ঢাকা ০১:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতীতে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় পাঁচ সেনা নিহত

ছবি সংগৃহীতঃ

ভারতের আসামের জোরহাট বিমানঘাঁটিতে ভারতীয় বিমান বাহিনীর (আইএএফ) একটি ‘এএন-৩২’ পরিবহন বিমান বিধ্বস্ত হয়ে পাঁচ সেনা নিহত হয়েছেন। আজ শনিবার সকালে অবতরণের আগমুহূর্তে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ও হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

এদিকে এক এক্স পোস্টে আসামের জোরহাটে এএন-৩২ বিমান দুর্ঘটনায় পাঁচজন সদস্যের মৃত্যুতে ভারতীয় বিমান বাহিনী গভীরভাবে শোক প্রকাশ করছে।

কর্তব্যরত অবস্থায় জীবন উৎসর্গকারী পাঁচজন বীর সেনানি হলেন স্কোয়াড্রন লিডার প্রশান্ত সিং, ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট শুভম কুমার, সার্জেন্ট জিতেন্দ্র শর্মা, অগ্নিবীরবায়ু খেমারাম কুমাবত এবং অগ্নিবীরবায়ু দানিশ আলম।

ভারতীয় বিমানবাহিনী এক্স পোস্টে বলেছে, ‘আমরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি এবং এই শোকের মুহূর্তে তাদের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াচ্ছি।’

সামরিক পরিবহনের ক্ষেত্রে ‘এএন-৩২’ বিমানটিকে ভারতীয় বিমান বাহিনীর অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি বা ‘ওয়ার্কহর্স’ বলা হয়ে থাকে। সোভিয়েত ইউনিয়নে বিশেষভাবে ভারতের প্রয়োজনীয়তা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছিল এই টুইন-ইঞ্জিন টার্বোপ্রপ বিমানটি। বর্তমানে ভারতীয় বিমানবাহিনীতে এ ধরনের প্রায় ১০০টি বিমান রয়েছে।

‘এএন-৩২’ বিমানটি চরম প্রতিকূল পরিবেশ, বিশেষ করে উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলের বিমানঘাঁটি কিংবা তীব্র উষ্ণ গ্রীষ্মমণ্ডলীয় জলবায়ুতেও এই বিমান সফলভাবে চলতে পারে। এটি সর্বোচ্চ সাড়ে সাত টন কার্গো, ৫০ জন যাত্রী অথবা ৪২ জন প্যারাসুটার বহন করতে সক্ষম। দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে সামরিক রসদ ও মালামাল সরবরাহের কাজে এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

এর আগে গত ৫ মার্চ জোরহাট বিমানঘাঁটি থেকেই একটি নিয়মিত ফ্লাইটের অংশ হিসেবে দুই আসনবিশিষ্ট সুখোই যুদ্ধবিমান উড্ডয়ন করেছিল। পরে রাত পৌনে আটটার দিকে গ্রাউন্ড কন্ট্রোলের সঙ্গে বিমানটির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। জোরহাট থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে কার্বি আংলং জেলার একটি প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকায় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছিল। এতে দুই পাইলট নিহত হয়েছিলেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Gojnobi biplob

Popular Post

নেত্রকোণার মদনে পরীক্ষা কেন্দ্রে অবাধে নকলের অভিযোগ:

ভারতীতে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় পাঁচ সেনা নিহত

প্রকাশের সময় : ১১:২৭:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

ছবি সংগৃহীতঃ

ভারতের আসামের জোরহাট বিমানঘাঁটিতে ভারতীয় বিমান বাহিনীর (আইএএফ) একটি ‘এএন-৩২’ পরিবহন বিমান বিধ্বস্ত হয়ে পাঁচ সেনা নিহত হয়েছেন। আজ শনিবার সকালে অবতরণের আগমুহূর্তে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ও হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

এদিকে এক এক্স পোস্টে আসামের জোরহাটে এএন-৩২ বিমান দুর্ঘটনায় পাঁচজন সদস্যের মৃত্যুতে ভারতীয় বিমান বাহিনী গভীরভাবে শোক প্রকাশ করছে।

কর্তব্যরত অবস্থায় জীবন উৎসর্গকারী পাঁচজন বীর সেনানি হলেন স্কোয়াড্রন লিডার প্রশান্ত সিং, ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট শুভম কুমার, সার্জেন্ট জিতেন্দ্র শর্মা, অগ্নিবীরবায়ু খেমারাম কুমাবত এবং অগ্নিবীরবায়ু দানিশ আলম।

ভারতীয় বিমানবাহিনী এক্স পোস্টে বলেছে, ‘আমরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি এবং এই শোকের মুহূর্তে তাদের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াচ্ছি।’

সামরিক পরিবহনের ক্ষেত্রে ‘এএন-৩২’ বিমানটিকে ভারতীয় বিমান বাহিনীর অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি বা ‘ওয়ার্কহর্স’ বলা হয়ে থাকে। সোভিয়েত ইউনিয়নে বিশেষভাবে ভারতের প্রয়োজনীয়তা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছিল এই টুইন-ইঞ্জিন টার্বোপ্রপ বিমানটি। বর্তমানে ভারতীয় বিমানবাহিনীতে এ ধরনের প্রায় ১০০টি বিমান রয়েছে।

‘এএন-৩২’ বিমানটি চরম প্রতিকূল পরিবেশ, বিশেষ করে উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলের বিমানঘাঁটি কিংবা তীব্র উষ্ণ গ্রীষ্মমণ্ডলীয় জলবায়ুতেও এই বিমান সফলভাবে চলতে পারে। এটি সর্বোচ্চ সাড়ে সাত টন কার্গো, ৫০ জন যাত্রী অথবা ৪২ জন প্যারাসুটার বহন করতে সক্ষম। দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে সামরিক রসদ ও মালামাল সরবরাহের কাজে এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

এর আগে গত ৫ মার্চ জোরহাট বিমানঘাঁটি থেকেই একটি নিয়মিত ফ্লাইটের অংশ হিসেবে দুই আসনবিশিষ্ট সুখোই যুদ্ধবিমান উড্ডয়ন করেছিল। পরে রাত পৌনে আটটার দিকে গ্রাউন্ড কন্ট্রোলের সঙ্গে বিমানটির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। জোরহাট থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে কার্বি আংলং জেলার একটি প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকায় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছিল। এতে দুই পাইলট নিহত হয়েছিলেন।