ঢাকা ১০:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আলিফ হত্যা: বিচারের দাবিতে মানববন্ধন, সামনে সীমান্ত চোরাচালানের অনুসন্ধান




আলিফ হত্যা: বিচারের দাবিতে মানববন্ধন, সামনে সীমান্ত চোরাচালানের অনুসন্ধান

নেত্রকোণার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটন, জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন হয়েছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে সীমান্তকেন্দ্রিক চোরাচালান ও অপরাধী চক্রের কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা গভীরভাবে তদন্তের দাবি উঠেছে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে নেত্রকোণা জেলা প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের জেলা কমিটির উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

এতে বক্তব্য দেন অধ্যাপক ননী গোপাল সরকার, বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের জেলা কমিটির সভাপতি শামীম আহমেদ, উপদেষ্টা ইকবাল হোসেনসহ অন্যরা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে গুলি করে নির্মমভাবে হত্যা স্বাধীন ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার ওপর বর্বরোচিত আঘাত। হত্যাকাণ্ডের এত দিন পরও এর প্রকৃত রহস্য উন্মোচিত না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন তাঁরা। এ হত্যার নেপথ্যে থাকা পরিকল্পনাকারী ও সরাসরি জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান বক্তারা।

সীমান্ত চোরাচালান নিয়ে অনুসন্ধান, হত্যার নেপথ্যে কী?

সাংবাদিক আলিফ ফকিরের হত্যাকাণ্ডের পর তাঁর সাংবাদিকতার বিষয়বস্তু নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তিনি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামের একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে নেত্রকোনার সীমান্তবর্তী এলাকায় চোরাচালান, মাদক, অস্ত্র ও বিভিন্ন অপরাধ নিয়ে লিখিত প্রতিবেদন, ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করতেন।

বিশেষ করে দুর্গাপুর-ধোবাউড়া-হালুয়াঘাট সীমান্তপথে পরিচালিত অবৈধ কারবার ও সংশ্লিষ্ট অপরাধী চক্র নিয়ে তিনি অনুসন্ধানী কাজ করছিলেন। তাঁর মৃত্যুর আগের কয়েক মাসের প্রকাশিত পোস্টগুলোতেও এসব বিষয় উঠে এসেছে। এমনকি হত্যার আগের দিন তাঁর ফেসবুক পেজে অপরাধের এক ‘গডফাদারের’ তথ্য-প্রমাণ প্রকাশের ঘোষণাও দেওয়া হয়েছিল।

অন্যদিকে, আলিফ হত্যার পরও ওই সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান কার্যক্রম চলমান থাকার অভিযোগ রয়েছে। ফলে তাঁর প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, ভিডিও এবং হত্যাকাণ্ডের মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।

আলিফের পূর্ববর্তী অনুসন্ধানী কাজ, প্রকাশিত তথ্য-প্রমাণ, তাঁকে দেওয়া হুমকি এবং হত্যার আগের ঘটনাগুলো তদন্তে বিশেষ গুরুত্ব পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে চোরাচালান নিয়ে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার কারণেই তাঁকে হত্যা করা হয়েছে কি না, তা এখনো তদন্তে নিশ্চিত হয়নি।

প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, হত্যার প্রায় ১১ মাস আগে আলিফ ফকির নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে নেত্রকোণার পুলিশ সুপারের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। সীমান্তবর্তী এলাকায় অস্ত্রধারী অপরাধী চক্রের তৎপরতা এবং তাঁকে হত্যার হুমকির বিষয়েও তিনি পুলিশকে জানিয়েছিলেন। এ ছাড়া এর আগেও তাঁর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছিল।

ফলে আগের হামলা, প্রাণনাশের হুমকি, সীমান্তকেন্দ্রিক অপরাধ নিয়ে তাঁর অনুসন্ধান এবং হত্যার আগের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টগুলো একই সঙ্গে পর্যালোচনা করে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবি উঠেছে।

উল্লেখ্য, গত ১৫ অক্টোবর রাতে নেত্রকোণার দুর্গাপুর উপজেলার বিরিশিরি ইউনিয়নের তেলনজিয়া গ্রামে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় পরদিন নিহতের স্ত্রী অনিন্দিতা সাংমা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আটজনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে।

তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, পরিকল্পনাকারী এবং হামলাকারীদের পেছনে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় উদ্‌ঘাটন এখনো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মানববন্ধন থেকে দ্রুত তদন্ত শেষ করে হত্যার রহস্য উন্মোচন, জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Gojnobi biplob

আলিফ হত্যা: বিচারের দাবিতে মানববন্ধন, সামনে সীমান্ত চোরাচালানের অনুসন্ধান

আলিফ হত্যা: বিচারের দাবিতে মানববন্ধন, সামনে সীমান্ত চোরাচালানের অনুসন্ধান

প্রকাশের সময় : ১০:২৯:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

আলিফ হত্যা: বিচারের দাবিতে মানববন্ধন, সামনে সীমান্ত চোরাচালানের অনুসন্ধান

নেত্রকোণার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটন, জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন হয়েছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে সীমান্তকেন্দ্রিক চোরাচালান ও অপরাধী চক্রের কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা গভীরভাবে তদন্তের দাবি উঠেছে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে নেত্রকোণা জেলা প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের জেলা কমিটির উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

এতে বক্তব্য দেন অধ্যাপক ননী গোপাল সরকার, বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের জেলা কমিটির সভাপতি শামীম আহমেদ, উপদেষ্টা ইকবাল হোসেনসহ অন্যরা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে গুলি করে নির্মমভাবে হত্যা স্বাধীন ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার ওপর বর্বরোচিত আঘাত। হত্যাকাণ্ডের এত দিন পরও এর প্রকৃত রহস্য উন্মোচিত না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন তাঁরা। এ হত্যার নেপথ্যে থাকা পরিকল্পনাকারী ও সরাসরি জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান বক্তারা।

সীমান্ত চোরাচালান নিয়ে অনুসন্ধান, হত্যার নেপথ্যে কী?

সাংবাদিক আলিফ ফকিরের হত্যাকাণ্ডের পর তাঁর সাংবাদিকতার বিষয়বস্তু নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তিনি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামের একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে নেত্রকোনার সীমান্তবর্তী এলাকায় চোরাচালান, মাদক, অস্ত্র ও বিভিন্ন অপরাধ নিয়ে লিখিত প্রতিবেদন, ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করতেন।

বিশেষ করে দুর্গাপুর-ধোবাউড়া-হালুয়াঘাট সীমান্তপথে পরিচালিত অবৈধ কারবার ও সংশ্লিষ্ট অপরাধী চক্র নিয়ে তিনি অনুসন্ধানী কাজ করছিলেন। তাঁর মৃত্যুর আগের কয়েক মাসের প্রকাশিত পোস্টগুলোতেও এসব বিষয় উঠে এসেছে। এমনকি হত্যার আগের দিন তাঁর ফেসবুক পেজে অপরাধের এক ‘গডফাদারের’ তথ্য-প্রমাণ প্রকাশের ঘোষণাও দেওয়া হয়েছিল।

অন্যদিকে, আলিফ হত্যার পরও ওই সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান কার্যক্রম চলমান থাকার অভিযোগ রয়েছে। ফলে তাঁর প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, ভিডিও এবং হত্যাকাণ্ডের মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।

আলিফের পূর্ববর্তী অনুসন্ধানী কাজ, প্রকাশিত তথ্য-প্রমাণ, তাঁকে দেওয়া হুমকি এবং হত্যার আগের ঘটনাগুলো তদন্তে বিশেষ গুরুত্ব পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে চোরাচালান নিয়ে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার কারণেই তাঁকে হত্যা করা হয়েছে কি না, তা এখনো তদন্তে নিশ্চিত হয়নি।

প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, হত্যার প্রায় ১১ মাস আগে আলিফ ফকির নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে নেত্রকোণার পুলিশ সুপারের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। সীমান্তবর্তী এলাকায় অস্ত্রধারী অপরাধী চক্রের তৎপরতা এবং তাঁকে হত্যার হুমকির বিষয়েও তিনি পুলিশকে জানিয়েছিলেন। এ ছাড়া এর আগেও তাঁর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছিল।

ফলে আগের হামলা, প্রাণনাশের হুমকি, সীমান্তকেন্দ্রিক অপরাধ নিয়ে তাঁর অনুসন্ধান এবং হত্যার আগের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টগুলো একই সঙ্গে পর্যালোচনা করে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবি উঠেছে।

উল্লেখ্য, গত ১৫ অক্টোবর রাতে নেত্রকোণার দুর্গাপুর উপজেলার বিরিশিরি ইউনিয়নের তেলনজিয়া গ্রামে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় পরদিন নিহতের স্ত্রী অনিন্দিতা সাংমা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আটজনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে।

তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, পরিকল্পনাকারী এবং হামলাকারীদের পেছনে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় উদ্‌ঘাটন এখনো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মানববন্ধন থেকে দ্রুত তদন্ত শেষ করে হত্যার রহস্য উন্মোচন, জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।