, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের, নায়েবে আমির, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। আখতার হোসেন, সদস্যসচিব, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। তাসলিমা আখতার, সভাপ্রধান, গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতি।
আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি। মজিবুর রহমান মঞ্জু, সভাপতি, এবি পার্টি। মাহরুখ মহিউদ্দিন, সংগঠক, নারীর রাজনৈতিক অধিকার ফোরাম। কাজী মারুফুল ইসলাম, অধ্যাপক, উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। সঞ্জীব দ্রং, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম।
নাজিফা জান্নাত, শিক্ষার্থী, ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয় ও সাবেক সমন্বয়ক, বৈষ্যম্যবিরোধী আন্দোলন ২০২৪। মরিয়ম নেছা, লিড-উইমেন রাইটস অ্যান্ড জেন্ডার ইকুইটি, একশনএইড বাংলাদেশ। সূচনা বক্তব্য: ফিরোজ চৌধুরী, সহকারী সম্পাদক, প্রথম আলো। সঞ্চালনা: ফারাহ্ কবির, কান্ট্রি ডিরেক্টর, একশনএইড বাংলাদেশ।
সম্পাদক ও প্রকাশক:- গজনবী বিপ্লব
নেত্রকোণা অফিস:- গজনবী ভিলা, সাতবেরিকান্দা, নেত্রকোণা সদর, নেত্রকোণা