
নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলায় জমি জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগে ইবাদ নামে এক গণমাধ্যমকর্মীর বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছেন ভোক্তভোগী স্থানীয় শিক্ষক মাজহারুল ইসলাম খান চুন্নু ও এলাকাবাসী।
জমি নিয়ে বিরোধের সুষ্ট সমাধান ও অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে গতকাল দুপুরে উপজেলা পরিষদের সামনে এ কর্মসূচি পালিন করা হয়। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধের জেরে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অসন্তোষ বিরাজ করছে। তাঁদের দাবি, বিষয়টি একাধিকবার স্থানীয়ভাবে মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি।
এ অবস্থায় তাঁরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে মানববন্ধনের আয়োজন করেন ভোক্তভোগীরা। গণমাধ্যমকর্মীর পরিচয় যেন আইনের ঊর্ধ্বে থাকার সুযোগ না হয় কর্মসূচিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে মাজহারুল ইসলাম খান চুন্নু অভিযোগ করেন, গণমাধ্যমকর্মী পরিচয় ব্যবহার করে তাঁর জমি জবরদখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের ন্যায়সংগত সমাধান চান তাঁরা। অভিযোগের সুষ্ঠ তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনারও দাবি জানান তিনি।
মানববন্ধনে উপস্থিত এলাকাবাসীর জমি নিয়ে বিরোধের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। তাঁদের বলেন, জমির প্রকৃত মালিকানা ও দখলসংক্রান্ত বিষয় যথাযথ কাগজপত্র যাচাই করে নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন। কোনো পক্ষ যেন প্রভাব খাটিয়ে অন্য পক্ষের অধিকার ক্ষুন্ন করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করেন তাঁরা।
বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন আটপাড়া উপজেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক আমীর খসরু স্বপন, উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি সাইফুল আলম সোহেল, মাজহারুল ইসলাম খান চুন্নু, মো. খায়রুল ইসলাম, জেলা জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মফিজুর রহমান, বিএনপি নেতা মানিক মিয়া ও জাহাঙ্গীর আলমসহ স্থানীয় ব্যক্তিরা।
বক্তারা জমি-সংক্রান্ত বিরোধের শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মত সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁরা বলেন, কোনো অভিযোগের নিষ্পত্তি যেন ব্যক্তিগত বিরোধ, প্রভাব বিস্তার কিংবা সংঘাতের মাধ্যমে না হয়; বরং প্রচলিত আইন ও যথাযথ বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত।
বিষয়টি অবগত আছেন ইউএনও, একাধিকবার হয়েছে সালিশ এ বিষয়ে আটপাড়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আতাউর রহমানের সঙ্গে কথা বলা হলে তিনি জানান, জমি-সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টি তাঁর জানা আছে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সালিশের উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত বিরোধের নিষ্পত্তি হয়নি। বর্তমানে বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ইউএনও জানান, বিষয়টি যেন কোনোভাবেই সংঘাত বা সহিংসতার দিকে না যায়, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সবাইকে শান্তিপূর্ণ অবস্থান বজায় রেখে আইনসম্মত প্রক্রিয়ায় বিরোধ নিষ্পত্তির আহ্বান জানান তিনি।
ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে সড়ক নির্মাণ নিয়ে প্রশ্ন এদিকে বিরোধপূর্ণ জমি-সংলগ্ন এলাকায় সড়ক নির্মাণের বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের প্রশ্ন, ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি হলে সেখানে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কীভাবে রাস্তা নির্মাণ করেছে? রাস্তা নির্মাণের আগে জমির মালিকানা, অধিগ্রহণ, জমি হস্তান্তর কিংবা প্রয়োজনীয় অনুমোদনের প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল কি না—তা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
মাজহারুল ইসলাম খান চুন্নু বলেন, আমার চাচাত্ব বোন ঢাকায় থাকেন, তার ও আমাদের জায়গার উপড় দিয়ে এলজিউডি রাস্তা নির্মান কালে আমরা আপত্তি জানাই। যার কারণে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। আমাদের জায়গার প্রতিবেশী ইবাদ গং তারা জুর করে আমাদের ব্যাক্তি মালিকানাধিন জায়গার উপড় দিয়ে রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা করে। গণমাধ্যম কর্মীর প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছে দির্ঘদিন ধরে। গত কয়েকদিন আগে রাস্তানিয়ে তারসাথে আমার ফোনে কথাকাটাকাটি হয় যা সে সামাজিক যেগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয় ও বিভিন্ন সংবাদপত্রে নিউজ করায়। ছড়িয়ে দেওয়া অডিওতে ইবাদ কথোপকথনের সমস্তটা প্রকাশ করেননি। আমাকে উত্তেজিত করতে বাধ্য করা হয়েছিল তার ব্যাবহারে। সংবাদ কর্মীদের কাছে আমার অনুরোধ আপনারা যাচাই বাচাই করে সংবাদ উপস্থাপন করবেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত গণমাধ্যমকর্মী ইবাদ-এর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নেত্রকোণা প্রতিনিধিঃ 








