ঢাকা ০৭:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেড় দিনের তেল বিক্রি হচ্ছে মাত্র ২ ঘণ্টায় : জ্বালানি মন্ত্রী

  • বেঙ্গল নিউজ ডেক্স
  • প্রকাশের সময় : ০৪:৩০:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
  • ২৮১ বার পড়া হয়েছে

দেশে চলমান জ্বালানি তেলের সংকটকে ‘বাস্তব সংকটের চেয়ে মানসিক আতঙ্ক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি দেশের বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেন।

মন্ত্রীর দাবি অনুযায়ী, দেশে তেলের সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকলেও আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি এবং বিশেষ করে ইরান কেন্দ্রিক সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের ‘আতঙ্ক’ তৈরি হয়েছে। যার ফলে সাধারণ সময়ের চেয়ে বহুগুণ বেশি তেল একযোগে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে।

জ্বালানি মন্ত্রী সংসদে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে বলেন, আগে যে পরিমাণ তেল বিক্রি হতে দেড় দিন বা ৩৬ ঘণ্টা সময় লাগত, বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই একই পরিমাণ তেল মাত্র ২ ঘণ্টার মধ্যে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে।

তিনি বিষয়টিকে ‘প্যানিক বায়িং’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পাম্পগুলোতে ভিড় করছে। একজনের হয়তো ৫ লিটার তেল প্রয়োজন, কিন্তু সে আতঙ্কে ২০ লিটার নিয়ে রাখছে। এই গণ-অস্থিরতার কারণেই পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন তৈরি হচ্ছে এবং দ্রুত মজুত ফুরিয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরও যোগ করেন, সরকার যে পরিমাণ তেল সরবরাহ করার কথা, ঠিক সেই পরিমাণই দিচ্ছে। কিন্তু চাহিদার এই অস্বাভাবিক উল্লম্ফন সামাল দেওয়া যেকোনো ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেমের জন্যই চ্যালেঞ্জিং।

মন্ত্রী উল্লেখ করেন, ইরানের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের পর থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার একটি গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এই গুজবের ওপর ভিত্তি করেই দেশীয় বাজারে এক ধরনের কৃত্রিম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “জ্বালানি নেই এই তথ্যটি সম্পূর্ণ অসত্য। আমাদের মজুত পর্যাপ্ত, তবে সরবরাহ ব্যবস্থাকে স্থিতিশীল রাখতে জনগণের শান্ত থাকা জরুরি।

জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন ইকবাল হাসান মাহমুদ। বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি বিবেচনা করে তিনি দেশবাসীকে অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান।

সংসদে তিনি কয়েকটি সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার কথা পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেন, সকল বিপণিবিতান, শপিংমল এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের বাইরের আলোকসজ্জা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সরকারি-বেসরকারি সকল অফিসে এয়ার কন্ডিশনার (AC) এর তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে না রাখার জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ খরচ কমিয়ে সেই বিদ্যুৎ উৎপাদনশীল খাতে ব্যবহারের ওপর তিনি জোর দেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Gojnobi biplob

Popular Post

নেত্রকোণার মদনে পরীক্ষা কেন্দ্রে অবাধে নকলের অভিযোগ:

দেড় দিনের তেল বিক্রি হচ্ছে মাত্র ২ ঘণ্টায় : জ্বালানি মন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০৪:৩০:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

দেশে চলমান জ্বালানি তেলের সংকটকে ‘বাস্তব সংকটের চেয়ে মানসিক আতঙ্ক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি দেশের বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেন।

মন্ত্রীর দাবি অনুযায়ী, দেশে তেলের সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকলেও আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি এবং বিশেষ করে ইরান কেন্দ্রিক সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের ‘আতঙ্ক’ তৈরি হয়েছে। যার ফলে সাধারণ সময়ের চেয়ে বহুগুণ বেশি তেল একযোগে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে।

জ্বালানি মন্ত্রী সংসদে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে বলেন, আগে যে পরিমাণ তেল বিক্রি হতে দেড় দিন বা ৩৬ ঘণ্টা সময় লাগত, বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই একই পরিমাণ তেল মাত্র ২ ঘণ্টার মধ্যে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে।

তিনি বিষয়টিকে ‘প্যানিক বায়িং’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পাম্পগুলোতে ভিড় করছে। একজনের হয়তো ৫ লিটার তেল প্রয়োজন, কিন্তু সে আতঙ্কে ২০ লিটার নিয়ে রাখছে। এই গণ-অস্থিরতার কারণেই পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন তৈরি হচ্ছে এবং দ্রুত মজুত ফুরিয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরও যোগ করেন, সরকার যে পরিমাণ তেল সরবরাহ করার কথা, ঠিক সেই পরিমাণই দিচ্ছে। কিন্তু চাহিদার এই অস্বাভাবিক উল্লম্ফন সামাল দেওয়া যেকোনো ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেমের জন্যই চ্যালেঞ্জিং।

মন্ত্রী উল্লেখ করেন, ইরানের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের পর থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার একটি গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এই গুজবের ওপর ভিত্তি করেই দেশীয় বাজারে এক ধরনের কৃত্রিম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “জ্বালানি নেই এই তথ্যটি সম্পূর্ণ অসত্য। আমাদের মজুত পর্যাপ্ত, তবে সরবরাহ ব্যবস্থাকে স্থিতিশীল রাখতে জনগণের শান্ত থাকা জরুরি।

জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন ইকবাল হাসান মাহমুদ। বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি বিবেচনা করে তিনি দেশবাসীকে অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান।

সংসদে তিনি কয়েকটি সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার কথা পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেন, সকল বিপণিবিতান, শপিংমল এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের বাইরের আলোকসজ্জা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সরকারি-বেসরকারি সকল অফিসে এয়ার কন্ডিশনার (AC) এর তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে না রাখার জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ খরচ কমিয়ে সেই বিদ্যুৎ উৎপাদনশীল খাতে ব্যবহারের ওপর তিনি জোর দেন।