ঢাকা ০৯:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফেসবুক ষ্টেটাসেই কাল হল সাংবাদিক আলিফ ফকিরের, গুলি করে হত্যা

  • প্রতিবেদক এর নাম
  • প্রকাশের সময় : ১২:১১:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
  • ২০৮ বার পড়া হয়েছে




নেত্রকোণার দুর্গাপুরে দোকানে বসে থাকা অবস্থায় লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির নামে সাবেক সেনা সদস্য ও রুপসী বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত সোয়া আটটার দিকে উপজেলার শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের উতরাইল বাজারে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আলিফ ফকির অবসর প্রাপ্ত সেনা সদস্য ও  বেসরকারি আইপিটিভি চ্যানেল রূপসী বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন। ওই পেজে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে লেখালেখি করতেন । মাদক, চোরাকারবারি ও প্রশাসনের আনিয়ম দূর্নীতি নিয়েও লেখালেখি করতেন তিনি।

গত ২২ ঘন্ঠা আগে আলিফ ফকির তার ফেসবুকে একটি ষ্টেটাস দেন য়ে, আগামী কাল চাঞ্চাল্যকর অপরাধের গড ফাদারদের তথ্য প্রমাণ প্রকাশ করবেন এরি মধ্যে ঘটেগেল খুনের মত একটি ঘটনা।

তাঁর গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের সুনই গ্রামে। দুর্গাপুর থানা-পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত আটটার দিকে আলিফ ফকির দুর্গাপুর উতরাইল বাজারের একটি দোকানে বসে গল্প করছিলেন। এ সময় মোটরসাইকেলে এসে  দুই যুবক সেখানে এসে তাঁকে লক্ষ্য করে পরপর পাঁচটি গুলি করে । গুলির শব্দ শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায়।

পরে স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় আলিফ ফকিরকে উদ্ধার করে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

এর আগে গত বছরের ১০ নভেম্বর দুর্গাপুর উপজেলার সোমেশ্বরী নদীর তেরিবাজার ঘাট এলাকায় দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হয়েছিলেন আলিফ ফকির। ওই সময় তাঁকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছিল। হামলাকারীদের বাধা দিতে গেলে তাঁর সঙ্গে থাকা এক সহকর্মীকেও অস্ত্র দেখিয়ে ধাওয়া করা হয়। মামলার করেও তিনি কোন প্রতিকার পাননি। দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমদ আরটিভি অন লাইনকে জানান, নিহত সাংবাদিক অলিফ ফকিরের মাথা, গলা ও বুকে তিনটি গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনা তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। তবে কারা এবং কী কারণে আলিফ ফকিরকে হত্যা করেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Gojnobi biplob

আটপাড়ায় জমি দখলের অভিযোগ এনে সংবাদকর্মীর বিরুদ্বে মানববন্ধন ।

ফেসবুক ষ্টেটাসেই কাল হল সাংবাদিক আলিফ ফকিরের, গুলি করে হত্যা

প্রকাশের সময় : ১২:১১:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

নেত্রকোণার দুর্গাপুরে দোকানে বসে থাকা অবস্থায় লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির নামে সাবেক সেনা সদস্য ও রুপসী বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত সোয়া আটটার দিকে উপজেলার শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের উতরাইল বাজারে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আলিফ ফকির অবসর প্রাপ্ত সেনা সদস্য ও  বেসরকারি আইপিটিভি চ্যানেল রূপসী বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন। ওই পেজে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে লেখালেখি করতেন । মাদক, চোরাকারবারি ও প্রশাসনের আনিয়ম দূর্নীতি নিয়েও লেখালেখি করতেন তিনি।

গত ২২ ঘন্ঠা আগে আলিফ ফকির তার ফেসবুকে একটি ষ্টেটাস দেন য়ে, আগামী কাল চাঞ্চাল্যকর অপরাধের গড ফাদারদের তথ্য প্রমাণ প্রকাশ করবেন এরি মধ্যে ঘটেগেল খুনের মত একটি ঘটনা।

তাঁর গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের সুনই গ্রামে। দুর্গাপুর থানা-পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত আটটার দিকে আলিফ ফকির দুর্গাপুর উতরাইল বাজারের একটি দোকানে বসে গল্প করছিলেন। এ সময় মোটরসাইকেলে এসে  দুই যুবক সেখানে এসে তাঁকে লক্ষ্য করে পরপর পাঁচটি গুলি করে । গুলির শব্দ শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায়।

পরে স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় আলিফ ফকিরকে উদ্ধার করে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

এর আগে গত বছরের ১০ নভেম্বর দুর্গাপুর উপজেলার সোমেশ্বরী নদীর তেরিবাজার ঘাট এলাকায় দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হয়েছিলেন আলিফ ফকির। ওই সময় তাঁকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছিল। হামলাকারীদের বাধা দিতে গেলে তাঁর সঙ্গে থাকা এক সহকর্মীকেও অস্ত্র দেখিয়ে ধাওয়া করা হয়। মামলার করেও তিনি কোন প্রতিকার পাননি। দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমদ আরটিভি অন লাইনকে জানান, নিহত সাংবাদিক অলিফ ফকিরের মাথা, গলা ও বুকে তিনটি গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনা তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। তবে কারা এবং কী কারণে আলিফ ফকিরকে হত্যা করেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।