ঢাকা ০৪:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেত্রকোণায় অবৈধ বালু দিয়ে কাবিখার রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ ইউএনওর বিরুদ্ধে ইউএনও অস্বীকার  

  • প্রতিবেদক এর নাম
  • প্রকাশের সময় : ১১:৪৫:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
  • ২০৯ বার পড়া হয়েছে

নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলায় নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে উত্তোলন করা বালু ব্যবহার করে কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য) কর্মসূচির আওতায় একটি সংযোগ সড়ক নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহ নূর রহমানের বিরুদ্ধে।

উপজেলার বানিয়াজান ইউনিয়নের বানিয়াজান মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-সংলগ্ন এলাকায় বর্তমানে সংযোগ সড়কটির নির্মাণকাজ চলছে। স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের কাবিখা কর্মসূচির আওতায় “আটপাড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিকট উপজেলা পরিষদের সীমানা হতে উত্তর পাশের পাকা রাস্তা পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ  প্রকল্পের জন্য ইউপি সদস্য রেণু মিয়াকে সভাপতি করে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।

প্রকল্পের জন্য ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং বিধি অনুযায়ী ৫০ শতাংশ অর্থ ইতোমধ্যে ছাড় করা হয়েছে। তবে ওই বরাদ্দে কাজ বাস্তবায়ন সম্ভব নয় উল্লেখ করে প্রকল্প সভাপতি অনাগ্রহ প্রকাশ করেন। এরপর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগেই প্রকল্পের কাজ পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়-সংলগ্ন একটি সরকারি পরিত্যক্ত খালের ওপর দুই পাশে বাঁধ দিয়ে ভরাট করে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। সেখানে প্রায় ১০ থেকে ১৫ হাজার ঘনফুট সাদা ভিটি বালু ফেলা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার তীব্র বাঁকের কারণে যান চলাচলে দুর্ভোগ ছিল। স্থানীয়দের মতে, সড়কটি নির্মিত হলে যোগাযোগব্যবস্থা সহজ হবে।

তবে উন্নয়ন কাজের প্রয়োজনীয়তা থাকলেও প্রকল্প বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, উপজেলায় বৈধ কোনো বালুমহাল না থাকলেও সড়ক নির্মাণে ব্যবহৃত বালু উপজেলার ভরতোষীর চর এলাকা থেকে ড্রেজারের মাধ্যমে অবৈধভাবে উত্তোলন করা হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, কম খরচে বালু সংগ্রহের জন্য রাতের আঁধারে নদী থেকে বালু তুলে প্রকল্পে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে একদিকে রাস্তা নির্মাণ হলেও অন্যদিকে নদীতীর ভাঙন ও পরিবেশগত ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বালু ব্যবসায়ী সেলিম মিয়া বলেন, আমি প্রশাসনকে জানিয়েছিলাম, বৈধভাবে ভৈরব ঘাট থেকে বালু আনতে প্রতি ঘনফুটে ১৯ টাকা খরচ হবে। কিন্তু প্রশাসন ১০ টাকা ঘনফুট দরে বালু নিতে চায়। পরে তাদের জানিয়েই ভরতোষীর চর এলাকা থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করে রাস্তার কাজে সরবরাহ করছি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইটাখলা এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, গত কয়েকদিন ধরে উপজেলা প্রশাসনের রাস্তার কাজের দোহাই দিয়ে রাতের বেলা অবৈধ ড্রেজার দিয়ে দুই থেকে তিনটি নৌকায় বালু উত্তোলন করছেন সেলিম মিয়া।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাগজে-কলমে প্রকল্প কমিটি বহাল রেখে নিজ তত্ত্বাবধানে কাজটি পরিচালনা করছেন।

তাদের দাবি, শুধু এই প্রকল্প নয়, উপজেলার আরও কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পেও একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে।

প্রকল্প সভাপতি ও ইউপি সদস্য রেণু মিয়া বলেন, আমাকে প্রকল্প সভাপতি করা হলেও এই বাজেটে কাজ করা সম্ভব নয় বলে আমি অনাগ্রহ প্রকাশ করি। কাগজে-কলমে আমি সভাপতি থাকলেও প্রশাসন নিজ উদ্যোগে কাজটি করছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোহাম্মদ আব্দুল মমিন বলেন, “কাবিখা প্রকল্পের আওতায় ওই রাস্তার জন্য ইউপি সদস্য রেণু মিয়াকে সভাপতি করে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের ৫০ শতাংশ অর্থ ছাড় করা হয়েছে। কাজ সম্পন্ন হলে বাকি অর্থ ছাড় করা হবে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ নূর রহমানের সাথে মোবাইল  ফোনে কথা হলে তিনি বলেন, ,ইউএনও হিসেবে উপজেলার সকল প্রকল্প দেখাশোনা করার দ্বায়িত্ব রয়েছে আমার। আর আমার বিষয়ে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পুর্ণ  মিথ্যা। আমাকে কোন সাংবাদিক ফোন করলে তার গুরুত্ব দেই সবচেয়ে বেশী। কারণ তারা অহেতুক ফোন করেন না। আর যদি কেউ সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করেন যে আমার নাম ভাঙ্গিয়ে প্রভাব খাটিয়ে কোন ব্যাক্তি নদী থেকে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করে থাকে তাহলে আমি ব্যাবস্থা নিব।  আর সংবাদিকদের আমি খুবই সন্মান করে থাকি।

জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, “এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

 

 

 

 

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Gojnobi biplob

Popular Post

নেত্রকোণার মদনে পরীক্ষা কেন্দ্রে অবাধে নকলের অভিযোগ:

নেত্রকোণায় অবৈধ বালু দিয়ে কাবিখার রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ ইউএনওর বিরুদ্ধে ইউএনও অস্বীকার  

প্রকাশের সময় : ১১:৪৫:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলায় নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে উত্তোলন করা বালু ব্যবহার করে কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য) কর্মসূচির আওতায় একটি সংযোগ সড়ক নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহ নূর রহমানের বিরুদ্ধে।

উপজেলার বানিয়াজান ইউনিয়নের বানিয়াজান মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-সংলগ্ন এলাকায় বর্তমানে সংযোগ সড়কটির নির্মাণকাজ চলছে। স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের কাবিখা কর্মসূচির আওতায় “আটপাড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিকট উপজেলা পরিষদের সীমানা হতে উত্তর পাশের পাকা রাস্তা পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ  প্রকল্পের জন্য ইউপি সদস্য রেণু মিয়াকে সভাপতি করে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।

প্রকল্পের জন্য ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং বিধি অনুযায়ী ৫০ শতাংশ অর্থ ইতোমধ্যে ছাড় করা হয়েছে। তবে ওই বরাদ্দে কাজ বাস্তবায়ন সম্ভব নয় উল্লেখ করে প্রকল্প সভাপতি অনাগ্রহ প্রকাশ করেন। এরপর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগেই প্রকল্পের কাজ পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়-সংলগ্ন একটি সরকারি পরিত্যক্ত খালের ওপর দুই পাশে বাঁধ দিয়ে ভরাট করে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। সেখানে প্রায় ১০ থেকে ১৫ হাজার ঘনফুট সাদা ভিটি বালু ফেলা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার তীব্র বাঁকের কারণে যান চলাচলে দুর্ভোগ ছিল। স্থানীয়দের মতে, সড়কটি নির্মিত হলে যোগাযোগব্যবস্থা সহজ হবে।

তবে উন্নয়ন কাজের প্রয়োজনীয়তা থাকলেও প্রকল্প বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, উপজেলায় বৈধ কোনো বালুমহাল না থাকলেও সড়ক নির্মাণে ব্যবহৃত বালু উপজেলার ভরতোষীর চর এলাকা থেকে ড্রেজারের মাধ্যমে অবৈধভাবে উত্তোলন করা হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, কম খরচে বালু সংগ্রহের জন্য রাতের আঁধারে নদী থেকে বালু তুলে প্রকল্পে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে একদিকে রাস্তা নির্মাণ হলেও অন্যদিকে নদীতীর ভাঙন ও পরিবেশগত ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বালু ব্যবসায়ী সেলিম মিয়া বলেন, আমি প্রশাসনকে জানিয়েছিলাম, বৈধভাবে ভৈরব ঘাট থেকে বালু আনতে প্রতি ঘনফুটে ১৯ টাকা খরচ হবে। কিন্তু প্রশাসন ১০ টাকা ঘনফুট দরে বালু নিতে চায়। পরে তাদের জানিয়েই ভরতোষীর চর এলাকা থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করে রাস্তার কাজে সরবরাহ করছি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইটাখলা এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, গত কয়েকদিন ধরে উপজেলা প্রশাসনের রাস্তার কাজের দোহাই দিয়ে রাতের বেলা অবৈধ ড্রেজার দিয়ে দুই থেকে তিনটি নৌকায় বালু উত্তোলন করছেন সেলিম মিয়া।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাগজে-কলমে প্রকল্প কমিটি বহাল রেখে নিজ তত্ত্বাবধানে কাজটি পরিচালনা করছেন।

তাদের দাবি, শুধু এই প্রকল্প নয়, উপজেলার আরও কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পেও একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে।

প্রকল্প সভাপতি ও ইউপি সদস্য রেণু মিয়া বলেন, আমাকে প্রকল্প সভাপতি করা হলেও এই বাজেটে কাজ করা সম্ভব নয় বলে আমি অনাগ্রহ প্রকাশ করি। কাগজে-কলমে আমি সভাপতি থাকলেও প্রশাসন নিজ উদ্যোগে কাজটি করছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোহাম্মদ আব্দুল মমিন বলেন, “কাবিখা প্রকল্পের আওতায় ওই রাস্তার জন্য ইউপি সদস্য রেণু মিয়াকে সভাপতি করে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের ৫০ শতাংশ অর্থ ছাড় করা হয়েছে। কাজ সম্পন্ন হলে বাকি অর্থ ছাড় করা হবে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ নূর রহমানের সাথে মোবাইল  ফোনে কথা হলে তিনি বলেন, ,ইউএনও হিসেবে উপজেলার সকল প্রকল্প দেখাশোনা করার দ্বায়িত্ব রয়েছে আমার। আর আমার বিষয়ে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পুর্ণ  মিথ্যা। আমাকে কোন সাংবাদিক ফোন করলে তার গুরুত্ব দেই সবচেয়ে বেশী। কারণ তারা অহেতুক ফোন করেন না। আর যদি কেউ সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করেন যে আমার নাম ভাঙ্গিয়ে প্রভাব খাটিয়ে কোন ব্যাক্তি নদী থেকে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করে থাকে তাহলে আমি ব্যাবস্থা নিব।  আর সংবাদিকদের আমি খুবই সন্মান করে থাকি।

জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, “এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”