ঢাকা ০৫:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাদির ওপর হামলার প্রতিবাদে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বদলীয় প্রতিরোধ সমাবেশ

ছবি সংগৃহিত

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির ওপর গুলির ঘটনার প্রতিবাদে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শুরু হয়েছে ‘সর্বদলীয় প্রতিরোধ সমাবেশ’। সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) বিকাল ৩টায় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়া এই সমাবেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নিচ্ছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সমাবেশ শুরুর আগেই শহীদ মিনার এলাকায় নেতাকর্মীদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। দুপুরের পর থেকেই সমাবেশস্থলে প্রস্তুতির তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়। মঞ্চ গোছানোর কাজ ও চেয়ার সাজানোর মধ্য দিয়ে আয়োজনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়। বিভিন্ন সংগঠনের কর্মীদের ব্যস্ততায় ধীরে ধীরে শহীদ মিনার চত্বর একটি প্রতিবাদী জমায়েতে রূপ নেয়।

এ সময় সমাবেশস্থলে উপস্থিত নেতাকর্মীরা একের পর এক প্রতিবাদী স্লোগান দিতে থাকেন। স্লোগানে স্লোগানে তারা বলেন, ‘আমরা সবাই হাদি হবো, ভুলের মুখে কথা বলব’ এবং ‘নারায়ে তাকবির—আল্লাহু আকবর’। ‘এক হাদি রক্ত দেবে, লক্ষ হাদিস জন্ম নেবে’। পাশাপাশি শরীফ ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনার ন্যায়বিচারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগানে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং হামলাকারীদের দ্রুত বিচারের দাবি তোলেন।

সমাবেশ শুরুর আগে মঞ্চে গান ও কবিতা আবৃত্তির আয়োজন করা হয়। সেখানে শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনার প্রতিবাদ জানানো হয় এবং গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে সহিংসতার বিরুদ্ধে অবস্থান তুলে ধরা হয়। গান ও কবিতার মাধ্যমে বক্তারা সহিংস রাজনীতির বিপক্ষে কণ্ঠ তুলে ধরেন এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক চর্চার আহ্বান জানান।

সমাবেশস্থলে উপস্থিত নেতাকর্মীদের অনেকেই শরিফ ওসমান হাদির ওপর গুলির ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। তারা এই হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত বিচারের দাবি তোলেন। অংশগ্রহণকারীদের বক্তব্যে বারবার উঠে আসে—রাজনৈতিক মতপ্রকাশে সহিংসতার কোনো জায়গা নেই।

আয়োজকরা জানান, এই সমাবেশের মাধ্যমে শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনার প্রতিবাদ জানানো এবং গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে সহিংসতার বিরুদ্ধে একটি সুস্পষ্ট ও ঐক্যবদ্ধ অবস্থান তুলে ধরা হবে। তারা বলেন, রাজনৈতিক বিরোধ থাকতে পারে, কিন্তু তা কখনোই সহিংসতায় রূপ নিতে পারে না।

সমাবেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে শান্তিপূর্ণভাবে চলমান এই সমাবেশে প্রতিবাদী কণ্ঠে ন্যায়বিচার ও রাজনৈতিক সহিংসতার অবসানের দাবি উচ্চারিত হচ্ছে।

উল্লেখ্য, শরীফ ওসমান হাদি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক ছিলেন এবং অভ্যুত্থান-অনুপ্রাণিত সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলন ‘ইনকিলাব মঞ্চ’-এর মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

একই সঙ্গে তিনি ঢাকার ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা–৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছিলেন হাদি। এ লক্ষ্য সামনে রেখে তিনি নিয়মিত গণসংযোগ কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন।

এরই মধ্যে গত ১২ ডিসেম্বর (শুক্রবার) জুমার নামাজের পর রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স–কালভার্ট রোড এলাকায় হামলার শিকার হন শরীফ ওসমান হাদি। মোটরসাইকেলে করে আসা দুই আততায়ীর একজন চলন্ত রিকশায় থাকা হাদির মাথায় গুলি করে পালিয়ে যায়।

গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সর্বশেষ আজ তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর নেওয়া হচ্ছে।চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার শারীরিক অবস্থা বর্তমানে বেশ সংকটাপন্ন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Gojnobi biplob

Popular Post

হামের টিকা নিয়ে পূর্ববর্তী সরকারগুলো ক্ষমাহীন অপরাধ করেছে : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

হাদির ওপর হামলার প্রতিবাদে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বদলীয় প্রতিরোধ সমাবেশ

প্রকাশের সময় : ০৪:২৫:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫

ছবি সংগৃহিত

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির ওপর গুলির ঘটনার প্রতিবাদে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শুরু হয়েছে ‘সর্বদলীয় প্রতিরোধ সমাবেশ’। সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) বিকাল ৩টায় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়া এই সমাবেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নিচ্ছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সমাবেশ শুরুর আগেই শহীদ মিনার এলাকায় নেতাকর্মীদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। দুপুরের পর থেকেই সমাবেশস্থলে প্রস্তুতির তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়। মঞ্চ গোছানোর কাজ ও চেয়ার সাজানোর মধ্য দিয়ে আয়োজনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়। বিভিন্ন সংগঠনের কর্মীদের ব্যস্ততায় ধীরে ধীরে শহীদ মিনার চত্বর একটি প্রতিবাদী জমায়েতে রূপ নেয়।

এ সময় সমাবেশস্থলে উপস্থিত নেতাকর্মীরা একের পর এক প্রতিবাদী স্লোগান দিতে থাকেন। স্লোগানে স্লোগানে তারা বলেন, ‘আমরা সবাই হাদি হবো, ভুলের মুখে কথা বলব’ এবং ‘নারায়ে তাকবির—আল্লাহু আকবর’। ‘এক হাদি রক্ত দেবে, লক্ষ হাদিস জন্ম নেবে’। পাশাপাশি শরীফ ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনার ন্যায়বিচারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগানে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং হামলাকারীদের দ্রুত বিচারের দাবি তোলেন।

সমাবেশ শুরুর আগে মঞ্চে গান ও কবিতা আবৃত্তির আয়োজন করা হয়। সেখানে শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনার প্রতিবাদ জানানো হয় এবং গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে সহিংসতার বিরুদ্ধে অবস্থান তুলে ধরা হয়। গান ও কবিতার মাধ্যমে বক্তারা সহিংস রাজনীতির বিপক্ষে কণ্ঠ তুলে ধরেন এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক চর্চার আহ্বান জানান।

সমাবেশস্থলে উপস্থিত নেতাকর্মীদের অনেকেই শরিফ ওসমান হাদির ওপর গুলির ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। তারা এই হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত বিচারের দাবি তোলেন। অংশগ্রহণকারীদের বক্তব্যে বারবার উঠে আসে—রাজনৈতিক মতপ্রকাশে সহিংসতার কোনো জায়গা নেই।

আয়োজকরা জানান, এই সমাবেশের মাধ্যমে শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনার প্রতিবাদ জানানো এবং গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে সহিংসতার বিরুদ্ধে একটি সুস্পষ্ট ও ঐক্যবদ্ধ অবস্থান তুলে ধরা হবে। তারা বলেন, রাজনৈতিক বিরোধ থাকতে পারে, কিন্তু তা কখনোই সহিংসতায় রূপ নিতে পারে না।

সমাবেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে শান্তিপূর্ণভাবে চলমান এই সমাবেশে প্রতিবাদী কণ্ঠে ন্যায়বিচার ও রাজনৈতিক সহিংসতার অবসানের দাবি উচ্চারিত হচ্ছে।

উল্লেখ্য, শরীফ ওসমান হাদি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক ছিলেন এবং অভ্যুত্থান-অনুপ্রাণিত সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলন ‘ইনকিলাব মঞ্চ’-এর মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

একই সঙ্গে তিনি ঢাকার ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা–৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছিলেন হাদি। এ লক্ষ্য সামনে রেখে তিনি নিয়মিত গণসংযোগ কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন।

এরই মধ্যে গত ১২ ডিসেম্বর (শুক্রবার) জুমার নামাজের পর রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স–কালভার্ট রোড এলাকায় হামলার শিকার হন শরীফ ওসমান হাদি। মোটরসাইকেলে করে আসা দুই আততায়ীর একজন চলন্ত রিকশায় থাকা হাদির মাথায় গুলি করে পালিয়ে যায়।

গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সর্বশেষ আজ তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর নেওয়া হচ্ছে।চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার শারীরিক অবস্থা বর্তমানে বেশ সংকটাপন্ন।