
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে ১০ বছর বয়সী এক মানসিক প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার প্রধান আসামি মহন তালুকদার (২৫) থানায় আত্মসমর্পণ করেছেন। শুক্রবার (২০ জুন) দিবাগত রাত ১২টা ৫০ মিনিটে তিনি সশরীরে মোহনগঞ্জ থানায় এসে আত্মসমর্পণ করেন।
অভিযুক্ত মহন তালুকদার মোহনগঞ্জ পৌরশহরের দৌলতপুর এলাকার আবুল কালাম আজাদের ছেলে। তিনি পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক পদে ছিলেন। ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর দল থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়। মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন আসামির আত্মসমর্পণের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শনিবার (২১ জুন) তাকে আদালতে প্রেরণ করা হবে।
থানায় আত্মসমর্পণ করার আগে মহন তালুকদার সাংবাদিকদের বলেন, “আমি বাংলাদেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বলছি, আমার সম্পর্কে যে অভিযোগটা নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে, সে অভিযোগটি মিথ্যা ও বানোয়াট। এজন্য আমি মোহনগঞ্জ থানার প্রতি বিশ্বাস রেখে, আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সারেন্ডার করছি। আইনের কাছে আমি সুষ্ঠু বিচার চাই।
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শিশুটির বাবা জীবিকার তাগিদে দেশের বিভিন্ন এলাকায় দিনমজুরের কাজ করেন। মা স্থানীয়ভাবে বাসাবাড়িতে কাজ করে তিন মেয়েকে নিয়ে সংসার চালান। মামলা হওয়ার পর থেকে দীর্ঘ দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে না পারায় ক্ষোভ ছিল পরিবারের।
এই সময়ে আসামি গা-ঢাকা দিয়ে থাকলেও নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইলে একাধিক পোস্ট করে আসছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৯ ডিসেম্বর দুপুরে শিশুটির মা কাজের জন্য বাইরে গেলে ঘরে শিশুটি ও তার দুই ছোট বোন একা ছিল। এই সুযোগে প্রতিবেশী মহন তালুকদার ঘরে প্রবেশ করে শিশুটিকে ধর্ষণ করেন।
বিষয়টি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ায় ভয়ে শিশুটি দীর্ঘদিন ঘটনাটি গোপন রাখে। চলতি বছরের ১২ মার্চ শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে এবং তার শারীরিক গঠনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে পরিবারের জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সে ধর্ষণের বিষয়টি প্রকাশ করে। এরপর ১৩ ও ১৫ মার্চ স্থানীয় দুটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আলট্রাসনোগ্রাফি করালে শিশুটির গর্ভবতী হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়।
বর্তমানে শিশুটি ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, গত ১৩ মার্চ আইনি সহায়তার জন্য তারা মোহনগঞ্জ থানায় গেলে পুলিশ তাদের আদালতে অভিযোগ করার পরামর্শ দেয়। পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যদের সাথে পরামর্শ করে শিশুটির মা বাদী হয়ে গত ২৮ এপ্রিল আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে মোহনগঞ্জ থানাকে মামলা রেকর্ডের নির্দেশ দিলে গত ২ মে থানায় আনুষ্ঠানিকভাবে মামলাটি রুজু করা হয়।
নেত্রকোনা প্রতিনিধি 










