ঢাকা ১০:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জবিতে ছাত্রদল নেতা হত্যা নিয়ে প্রশ্ন জোবায়েদের শিক্ষকের

  • বেঙ্গল নিউজ ডেক্স
  • প্রকাশের সময় : ০২:৩৫:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫
  • ২৬৫ বার পড়া হয়েছে



ছবি সংগৃহিত

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রদল নেতা মো. জোবায়েদ হোসেন হত্যাকাণ্ড নিয়ে পুলিশ ‘ত্রিভুজ প্রেমের গল্প’ সাজিয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. রইছ্ উদ্‌দীন।

তাহলে আমাদের প্রশ্ন পেশাদার হত্যাকারী দিয়ে হত্যা করিয়ে অন্যদেরকে ফাঁসানো হয়েছে কি? এ ছাড়া মাহিরের উচ্চতা ও জোবায়েদের উচ্চতায় অনেক তফাত। জোবায়েদ মাহিরের থেকে অনেক লম্বা, সে (মাহির) তার (জোবায়েদ) গলা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারার কথা নয়। সে জায়গা থেকে হত্যা করা সম্ভব কি?’

শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বলেন- জোবায়েদ সম্পর্কে তার বিভাগ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও তার রাজনৈতিক সহকর্মীরা সবাই সাক্ষ্য দিবে, সে কেমন ধরণের ছেলে। সুতরাং তাকে কেউ মিথ্যা অপবাদ দিয়ে ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রভাবিত করবেন না। সুতরাং ত্রিভুজ প্রেমের গল্প সাজিয়ে জোবায়েদের কেউ চরিত্র হননের চেষ্টা করলে আমরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলে দিতে চাই, ‘তার ফলাফল ভালো হবে না’।

অধ্যাপক মো. রইছ উদদীন বলেন, আমরা আজ শোকে বিহ্বল। বিশ্ববিদ্যালয়ের দিবস যেখানে উদ্‌যাপন করতে চেয়েছিলাম, সেখানে জোবায়েদের স্মরণে শোকসভা করেছি। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও বাতিল করে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস তাকে উৎসর্গ করা হবে। আমরা চাই সত্য বেরিয়ে আসুক, নিরপরাধ কেউ যেন শাস্তি না পায়। সুষ্ঠু বিচার হলে আর কোনো মায়ের বুক খালি হবে না। বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দ্রুত এই মামলার নিষ্পত্তি হবে বলে আশা করি।

এ সময় সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, বিভিন্ন অনুষদের ডিন ও চেয়ারম্যান, শাখা ছাত্রদল, ছাত্র শিবির, গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের নেতৃবৃন্দসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে জোবায়েদের ভাই গত মঙ্গলবার বংশাল থানায় হত্যা মামলাটি করেন। তারপরই বার্জিস শাবনাম বর্ষা (১৮), তার কথিত প্রেমিক মাহির রহমান (১৯) ও মাহিরের বন্ধু ফারদীন আহম্মেদ আয়লানকে (২০) গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। ডিএমপির ভাষ্য, মাহিরকে বর্ষা বলেছিলেন যে জোবায়েদকে না সরালে তিনি ‘মাহিরের হতে পারবেন না’।

এরপর এক মাস আগে জোবায়েদকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে বুধবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. রইছ্ উদ্‌দীন পুলিশের বয়ানের বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

প্রসঙ্গত, জোবায়েদ হোসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। একইসঙ্গে জবিস্থ কুমিল্লা জেলা ছাত্র কল্যাণের সভাপতি ও শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য ছিলেন তিনি। গত এক বছর ধরে জোবায়েদ হোসেন পুরান ঢাকার আরমানীটোলায় নুরবক্স লেনে রৌশান ভিলা নামের বাসায় বর্ষা নামের এক ছাত্রীকে ফিজিক্স ক্যামেস্ট্রি ও বায়োলজি পড়াতেন।

রোববার আনুমানিক বিকেল ৪ টা ৪৫ মিনিটের দিকে ছাত্রীর বাসার তিন তলায় তিনি খুন হন। বাসার নিচ তলার সিঁড়ি থেকে তিন তলা পর্যন্ত সিঁড়িতে রক্ত পড়েছিল। তিন তলার সিঁড়িতে উপুড় হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায় তাকে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Gojnobi biplob

আটপাড়ায় জমি দখলের অভিযোগ এনে সংবাদকর্মীর বিরুদ্বে মানববন্ধন ।

জবিতে ছাত্রদল নেতা হত্যা নিয়ে প্রশ্ন জোবায়েদের শিক্ষকের

প্রকাশের সময় : ০২:৩৫:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫

ছবি সংগৃহিত

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রদল নেতা মো. জোবায়েদ হোসেন হত্যাকাণ্ড নিয়ে পুলিশ ‘ত্রিভুজ প্রেমের গল্প’ সাজিয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. রইছ্ উদ্‌দীন।

তাহলে আমাদের প্রশ্ন পেশাদার হত্যাকারী দিয়ে হত্যা করিয়ে অন্যদেরকে ফাঁসানো হয়েছে কি? এ ছাড়া মাহিরের উচ্চতা ও জোবায়েদের উচ্চতায় অনেক তফাত। জোবায়েদ মাহিরের থেকে অনেক লম্বা, সে (মাহির) তার (জোবায়েদ) গলা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারার কথা নয়। সে জায়গা থেকে হত্যা করা সম্ভব কি?’

শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বলেন- জোবায়েদ সম্পর্কে তার বিভাগ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও তার রাজনৈতিক সহকর্মীরা সবাই সাক্ষ্য দিবে, সে কেমন ধরণের ছেলে। সুতরাং তাকে কেউ মিথ্যা অপবাদ দিয়ে ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রভাবিত করবেন না। সুতরাং ত্রিভুজ প্রেমের গল্প সাজিয়ে জোবায়েদের কেউ চরিত্র হননের চেষ্টা করলে আমরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলে দিতে চাই, ‘তার ফলাফল ভালো হবে না’।

অধ্যাপক মো. রইছ উদদীন বলেন, আমরা আজ শোকে বিহ্বল। বিশ্ববিদ্যালয়ের দিবস যেখানে উদ্‌যাপন করতে চেয়েছিলাম, সেখানে জোবায়েদের স্মরণে শোকসভা করেছি। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও বাতিল করে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস তাকে উৎসর্গ করা হবে। আমরা চাই সত্য বেরিয়ে আসুক, নিরপরাধ কেউ যেন শাস্তি না পায়। সুষ্ঠু বিচার হলে আর কোনো মায়ের বুক খালি হবে না। বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দ্রুত এই মামলার নিষ্পত্তি হবে বলে আশা করি।

এ সময় সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, বিভিন্ন অনুষদের ডিন ও চেয়ারম্যান, শাখা ছাত্রদল, ছাত্র শিবির, গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের নেতৃবৃন্দসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে জোবায়েদের ভাই গত মঙ্গলবার বংশাল থানায় হত্যা মামলাটি করেন। তারপরই বার্জিস শাবনাম বর্ষা (১৮), তার কথিত প্রেমিক মাহির রহমান (১৯) ও মাহিরের বন্ধু ফারদীন আহম্মেদ আয়লানকে (২০) গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। ডিএমপির ভাষ্য, মাহিরকে বর্ষা বলেছিলেন যে জোবায়েদকে না সরালে তিনি ‘মাহিরের হতে পারবেন না’।

এরপর এক মাস আগে জোবায়েদকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে বুধবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. রইছ্ উদ্‌দীন পুলিশের বয়ানের বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

প্রসঙ্গত, জোবায়েদ হোসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। একইসঙ্গে জবিস্থ কুমিল্লা জেলা ছাত্র কল্যাণের সভাপতি ও শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য ছিলেন তিনি। গত এক বছর ধরে জোবায়েদ হোসেন পুরান ঢাকার আরমানীটোলায় নুরবক্স লেনে রৌশান ভিলা নামের বাসায় বর্ষা নামের এক ছাত্রীকে ফিজিক্স ক্যামেস্ট্রি ও বায়োলজি পড়াতেন।

রোববার আনুমানিক বিকেল ৪ টা ৪৫ মিনিটের দিকে ছাত্রীর বাসার তিন তলায় তিনি খুন হন। বাসার নিচ তলার সিঁড়ি থেকে তিন তলা পর্যন্ত সিঁড়িতে রক্ত পড়েছিল। তিন তলার সিঁড়িতে উপুড় হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায় তাকে।