ঢাকা ১০:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেত্রকোণার মদনে পরীক্ষা কেন্দ্রে অবাধে নকলের অভিযোগ:

  নেত্রকোণার মদন উপজেলায় ‘আলহাজ মোজাফফর আহাম্মেদ কামিল মাদ্রাসা’ এইচএসসি (কারিগরি) পরীক্ষা কেন্দ্রে অবাধে নকলের সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কেন্দ্র সচিব ও হল সুপারের বিরুদ্ধে।
 চলমান ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় নকলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। পরীক্ষা নকলমুক্ত রাখতে প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী এই কেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপন করা হলেও, বাস্তবে শিক্ষার্থীদের অবাধে বই দেখে লেখার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এমনকি মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে শিক্ষকরা নিজেরা শিক্ষার্থীদের খাতায় লিখে দিচ্ছেন বলেও গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমনই চিত্র দেখা গেছে মদন উপজেলার ‘আদর্শ কারিগরি বাণিজ্য কলেজ’ ও ‘জনতা কারিগরি বাণিজ্য কলেজ’-এর পরীক্ষা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত ‘আলহাজ মোজাফফর আহাম্মেদ কামিল মাদ্রাসা’য়।
বর্তমানে এই কেন্দ্রে দ্বাদশ শ্রেণির চূড়ান্ত পরীক্ষা এবং একাদশ শ্রেণির বাণিজ্য শাখার পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, পরীক্ষা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পরীক্ষার্থীরা অনায়াসে বই দেখে খাতায় লিখে যাচ্ছে। বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই যে এটি একটি সরকারি পরীক্ষা কেন্দ্র।
 কেন্দ্রের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করলেই এই জালিয়াতির প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগ রয়েছে, পরীক্ষা তদারকির দায়িত্বে থাকা ট্যাগ অফিসারকে সচরাচর কেন্দ্রে দেখা যায় না। মাঝেমধ্যে তিনি কেন্দ্রে এলেও হলের ভেতরে না গিয়ে অফিস কক্ষে বসে চা-বিস্কুট ও আড্ডায় মত্ত থাকেন।
 পরীক্ষা হলে অবাধে নকল করার বেশ কিছু স্থিরচিত্র ও ভিডিও ফুটেজ ইতিমধ্যে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের হাতে এসেছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কেন্দ্র সচিব এবং আদর্শ কারিগরি বাণিজ্য মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম গাজী দাবি করেন, আমার কেন্দ্রে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। এখানে ইউএনও স্যারের মনোনীত ট্যাগ অফিসার থাকেন, তিনি সবকিছু দেখভাল করেন।” তবে কথা বলার একপর্যায়ে তিনি সংবাদটি প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, “আপনিও নেত্রকোণার ছেলে, ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের ব্যাপারে একটু সহায়ক ভূমিকা পালন করুন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর দরকার নেই, আপনার সাথে আমার লোকজন দেখা করবে।
 উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও): মদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নাদির হোসেন শামীম বলেন, আমি খোঁজ নিয়ে বিষয়টি দেখছি। পরীক্ষা নকলমুক্ত ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে সার্বক্ষণিক একজন তদারকি কর্মকর্তা (অফিসার) নিয়োজিত রাখা হয়েছে। কোনো অনিয়ম হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নেত্রকোণার জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান জানান, তিনি বর্তমানে ছুটিতে আছেন। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (শিক্ষা) নির্দেশ দিচ্ছেন বলে জানান।
 যোগাযোগ করা হলে নেত্রকোণার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মুনমুন জাহান লিজা বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হবে। আমরা খোঁজ নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ কয়েকজন এলাকাবাসী জানান, রফিকুল ইসলাম গাজি দীর্ঘদিন ধরে এমন কাজ করে আসছে। এভাবে অনৈতিক সুবিধা দিয়ে কামিয়েছেন লাখ লাখ টাকা, বাড়ি ও সম্পদের মালিক হয়েছেন।
বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষসহ শিক্ষা মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন এলাকাবাসী।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Gojnobi biplob

Popular Post

নেত্রকোণার মদনে পরীক্ষা কেন্দ্রে অবাধে নকলের অভিযোগ:

নেত্রকোণার মদনে পরীক্ষা কেন্দ্রে অবাধে নকলের অভিযোগ:

প্রকাশের সময় : ০৯:৫১:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
  নেত্রকোণার মদন উপজেলায় ‘আলহাজ মোজাফফর আহাম্মেদ কামিল মাদ্রাসা’ এইচএসসি (কারিগরি) পরীক্ষা কেন্দ্রে অবাধে নকলের সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কেন্দ্র সচিব ও হল সুপারের বিরুদ্ধে।
 চলমান ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় নকলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। পরীক্ষা নকলমুক্ত রাখতে প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী এই কেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপন করা হলেও, বাস্তবে শিক্ষার্থীদের অবাধে বই দেখে লেখার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এমনকি মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে শিক্ষকরা নিজেরা শিক্ষার্থীদের খাতায় লিখে দিচ্ছেন বলেও গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমনই চিত্র দেখা গেছে মদন উপজেলার ‘আদর্শ কারিগরি বাণিজ্য কলেজ’ ও ‘জনতা কারিগরি বাণিজ্য কলেজ’-এর পরীক্ষা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত ‘আলহাজ মোজাফফর আহাম্মেদ কামিল মাদ্রাসা’য়।
বর্তমানে এই কেন্দ্রে দ্বাদশ শ্রেণির চূড়ান্ত পরীক্ষা এবং একাদশ শ্রেণির বাণিজ্য শাখার পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, পরীক্ষা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পরীক্ষার্থীরা অনায়াসে বই দেখে খাতায় লিখে যাচ্ছে। বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই যে এটি একটি সরকারি পরীক্ষা কেন্দ্র।
 কেন্দ্রের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করলেই এই জালিয়াতির প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগ রয়েছে, পরীক্ষা তদারকির দায়িত্বে থাকা ট্যাগ অফিসারকে সচরাচর কেন্দ্রে দেখা যায় না। মাঝেমধ্যে তিনি কেন্দ্রে এলেও হলের ভেতরে না গিয়ে অফিস কক্ষে বসে চা-বিস্কুট ও আড্ডায় মত্ত থাকেন।
 পরীক্ষা হলে অবাধে নকল করার বেশ কিছু স্থিরচিত্র ও ভিডিও ফুটেজ ইতিমধ্যে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের হাতে এসেছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কেন্দ্র সচিব এবং আদর্শ কারিগরি বাণিজ্য মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম গাজী দাবি করেন, আমার কেন্দ্রে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। এখানে ইউএনও স্যারের মনোনীত ট্যাগ অফিসার থাকেন, তিনি সবকিছু দেখভাল করেন।” তবে কথা বলার একপর্যায়ে তিনি সংবাদটি প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, “আপনিও নেত্রকোণার ছেলে, ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের ব্যাপারে একটু সহায়ক ভূমিকা পালন করুন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর দরকার নেই, আপনার সাথে আমার লোকজন দেখা করবে।
 উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও): মদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নাদির হোসেন শামীম বলেন, আমি খোঁজ নিয়ে বিষয়টি দেখছি। পরীক্ষা নকলমুক্ত ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে সার্বক্ষণিক একজন তদারকি কর্মকর্তা (অফিসার) নিয়োজিত রাখা হয়েছে। কোনো অনিয়ম হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নেত্রকোণার জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান জানান, তিনি বর্তমানে ছুটিতে আছেন। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (শিক্ষা) নির্দেশ দিচ্ছেন বলে জানান।
 যোগাযোগ করা হলে নেত্রকোণার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মুনমুন জাহান লিজা বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হবে। আমরা খোঁজ নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ কয়েকজন এলাকাবাসী জানান, রফিকুল ইসলাম গাজি দীর্ঘদিন ধরে এমন কাজ করে আসছে। এভাবে অনৈতিক সুবিধা দিয়ে কামিয়েছেন লাখ লাখ টাকা, বাড়ি ও সম্পদের মালিক হয়েছেন।
বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষসহ শিক্ষা মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন এলাকাবাসী।