ঢাকা ১০:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে হারানো দেড় লাখ টাকা ফিরিয়ে দিলেন চা বিক্রেতা

ফরিদপুরের ভাঙ্গা পৌরসভায় সততার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন চায়ের দোকানদার জুবায়ের মিয়া (৪২)। তার আন্তরিকতা ও নৈতিকতার কারণে হারিয়ে যাওয়া এক লাখ ৫৭ হাজার টাকা ফিরে পেয়েছেন এক বৃদ্ধ। টাকা হাতে পেয়ে আনন্দে আপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।

জানা যায়, গত ৯ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ভাঙ্গা পৌরসভার একটি চায়ের দোকানে ভুলে টাকার ব্যাগ ফেলে যান আলগী ইউনিয়নের শাহ মুল্লুকদী গ্রামের বাসিন্দা মিরাজ শেখ (৬৬)। তিনি হৃদরোগে ভুগছিলেন। চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে ভাঙ্গায় এসে ডাক্তারকে না পেয়ে ফেরার পথে জুবায়ের মিয়ার দোকানে চা পান করেন। এরপর অসাবধানতাবশত টাকার ব্যাগটি সেখানেই রেখে বাড়ি ফিরে যান।

দোকানে টাকার ব্যাগটি পেয়ে হতবাক হয়ে যান জুবায়ের মিয়া। তবে এক মুহূর্তের জন্যও অন্যের টাকা নিজের করে নেয়ার চিন্তা করেননি তিনি। প্রকৃত মালিককে খুঁজে বের করতে পরদিনই নিজ খরচে পৌর এলাকার বিভিন্ন মহল্লায় মাইকিং করান। পাশাপাশি বিষয়টি তিনি ভাঙ্গার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদরুল আলমকে অবহিত করে সহযোগিতা চান।

মাইকিংয়ের খবর শুনে মিরাজ শেখ বুঝতে পারেন, তিনি সম্ভবত ওই দোকানেই টাকার ব্যাগটি ফেলে এসেছিলেন। এর আগে তিনি জানতেনই না টাকা কোথায় হারিয়েছে। এমনকি লজ্জায় স্ত্রীকেও বিষয়টি জানাননি। টাকার চিন্তায় অসুস্থতাও বেড়ে যায় তার।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে প্রয়োজনীয় প্রমাণ উপস্থাপনের পর মিরাজ শেখের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে এক লাখ ৫৭ হাজার টাকা তুলে দেওয়া হয়।

জুবায়ের মিয়া বলেন, টাকার ব্যাগ পেয়ে আমি অবাক হয়ে যাই। কিন্তু অন্যের টাকা রাখার ক্ষমতা আমার নেই। সততার সঙ্গে জীবন যাপন করাই আমার লক্ষ্য। তাই প্রকৃত মালিককে খুঁজে বের করতে মাইকিং করেছি এবং প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়েছি। আজ প্রকৃত মালিকের হাতে টাকা তুলে দিতে পেরে আমি সত্যিই আনন্দিত।

অন্যদিকে মিরাজ শেখ বলেন, এই টাকা আমি বহু কষ্টে চিকিৎসার জন্য সঞ্চয় করেছি। হারিয়ে যাওয়ার পর খুব ভেঙে পড়েছিলাম। ভাবিনি কেউ এত বড় অঙ্কের টাকা ফিরিয়ে দিতে মাইকিং করবে। জুবায়ের মিয়া সৎ মানুষ বলেই আজ আমি আমার চিকিৎসার টাকা ফিরে পেয়েছি। এই টাকা না পেলে আমার চিকিৎসাই হতো না।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদরুল আলম বলেন, জুবায়ের মিয়া সততার এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। প্রমাণ সাপেক্ষে প্রকৃত মালিকের হাতে টাকা তুলে দিতে পেরে আমরা আনন্দিত।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Gojnobi biplob

স্বামী বিদেশে থাকতেই অন্তঃসত্ত্বা, পরে গোপন গর্ভপাতের অভিযোগ চিকিৎসা প্রতিবেদনে ‘অসম্পূর্ণ গর্ভপাত’, এফিডেভিটের পর ঘটনাপ্রবাহ ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য

ফরিদপুরে হারানো দেড় লাখ টাকা ফিরিয়ে দিলেন চা বিক্রেতা

প্রকাশের সময় : ০৪:০৭:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬

ফরিদপুরের ভাঙ্গা পৌরসভায় সততার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন চায়ের দোকানদার জুবায়ের মিয়া (৪২)। তার আন্তরিকতা ও নৈতিকতার কারণে হারিয়ে যাওয়া এক লাখ ৫৭ হাজার টাকা ফিরে পেয়েছেন এক বৃদ্ধ। টাকা হাতে পেয়ে আনন্দে আপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।

জানা যায়, গত ৯ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ভাঙ্গা পৌরসভার একটি চায়ের দোকানে ভুলে টাকার ব্যাগ ফেলে যান আলগী ইউনিয়নের শাহ মুল্লুকদী গ্রামের বাসিন্দা মিরাজ শেখ (৬৬)। তিনি হৃদরোগে ভুগছিলেন। চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে ভাঙ্গায় এসে ডাক্তারকে না পেয়ে ফেরার পথে জুবায়ের মিয়ার দোকানে চা পান করেন। এরপর অসাবধানতাবশত টাকার ব্যাগটি সেখানেই রেখে বাড়ি ফিরে যান।

দোকানে টাকার ব্যাগটি পেয়ে হতবাক হয়ে যান জুবায়ের মিয়া। তবে এক মুহূর্তের জন্যও অন্যের টাকা নিজের করে নেয়ার চিন্তা করেননি তিনি। প্রকৃত মালিককে খুঁজে বের করতে পরদিনই নিজ খরচে পৌর এলাকার বিভিন্ন মহল্লায় মাইকিং করান। পাশাপাশি বিষয়টি তিনি ভাঙ্গার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদরুল আলমকে অবহিত করে সহযোগিতা চান।

মাইকিংয়ের খবর শুনে মিরাজ শেখ বুঝতে পারেন, তিনি সম্ভবত ওই দোকানেই টাকার ব্যাগটি ফেলে এসেছিলেন। এর আগে তিনি জানতেনই না টাকা কোথায় হারিয়েছে। এমনকি লজ্জায় স্ত্রীকেও বিষয়টি জানাননি। টাকার চিন্তায় অসুস্থতাও বেড়ে যায় তার।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে প্রয়োজনীয় প্রমাণ উপস্থাপনের পর মিরাজ শেখের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে এক লাখ ৫৭ হাজার টাকা তুলে দেওয়া হয়।

জুবায়ের মিয়া বলেন, টাকার ব্যাগ পেয়ে আমি অবাক হয়ে যাই। কিন্তু অন্যের টাকা রাখার ক্ষমতা আমার নেই। সততার সঙ্গে জীবন যাপন করাই আমার লক্ষ্য। তাই প্রকৃত মালিককে খুঁজে বের করতে মাইকিং করেছি এবং প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়েছি। আজ প্রকৃত মালিকের হাতে টাকা তুলে দিতে পেরে আমি সত্যিই আনন্দিত।

অন্যদিকে মিরাজ শেখ বলেন, এই টাকা আমি বহু কষ্টে চিকিৎসার জন্য সঞ্চয় করেছি। হারিয়ে যাওয়ার পর খুব ভেঙে পড়েছিলাম। ভাবিনি কেউ এত বড় অঙ্কের টাকা ফিরিয়ে দিতে মাইকিং করবে। জুবায়ের মিয়া সৎ মানুষ বলেই আজ আমি আমার চিকিৎসার টাকা ফিরে পেয়েছি। এই টাকা না পেলে আমার চিকিৎসাই হতো না।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদরুল আলম বলেন, জুবায়ের মিয়া সততার এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। প্রমাণ সাপেক্ষে প্রকৃত মালিকের হাতে টাকা তুলে দিতে পেরে আমরা আনন্দিত।