ঢাকা ০৩:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে ১ লাখ ইয়াবা উদ্ধার ওসি প্রত্যাহার

কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামে আসার পথে এক পুলিশ সদস্যের কাছ থেকে উদ্ধার করা লক্ষাধিক ইয়াবা ট্যাবলেট আত্মসাতের অভিযোগে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) কোতোয়ালি থানার ওসি আফতাব উদ্দিনকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।

একইসঙ্গে পুলিশ পরিদর্শক জায়েদ নূরকে কোতোয়ালি থানার নতুন ওসি হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। গত বুধবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী। তিনি জানান, ইয়াবা জব্দের পর তা গায়েব হয়ে যাওয়ার অভিযোগ নিয়ে প্রকাশিত তদন্ত প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আফতাব উদ্দিনকে বর্তমান পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।

পুরো বিষয়টি বর্তমানে পুলিশ সদর দপ্তরের তত্ত্বাবধানে তদন্তাধীন রয়েছে। সিএমপি সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৮ই ডিসেম্বর রাতে চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া নতুন ব্রিজ এলাকায় কক্সবাজার জেলা পুলিশের কনস্টেবল ইমতিয়াজ হোসেন সৌরভকে ঢাকাগামী একটি বাস থেকে নামিয়ে তল্লাশি চালায় বাকলিয়া থানা পুলিশের একটি দল।

অভিযোগ রয়েছে, তার বহন করা ব্যাগ থেকে প্রায় এক লাখ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হলেও তা জব্দ দেখিয়ে কোনো মামলা করা হয়নি। বরং মাদকদ্রব্য আত্মসাৎ করে সংশ্লিষ্টরা তাকে ছেড়ে দেন। ঘটনার সময় আফতাব উদ্দিন বাকলিয়া থানার ওসি হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। পরে তিনি কোতোয়ালি থানার ওসি হিসেবে যোগ দেন।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সিএমপি’র গঠিত একটি তদন্ত কমিটি অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পায়। তদন্তের ভিত্তিতে চলতি বছরের ৫ই জানুয়ারি বাকলিয়া থানার আট পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরে গত ৯ই জুন তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) তানভীর আহমেদকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, কক্সবাজার জেলা আদালতের এক বিচারকের গানম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী কনস্টেবল ইমতিয়াজ হোসেন ইয়াবাভর্তি একটি লাগেজ নিয়ে চট্টগ্রামে আসছিলেন।

কর্ণফুলী শাহ আমানত সেতু অতিক্রম করার পর তাকে আটক করা হয়। কিন্তু উদ্ধার হওয়া মাদকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা না নিয়ে তা নিজেদের হেফাজতে নেয়া হয় এবং বহনকারীকে ছেড়ে দেয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে অভিযানে অংশ নেয়া কয়েকজন পুলিশ সদস্যের নামও উঠে এসেছে।

তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও ফৌজদারি ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিত মামলা দায়ের, আত্মসাৎ হওয়া ইয়াবা উদ্ধার, সরবরাহকারীদের গ্রেপ্তার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তের সুপারিশ করা হয়েছে। ঘটনার প্রেক্ষাপটে প্রশাসনিক ব্যবস্থা হিসেবে ওসি আফতাব উদ্দিনকে থানা থেকে সরিয়ে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিভাগীয় তদন্ত চলমান রয়েছে বলে  জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Gojnobi biplob

Popular Post

নেত্রকোণার মদনে পরীক্ষা কেন্দ্রে অবাধে নকলের অভিযোগ:

চট্টগ্রামে ১ লাখ ইয়াবা উদ্ধার ওসি প্রত্যাহার

প্রকাশের সময় : ১১:৩৫:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামে আসার পথে এক পুলিশ সদস্যের কাছ থেকে উদ্ধার করা লক্ষাধিক ইয়াবা ট্যাবলেট আত্মসাতের অভিযোগে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) কোতোয়ালি থানার ওসি আফতাব উদ্দিনকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।

একইসঙ্গে পুলিশ পরিদর্শক জায়েদ নূরকে কোতোয়ালি থানার নতুন ওসি হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। গত বুধবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী। তিনি জানান, ইয়াবা জব্দের পর তা গায়েব হয়ে যাওয়ার অভিযোগ নিয়ে প্রকাশিত তদন্ত প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আফতাব উদ্দিনকে বর্তমান পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।

পুরো বিষয়টি বর্তমানে পুলিশ সদর দপ্তরের তত্ত্বাবধানে তদন্তাধীন রয়েছে। সিএমপি সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৮ই ডিসেম্বর রাতে চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া নতুন ব্রিজ এলাকায় কক্সবাজার জেলা পুলিশের কনস্টেবল ইমতিয়াজ হোসেন সৌরভকে ঢাকাগামী একটি বাস থেকে নামিয়ে তল্লাশি চালায় বাকলিয়া থানা পুলিশের একটি দল।

অভিযোগ রয়েছে, তার বহন করা ব্যাগ থেকে প্রায় এক লাখ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হলেও তা জব্দ দেখিয়ে কোনো মামলা করা হয়নি। বরং মাদকদ্রব্য আত্মসাৎ করে সংশ্লিষ্টরা তাকে ছেড়ে দেন। ঘটনার সময় আফতাব উদ্দিন বাকলিয়া থানার ওসি হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। পরে তিনি কোতোয়ালি থানার ওসি হিসেবে যোগ দেন।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সিএমপি’র গঠিত একটি তদন্ত কমিটি অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পায়। তদন্তের ভিত্তিতে চলতি বছরের ৫ই জানুয়ারি বাকলিয়া থানার আট পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরে গত ৯ই জুন তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) তানভীর আহমেদকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, কক্সবাজার জেলা আদালতের এক বিচারকের গানম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী কনস্টেবল ইমতিয়াজ হোসেন ইয়াবাভর্তি একটি লাগেজ নিয়ে চট্টগ্রামে আসছিলেন।

কর্ণফুলী শাহ আমানত সেতু অতিক্রম করার পর তাকে আটক করা হয়। কিন্তু উদ্ধার হওয়া মাদকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা না নিয়ে তা নিজেদের হেফাজতে নেয়া হয় এবং বহনকারীকে ছেড়ে দেয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে অভিযানে অংশ নেয়া কয়েকজন পুলিশ সদস্যের নামও উঠে এসেছে।

তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও ফৌজদারি ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিত মামলা দায়ের, আত্মসাৎ হওয়া ইয়াবা উদ্ধার, সরবরাহকারীদের গ্রেপ্তার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তের সুপারিশ করা হয়েছে। ঘটনার প্রেক্ষাপটে প্রশাসনিক ব্যবস্থা হিসেবে ওসি আফতাব উদ্দিনকে থানা থেকে সরিয়ে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিভাগীয় তদন্ত চলমান রয়েছে বলে  জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র ।