ঢাকা ০১:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের গাড়িচালক মুতাসিন হুসাইন সিরাজীর মৃত্যু ঘিরে রহস্য

ছবি সংগৃহীতঃ
নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার রোয়াইলবাড়ি ইউনিয়নের রহিমপুর (গামরুলী) গ্রামের বাসিন্দা মরহুম মুসলেম উদ্দিন আকন্দের তৃতীয় ছেলে মুতাসিন হুসাইন সিরাজী (প্রজ্জ্বল)-এর আকস্মিক মৃত্যু ঘিরে এলাকায় নানা প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি হয়েছে।পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে গাড়িচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং পরিবার নিয়ে ঢাকার মিরপুর পাইকপাড়ার অফিসার্স কোয়ার্টারে বসবাস করতেন।স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, ১ জুলাই ভোরে তার স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা রোফ ডরিন ফোন করে আত্মীয়দের জানান, তার স্বামী বিছানায় নড়াচড়া করতে পারছেন না এবং সম্ভবত স্ট্রোক করেছেন। কিছু সময় পরই তার মৃত্যুর খবর দেওয়া হয়।পরে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একটি ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে আনা হলে স্বজন ও স্থানীয়দের একাংশের দাবি, মৃতের কপাল, গাল ও ঘাড়ে আঘাতের মতো কিছু চিহ্ন দেখা যায়।
একই সঙ্গে তার স্ত্রীর গালেও আঘাতের চিহ্ন লক্ষ্য করা গেছে বলে তারা দাবি করেন। এ ঘটনায় এলাকায় সন্দেহ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদের সময় মৃতের স্ত্রী জানান, আগের রাতে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছিল। তার ধারণা, ওই ঘটনার পর স্ট্রোকের কারণে তার স্বামীর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।স্বজনদের অভিযোগ, অসুস্থ হওয়ার পর তাকে কোনো হাসপাতালে নেওয়া হয়নি।এদিকে, পরিবারের সদস্যদের বক্তব্যেও কিছু অসামঞ্জস্যের অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব বিষয়ের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম জানান, “খবর পেয়ে কেন্দুয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে, উপস্থিত ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণ করে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য থানায় নিয়ে আসে এবং ২ জুলাই মরদেহ নেত্রকোণার মর্গে পাঠানো হয়।” স্বজনদের দাবি, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও বিজ্ঞানভিত্তিক তদন্ত করা হোক। তারা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পৃথকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ, প্রয়োজনীয় আলামত সংরক্ষণ এবং ডিজিটাল তথ্য-উপাত্ত যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের আহ্বান জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু ছবি ও ভিডিও নিয়ে আলোচনা থাকলেও সেগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Gojnobi biplob

Popular Post

নেত্রকোণার মদনে পরীক্ষা কেন্দ্রে অবাধে নকলের অভিযোগ:

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের গাড়িচালক মুতাসিন হুসাইন সিরাজীর মৃত্যু ঘিরে রহস্য

প্রকাশের সময় : ১০:১৬:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
ছবি সংগৃহীতঃ
নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার রোয়াইলবাড়ি ইউনিয়নের রহিমপুর (গামরুলী) গ্রামের বাসিন্দা মরহুম মুসলেম উদ্দিন আকন্দের তৃতীয় ছেলে মুতাসিন হুসাইন সিরাজী (প্রজ্জ্বল)-এর আকস্মিক মৃত্যু ঘিরে এলাকায় নানা প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি হয়েছে।পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে গাড়িচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং পরিবার নিয়ে ঢাকার মিরপুর পাইকপাড়ার অফিসার্স কোয়ার্টারে বসবাস করতেন।স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, ১ জুলাই ভোরে তার স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা রোফ ডরিন ফোন করে আত্মীয়দের জানান, তার স্বামী বিছানায় নড়াচড়া করতে পারছেন না এবং সম্ভবত স্ট্রোক করেছেন। কিছু সময় পরই তার মৃত্যুর খবর দেওয়া হয়।পরে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একটি ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে আনা হলে স্বজন ও স্থানীয়দের একাংশের দাবি, মৃতের কপাল, গাল ও ঘাড়ে আঘাতের মতো কিছু চিহ্ন দেখা যায়।
একই সঙ্গে তার স্ত্রীর গালেও আঘাতের চিহ্ন লক্ষ্য করা গেছে বলে তারা দাবি করেন। এ ঘটনায় এলাকায় সন্দেহ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদের সময় মৃতের স্ত্রী জানান, আগের রাতে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছিল। তার ধারণা, ওই ঘটনার পর স্ট্রোকের কারণে তার স্বামীর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।স্বজনদের অভিযোগ, অসুস্থ হওয়ার পর তাকে কোনো হাসপাতালে নেওয়া হয়নি।এদিকে, পরিবারের সদস্যদের বক্তব্যেও কিছু অসামঞ্জস্যের অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব বিষয়ের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম জানান, “খবর পেয়ে কেন্দুয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে, উপস্থিত ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণ করে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য থানায় নিয়ে আসে এবং ২ জুলাই মরদেহ নেত্রকোণার মর্গে পাঠানো হয়।” স্বজনদের দাবি, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও বিজ্ঞানভিত্তিক তদন্ত করা হোক। তারা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পৃথকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ, প্রয়োজনীয় আলামত সংরক্ষণ এবং ডিজিটাল তথ্য-উপাত্ত যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের আহ্বান জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু ছবি ও ভিডিও নিয়ে আলোচনা থাকলেও সেগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।