ঢাকা ০৫:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৫ লাখ ৬০ হাজার আনসার ও ভিডিপির সদস্য প্রস্তুত৪২ হাজার ৭৬৬টি ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনের জন্য

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনী নিরাপত্তার বৃহৎ কর্মযজ্ঞে আনসার ও ভিডিপির প্রায় ৫ লাখ ৬০ হাজার সদস্য দেশের ৪২ হাজার ৭৬৬টি ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে নবীন ও অভিজ্ঞ সদস্যদের সুষম সমন্বয় নিশ্চিত করা হয়েছে, যা মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনে কার্যকারিতা, স্থিতিশীলতা ও তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতাকে আরও সুদৃঢ় করবে।

রবিবার বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী উপ-পরিচালক ও গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. আশিকউজ্জামান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, ‘পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনার সমন্বয়ে একটি নিরাপদ, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করাই এই প্রস্তুতির মূল লক্ষ্য। এ প্রক্রিয়ার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বাহিনীর সদস্যদের দক্ষতা, যোগ্যতা ও সময়োপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা বৃদ্ধি।

নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গ্রামভিত্তিক ভিডিপি প্রশিক্ষণ, উপজেলা ও থানা পর্যায়ের আনসার কোম্পানি কমান্ডার প্রশিক্ষণ এবং অ্যাডভান্সড ও ইয়ুথ লিডারশিপ কর্মসূচিসহ বহুমুখী উদ্যোগের মাধ্যমে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার সদস্য-সদস্যাকে নিবিড় মৌলিক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।

বিশেষভাবে তারুণ্যের শক্তিকে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে প্রশিক্ষণের বয়সসীমা পূর্বের ১৮ থেকে ৩০ বছরের পরিবর্তে ১৮ থেকে ২৫ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে সৃজনশীল মেধা, প্রযুক্তিগত অভিযোজন ক্ষমতা ও শারীরিক সক্ষমতার সমন্বয়ে তরুণ প্রজন্ম রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারে।

মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকালে সদস্যদের খাদ্য ব্যবস্থাপনা ও ভাতা প্রদানে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করা হয়েছে। বাহিনীর নিজস্ব সফটওয়্যারের মাধ্যমে নির্বাচনের পূর্বেই সকলের মোতায়েন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও ডিউটি চলাকালীন খাবারের সংস্থান নিশ্চিত করা হচ্ছে।

একই সফটওয়্যারের মাধ্যমে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নির্বাচন ডিউটির ভাতা সদস্যদের নিজ নিজ একাউন্টে প্রদান ও তদারকি করা হবে। এর ফলে সদস্যরা বাহ্যিক যেকোনো অযাচিত প্রভাব থেকে মুক্ত থেকে পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনে অধিকতর উদ্বুদ্ধ হবেন।

আধুনিক নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ‘নির্বাচনী সুরক্ষা অ্যাপ’ প্রবর্তন করা হয়েছে। ভোটকেন্দ্র থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে এই অ্যাপটি ব্যবহৃত হবে, যার মাধ্যমে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বা দুর্ঘটনার তাৎক্ষণিক প্রতিবেদন, পর্যবেক্ষণ ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া সম্ভব হবে।

প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে নিয়োজিত ১৩ জন সদস্যের মধ্যে ২ জনকে বিশেষভাবে এই অ্যাপ পরিচালনার দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে, যাতে জরুরি পরিস্থিতিতে নিকটবর্তী টহল দল দ্রুততম সময়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। এই ডিজিটাল নিরাপত্তা বলয় নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও নিরাপদ করে তুলবে।

সার্বিকভাবে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও আসন্ন গণভোট সফলভাবে সম্পন্ন করতে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাহিনীর সদস্যরা প্রথম প্রতিরোধ শক্তি হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে। বিশেষ প্রয়োজনে বা ইন্টারনেট সংযোগ ব্যাহত হওয়ার মতো পরিস্থিতিতেও যাতে নিরাপত্তা কার্যক্রম ব্যাহত না হয়, সে জন্য জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ ব্যবহারের সুস্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Gojnobi biplob

Popular Post

হামের টিকা নিয়ে পূর্ববর্তী সরকারগুলো ক্ষমাহীন অপরাধ করেছে : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

৫ লাখ ৬০ হাজার আনসার ও ভিডিপির সদস্য প্রস্তুত৪২ হাজার ৭৬৬টি ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনের জন্য

প্রকাশের সময় : ০২:০০:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনী নিরাপত্তার বৃহৎ কর্মযজ্ঞে আনসার ও ভিডিপির প্রায় ৫ লাখ ৬০ হাজার সদস্য দেশের ৪২ হাজার ৭৬৬টি ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে নবীন ও অভিজ্ঞ সদস্যদের সুষম সমন্বয় নিশ্চিত করা হয়েছে, যা মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনে কার্যকারিতা, স্থিতিশীলতা ও তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতাকে আরও সুদৃঢ় করবে।

রবিবার বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী উপ-পরিচালক ও গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. আশিকউজ্জামান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, ‘পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনার সমন্বয়ে একটি নিরাপদ, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করাই এই প্রস্তুতির মূল লক্ষ্য। এ প্রক্রিয়ার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বাহিনীর সদস্যদের দক্ষতা, যোগ্যতা ও সময়োপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা বৃদ্ধি।

নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গ্রামভিত্তিক ভিডিপি প্রশিক্ষণ, উপজেলা ও থানা পর্যায়ের আনসার কোম্পানি কমান্ডার প্রশিক্ষণ এবং অ্যাডভান্সড ও ইয়ুথ লিডারশিপ কর্মসূচিসহ বহুমুখী উদ্যোগের মাধ্যমে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার সদস্য-সদস্যাকে নিবিড় মৌলিক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।

বিশেষভাবে তারুণ্যের শক্তিকে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে প্রশিক্ষণের বয়সসীমা পূর্বের ১৮ থেকে ৩০ বছরের পরিবর্তে ১৮ থেকে ২৫ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে সৃজনশীল মেধা, প্রযুক্তিগত অভিযোজন ক্ষমতা ও শারীরিক সক্ষমতার সমন্বয়ে তরুণ প্রজন্ম রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারে।

মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকালে সদস্যদের খাদ্য ব্যবস্থাপনা ও ভাতা প্রদানে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করা হয়েছে। বাহিনীর নিজস্ব সফটওয়্যারের মাধ্যমে নির্বাচনের পূর্বেই সকলের মোতায়েন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও ডিউটি চলাকালীন খাবারের সংস্থান নিশ্চিত করা হচ্ছে।

একই সফটওয়্যারের মাধ্যমে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নির্বাচন ডিউটির ভাতা সদস্যদের নিজ নিজ একাউন্টে প্রদান ও তদারকি করা হবে। এর ফলে সদস্যরা বাহ্যিক যেকোনো অযাচিত প্রভাব থেকে মুক্ত থেকে পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনে অধিকতর উদ্বুদ্ধ হবেন।

আধুনিক নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ‘নির্বাচনী সুরক্ষা অ্যাপ’ প্রবর্তন করা হয়েছে। ভোটকেন্দ্র থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে এই অ্যাপটি ব্যবহৃত হবে, যার মাধ্যমে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বা দুর্ঘটনার তাৎক্ষণিক প্রতিবেদন, পর্যবেক্ষণ ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া সম্ভব হবে।

প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে নিয়োজিত ১৩ জন সদস্যের মধ্যে ২ জনকে বিশেষভাবে এই অ্যাপ পরিচালনার দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে, যাতে জরুরি পরিস্থিতিতে নিকটবর্তী টহল দল দ্রুততম সময়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। এই ডিজিটাল নিরাপত্তা বলয় নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও নিরাপদ করে তুলবে।

সার্বিকভাবে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও আসন্ন গণভোট সফলভাবে সম্পন্ন করতে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাহিনীর সদস্যরা প্রথম প্রতিরোধ শক্তি হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে। বিশেষ প্রয়োজনে বা ইন্টারনেট সংযোগ ব্যাহত হওয়ার মতো পরিস্থিতিতেও যাতে নিরাপত্তা কার্যক্রম ব্যাহত না হয়, সে জন্য জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ ব্যবহারের সুস্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।’