ঢাকা ০৫:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আফ্রিকার দেশ দক্ষিণ সুদানে শহীদ ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর মরদেহ ঢাকায়

আফ্রিকার দেশ দক্ষিণ সুদানের আবেই সীমান্তে সন্ত্রাসী হামলায় শহীদ হওয়া বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ছয়জন শান্তিরক্ষীর মরদেহ অবশেষে স্বদেশের মাটিতে এসে পৌঁছেছে।

শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সকালে শহীদ এই বীর সেনাদের মরদেহ বহনকারী এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইট ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। গত ১৩ ডিসেম্বর জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের ঘাঁটিতে এক অতর্কিত ও নৃশংস সন্ত্রাসী হামলায় এই ছয় সেনাসদস্য প্রাণ হারান।

এর আগে শুক্রবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টায় উগান্ডার এন্টেব বিমানবন্দর থেকে শহীদ শান্তিরক্ষীদের মরদেহ নিয়ে বিমানটি ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছিল। দক্ষিণ সুদানের ওই হামলায় শুধু ছয়জন নিহতই হননি, বরং আহত হয়েছেন আরও আটজন সেনাসদস্য।

হামলায় আহত শান্তিরক্ষীদের বর্তমানে উন্নত চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। আহতদের তালিকায় রয়েছেন কুষ্টিয়ার লেফটেন্যান্ট কর্নেল খোন্দকার খালেকুজ্জামান, দিনাজপুরের সার্জেন্ট মো. মোস্তাকিম হোসেন, ঢাকার করপোরাল আফরোজা পারভিন ইতি, বরগুনার ল্যান্স করপোরাল মহিবুল ইসলাম, কুড়িগ্রামের সৈনিক মো. মেজবাউল কবির, রংপুরের সৈনিক মোসা. উম্মে হানি আক্তার, মানিকগঞ্জের সৈনিক চুমকি আক্তার এবং নোয়াখালীর সৈনিক মো. মানাজির আহসান।

উল্লেখ্য, ২০২২ সাল থেকে ‘ইউনাইটেড নেশনস ইন্টারিম সিকিউরিটি ফোর্স ফর আবেই’ (ইউএনআইএসএফএ) মিশনে বাংলাদেশের একটি শক্তিশালী ব্যাটালিয়ন বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে আসছে।

বিমানবন্দরে শহীদদের কফিন গ্রহণের সময় সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং শোকাতুর স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন। শহীদ শান্তিরক্ষীদের এই বিদেহী আত্মার সম্মানার্থে যথাযথ রাষ্ট্রীয় ও সামরিক আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহগুলো নিজ নিজ গ্রাম ও জেলায় দাফনের জন্য পাঠানো হবে।

এই মর্মান্তিক ঘটনার পর জাতিসংঘ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহল গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং শান্তিরক্ষীদের ওপর এ ধরনের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। শহীদদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে সরকার ও সেনাবাহিনী তাদের পাশে থাকার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Gojnobi biplob

Popular Post

হামের টিকা নিয়ে পূর্ববর্তী সরকারগুলো ক্ষমাহীন অপরাধ করেছে : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আফ্রিকার দেশ দক্ষিণ সুদানে শহীদ ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর মরদেহ ঢাকায়

প্রকাশের সময় : ০১:১০:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫

আফ্রিকার দেশ দক্ষিণ সুদানের আবেই সীমান্তে সন্ত্রাসী হামলায় শহীদ হওয়া বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ছয়জন শান্তিরক্ষীর মরদেহ অবশেষে স্বদেশের মাটিতে এসে পৌঁছেছে।

শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সকালে শহীদ এই বীর সেনাদের মরদেহ বহনকারী এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইট ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। গত ১৩ ডিসেম্বর জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের ঘাঁটিতে এক অতর্কিত ও নৃশংস সন্ত্রাসী হামলায় এই ছয় সেনাসদস্য প্রাণ হারান।

এর আগে শুক্রবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টায় উগান্ডার এন্টেব বিমানবন্দর থেকে শহীদ শান্তিরক্ষীদের মরদেহ নিয়ে বিমানটি ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছিল। দক্ষিণ সুদানের ওই হামলায় শুধু ছয়জন নিহতই হননি, বরং আহত হয়েছেন আরও আটজন সেনাসদস্য।

হামলায় আহত শান্তিরক্ষীদের বর্তমানে উন্নত চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। আহতদের তালিকায় রয়েছেন কুষ্টিয়ার লেফটেন্যান্ট কর্নেল খোন্দকার খালেকুজ্জামান, দিনাজপুরের সার্জেন্ট মো. মোস্তাকিম হোসেন, ঢাকার করপোরাল আফরোজা পারভিন ইতি, বরগুনার ল্যান্স করপোরাল মহিবুল ইসলাম, কুড়িগ্রামের সৈনিক মো. মেজবাউল কবির, রংপুরের সৈনিক মোসা. উম্মে হানি আক্তার, মানিকগঞ্জের সৈনিক চুমকি আক্তার এবং নোয়াখালীর সৈনিক মো. মানাজির আহসান।

উল্লেখ্য, ২০২২ সাল থেকে ‘ইউনাইটেড নেশনস ইন্টারিম সিকিউরিটি ফোর্স ফর আবেই’ (ইউএনআইএসএফএ) মিশনে বাংলাদেশের একটি শক্তিশালী ব্যাটালিয়ন বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে আসছে।

বিমানবন্দরে শহীদদের কফিন গ্রহণের সময় সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং শোকাতুর স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন। শহীদ শান্তিরক্ষীদের এই বিদেহী আত্মার সম্মানার্থে যথাযথ রাষ্ট্রীয় ও সামরিক আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহগুলো নিজ নিজ গ্রাম ও জেলায় দাফনের জন্য পাঠানো হবে।

এই মর্মান্তিক ঘটনার পর জাতিসংঘ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহল গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং শান্তিরক্ষীদের ওপর এ ধরনের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। শহীদদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে সরকার ও সেনাবাহিনী তাদের পাশে থাকার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে।