ঢাকা ০৫:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘৫০ হাজার পুলিশ থাকলেও ঘরে ঢুকে মারব’, দুর্ধর্ষ ইমনের অডিও বার্তায় তোলপাড় চট্টগ্রাম

‘প্রশাসন তোকে কয়দিন পাহারা দেবে? তোর ভাইকে ১০ হাজার মানুষের সামনে বুক ফুলিয়ে মেরেছি। তুই ৫০ হাজার পুলিশের পাহাড়ায় থাকলেও লাভ নেই, ঘরে ঢুকে তোকে শেষ করে দেব। তোকে এমনভাবে গুলি করব যে তোর শরীর বোলতার বাসার মতো ঝাঁঝরা হয়ে যাবে।’চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ গালিগালাজ আর এমন হাড়হিম করা হুমকি সংবলিত একটি অডিও ক্লিপ এখন বন্দরনগরীর মানুষের মুখে মুখে।

ভয়াবহ এই হুমকির শিকার হয়েছেন নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানা শ্রমিক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজ উদ্দিন। আর এই হুমকির নেপথ্যে যার নাম উঠে এসেছে, তিনি চট্টগ্রামের অপরাধ জগতের এক আতঙ্কের নাম— মোবারক হোসেন ওরফে ইমন। পুলিশের খাতায় তিনি মোস্ট ওয়ান্টেড, কিন্তু বাস্তবে তিনি যেন এক ‘অদৃশ্য ছায়া’, যাকে খুঁজে পাচ্ছে না আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ২ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের ওই অডিও ক্লিপটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, অপরাধীদের দুঃসাহস কতটা চরমে পৌঁছেছে। সেখানে ইমন দাবি করছেন, আজিজের ভাই সরোয়ার হোসেন ওরফে বাবলাকে তিনিই হত্যা করেছেন। শুধু তাই নয়, খুনের সংখ্যা নিয়ে দম্ভোক্তি করে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘একটি খুন করলে যে সাজা, দশটি করলেও একই সাজা।

হুমকি পাওয়া আজিজ উদ্দিনের ভাই সরোয়ার হোসেন বাবলা ছিলেন বায়েজিদ এলাকার পরিচিত মুখ। গত বছরের ৫ নভেম্বর বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে তিনি নিহত হন। সেই খুনের দায় প্রকাশ্যে স্বীকার করে এখন তার ভাইকেও একই পরিণতি বরণ করার হুমকি দিচ্ছেন এই দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী।

চট্টগ্রামের অপরাধ মানচিত্রে মোবারক হোসেন ওরফে ইমন এক কুখ্যাত নাম। তিনি ফটিকছড়ির কাঞ্চনগরের মো. মুসার ছেলে। পুলিশের অপরাধ নথি অনুযায়ী, ইমনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া এক্সেস রোডে জোড়া খুন এবং পতেঙ্গায় ঢাকাইয়া আকবর হত্যাসহ অন্তত ৭টি চাঞ্চল্যকর মামলা রয়েছে।

ইমন মূলত চট্টগ্রামের ত্রাস হিসেবে পরিচিত সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ‘ছোট সাজ্জাদ’-এর প্রধান সহযোগী বা ডান হাত। পুলিশ বলছে, মোবারক অস্ত্র চালনায় অত্যন্ত দক্ষ। তার হাতে ১৫-২০টি ভিন্ন ভিন্ন অত্যাধুনিক অস্ত্র থাকা অবস্থায় বেশ কিছু ছবিও পুলিশের হাতে এসেছে। মূলত বিদেশে পলাতক কুখ্যাত ‘শিবির ক্যাডার’ বড় সাজ্জাদের নেটওয়ার্ক বাংলাদেশে পরিচালনা করতেন এই ছোট সাজ্জাদ এবং তার অবর্তমানে এখন বাহিনীর হাল ধরেছেন ইমন ও রায়হান।

গত বছরের ৫ নভেম্বর বায়েজিদ বোস্তামী থানার খন্দকারপাড়া এলাকায় বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর গণসংযোগে হামলার সময় সরোয়ার হোসেন বাবলা নিহত হন। সেই ঘটনায় এরশাদ উল্লাহ নিজেও গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। পুলিশ এই হত্যাকাণ্ডের পর ১৫ জনকে গ্রেফতার করলেও মূল শুটারকে এখনও শনাক্ত করতে পারেনি।

তবে তদন্তকারী কর্মকর্তারা একটি বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছেন— বাবলার মাথায় যে গুলিটি লেগেছিল, সেটি কোনো ‘বাঁহাতি শুটার’ (Left-handed shooter) চালিয়েছিলেন। ইমনের সাম্প্রতিক এই অডিও বার্তা এবং তার পূর্বের রেকর্ড বিশ্লেষণ করে পুলিশ এখন নতুন করে ছক কষছে। তবে ইমন বিদেশি নম্বরের হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে এসব হুমকি দেওয়ায় তাকে ট্রেস করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

ভাইকে হারানোর পর এখন নিজের জীবন নিয়ে শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন আজিজ উদ্দিন। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, আমার ভাইকে প্রকাশ্য দিবালোকে মেরে ফেলার পর থেকে এই সন্ত্রাসীরা আমাকে নিয়মিত হুমকি দিচ্ছে। সর্বশেষ গত রোববার দেওয়া এই অডিও বার্তার পর আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি মৌখিকভাবে পুলিশ কমিশনার ও ওসিকে বিষয়টি জানিয়েছি।

আজিজের পরিবার বলছে, প্রশাসন অপরাধীদের গ্রেফতার করতে না পারায় তারা এখন নিজেদের ঘরেই বন্দী জীবন কাটাচ্ছেন। অপরাধীরা যেখানে প্রকাশ্যে খুনের দম্ভোক্তি করছে, সেখানে সাধারণ নাগরিকের নিরাপত্তা কোথায়— এমন প্রশ্ন এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।

বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল কবির জানান, সন্ত্রাসী মোবারককে ধরার জন্য আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। সে অত্যন্ত ধূর্ত এবং প্রযুক্তি ব্যবহার করে ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকার চেষ্টা করছে। বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে সে মাঝেমধ্যেই আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করে। আমরা তাকে গ্রেফতারে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।

চট্টগ্রামের বায়েজিদ, পাঁচলাইশ, চান্দগাঁও ও হাটহাজারী এলাকায় এক সময় রাজত্ব করতেন বড় সাজ্জাদ। তিনি দেশ ছেড়ে পালালেও তার নেটওয়ার্ক সক্রিয় রাখেন ছোট সাজ্জাদ। গত বছরের ১৫ মার্চ ছোট সাজ্জাদ ঢাকায় গ্রেফতার হলেও তার বাহিনীর দৌরাত্ম্য কমেনি। বর্তমানে ইমনের নেতৃত্বে এই বাহিনী চাঁদাবাজি, ভূমি দখল এবং কন্টাক্ট কিলিংয়ের মতো অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে।

চট্টগ্রামের সচেতন নাগরিক সমাজ মনে করছেন, পুলিশের নজরদারির মধ্যেও কীভাবে একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী একের পর এক অপরাধ করে যাচ্ছে এবং অডিও বার্তার মাধ্যমে প্রশাসনকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা দরকার। ইমনের কাছে থাকা বিপুল পরিমাণ অত্যাধুনিক অস্ত্রের উৎস কী এবং কারা তাকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে, তা উন্মোচিত না হলে চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
নির্বাচনী ডামাডোলের মধ্যে এই ধরনের সহিংস হুমকি রাজনৈতিক পরিবেশকেও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইমনের এই ‘ওপেন চ্যালেঞ্জ’ গ্রহণ করে তাকে আইনের আওতায় আনতে পারে কি না।

এএন

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Gojnobi biplob

Popular Post

হামের টিকা নিয়ে পূর্ববর্তী সরকারগুলো ক্ষমাহীন অপরাধ করেছে : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

‘৫০ হাজার পুলিশ থাকলেও ঘরে ঢুকে মারব’, দুর্ধর্ষ ইমনের অডিও বার্তায় তোলপাড় চট্টগ্রাম

প্রকাশের সময় : ১২:৩৪:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

‘প্রশাসন তোকে কয়দিন পাহারা দেবে? তোর ভাইকে ১০ হাজার মানুষের সামনে বুক ফুলিয়ে মেরেছি। তুই ৫০ হাজার পুলিশের পাহাড়ায় থাকলেও লাভ নেই, ঘরে ঢুকে তোকে শেষ করে দেব। তোকে এমনভাবে গুলি করব যে তোর শরীর বোলতার বাসার মতো ঝাঁঝরা হয়ে যাবে।’চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ গালিগালাজ আর এমন হাড়হিম করা হুমকি সংবলিত একটি অডিও ক্লিপ এখন বন্দরনগরীর মানুষের মুখে মুখে।

ভয়াবহ এই হুমকির শিকার হয়েছেন নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানা শ্রমিক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজ উদ্দিন। আর এই হুমকির নেপথ্যে যার নাম উঠে এসেছে, তিনি চট্টগ্রামের অপরাধ জগতের এক আতঙ্কের নাম— মোবারক হোসেন ওরফে ইমন। পুলিশের খাতায় তিনি মোস্ট ওয়ান্টেড, কিন্তু বাস্তবে তিনি যেন এক ‘অদৃশ্য ছায়া’, যাকে খুঁজে পাচ্ছে না আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ২ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের ওই অডিও ক্লিপটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, অপরাধীদের দুঃসাহস কতটা চরমে পৌঁছেছে। সেখানে ইমন দাবি করছেন, আজিজের ভাই সরোয়ার হোসেন ওরফে বাবলাকে তিনিই হত্যা করেছেন। শুধু তাই নয়, খুনের সংখ্যা নিয়ে দম্ভোক্তি করে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘একটি খুন করলে যে সাজা, দশটি করলেও একই সাজা।

হুমকি পাওয়া আজিজ উদ্দিনের ভাই সরোয়ার হোসেন বাবলা ছিলেন বায়েজিদ এলাকার পরিচিত মুখ। গত বছরের ৫ নভেম্বর বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে তিনি নিহত হন। সেই খুনের দায় প্রকাশ্যে স্বীকার করে এখন তার ভাইকেও একই পরিণতি বরণ করার হুমকি দিচ্ছেন এই দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী।

চট্টগ্রামের অপরাধ মানচিত্রে মোবারক হোসেন ওরফে ইমন এক কুখ্যাত নাম। তিনি ফটিকছড়ির কাঞ্চনগরের মো. মুসার ছেলে। পুলিশের অপরাধ নথি অনুযায়ী, ইমনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া এক্সেস রোডে জোড়া খুন এবং পতেঙ্গায় ঢাকাইয়া আকবর হত্যাসহ অন্তত ৭টি চাঞ্চল্যকর মামলা রয়েছে।

ইমন মূলত চট্টগ্রামের ত্রাস হিসেবে পরিচিত সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ‘ছোট সাজ্জাদ’-এর প্রধান সহযোগী বা ডান হাত। পুলিশ বলছে, মোবারক অস্ত্র চালনায় অত্যন্ত দক্ষ। তার হাতে ১৫-২০টি ভিন্ন ভিন্ন অত্যাধুনিক অস্ত্র থাকা অবস্থায় বেশ কিছু ছবিও পুলিশের হাতে এসেছে। মূলত বিদেশে পলাতক কুখ্যাত ‘শিবির ক্যাডার’ বড় সাজ্জাদের নেটওয়ার্ক বাংলাদেশে পরিচালনা করতেন এই ছোট সাজ্জাদ এবং তার অবর্তমানে এখন বাহিনীর হাল ধরেছেন ইমন ও রায়হান।

গত বছরের ৫ নভেম্বর বায়েজিদ বোস্তামী থানার খন্দকারপাড়া এলাকায় বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর গণসংযোগে হামলার সময় সরোয়ার হোসেন বাবলা নিহত হন। সেই ঘটনায় এরশাদ উল্লাহ নিজেও গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। পুলিশ এই হত্যাকাণ্ডের পর ১৫ জনকে গ্রেফতার করলেও মূল শুটারকে এখনও শনাক্ত করতে পারেনি।

তবে তদন্তকারী কর্মকর্তারা একটি বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছেন— বাবলার মাথায় যে গুলিটি লেগেছিল, সেটি কোনো ‘বাঁহাতি শুটার’ (Left-handed shooter) চালিয়েছিলেন। ইমনের সাম্প্রতিক এই অডিও বার্তা এবং তার পূর্বের রেকর্ড বিশ্লেষণ করে পুলিশ এখন নতুন করে ছক কষছে। তবে ইমন বিদেশি নম্বরের হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে এসব হুমকি দেওয়ায় তাকে ট্রেস করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

ভাইকে হারানোর পর এখন নিজের জীবন নিয়ে শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন আজিজ উদ্দিন। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, আমার ভাইকে প্রকাশ্য দিবালোকে মেরে ফেলার পর থেকে এই সন্ত্রাসীরা আমাকে নিয়মিত হুমকি দিচ্ছে। সর্বশেষ গত রোববার দেওয়া এই অডিও বার্তার পর আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি মৌখিকভাবে পুলিশ কমিশনার ও ওসিকে বিষয়টি জানিয়েছি।

আজিজের পরিবার বলছে, প্রশাসন অপরাধীদের গ্রেফতার করতে না পারায় তারা এখন নিজেদের ঘরেই বন্দী জীবন কাটাচ্ছেন। অপরাধীরা যেখানে প্রকাশ্যে খুনের দম্ভোক্তি করছে, সেখানে সাধারণ নাগরিকের নিরাপত্তা কোথায়— এমন প্রশ্ন এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।

বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল কবির জানান, সন্ত্রাসী মোবারককে ধরার জন্য আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। সে অত্যন্ত ধূর্ত এবং প্রযুক্তি ব্যবহার করে ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকার চেষ্টা করছে। বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে সে মাঝেমধ্যেই আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করে। আমরা তাকে গ্রেফতারে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।

চট্টগ্রামের বায়েজিদ, পাঁচলাইশ, চান্দগাঁও ও হাটহাজারী এলাকায় এক সময় রাজত্ব করতেন বড় সাজ্জাদ। তিনি দেশ ছেড়ে পালালেও তার নেটওয়ার্ক সক্রিয় রাখেন ছোট সাজ্জাদ। গত বছরের ১৫ মার্চ ছোট সাজ্জাদ ঢাকায় গ্রেফতার হলেও তার বাহিনীর দৌরাত্ম্য কমেনি। বর্তমানে ইমনের নেতৃত্বে এই বাহিনী চাঁদাবাজি, ভূমি দখল এবং কন্টাক্ট কিলিংয়ের মতো অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে।

চট্টগ্রামের সচেতন নাগরিক সমাজ মনে করছেন, পুলিশের নজরদারির মধ্যেও কীভাবে একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী একের পর এক অপরাধ করে যাচ্ছে এবং অডিও বার্তার মাধ্যমে প্রশাসনকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা দরকার। ইমনের কাছে থাকা বিপুল পরিমাণ অত্যাধুনিক অস্ত্রের উৎস কী এবং কারা তাকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে, তা উন্মোচিত না হলে চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
নির্বাচনী ডামাডোলের মধ্যে এই ধরনের সহিংস হুমকি রাজনৈতিক পরিবেশকেও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইমনের এই ‘ওপেন চ্যালেঞ্জ’ গ্রহণ করে তাকে আইনের আওতায় আনতে পারে কি না।

এএন