
প্রেম থেকে পরিণয়, তারপর এক অপূরণীয় ভুল মাত্র তিন মাস আগে জীবনের নতুন অধ্যায়ে পা রাখা বিথি খাতুন হঠাৎ করেই হারিয়ে গেলেন আপনজনদের জীবন থেকে। মায়ের বুক খালি করে, সমাজকে প্রশ্নবিদ্ধ করে, এক গভীর অভিমান তাকে নিয়ে গেল অন্ধকারের অতলে। এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা ঝিনাইদহের শৈলকুপার নাগপাড়া গ্রামে।
বিথির পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পরিচয় হয় ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার জোরবাড়িয়া গ্রামের সেনা সদস্য জামান মিয়ার সঙ্গে। পরিচয় থেকে গড়ে ওঠে ভালোবাসা। সেই ভালোবাসা এক সময় পরিণত হয় দাম্পত্য জীবনে। বিয়ের শুরুতে সবকিছু ছিল স্বপ্নের মতো, তবে ধীরে ধীরে সেই স্বপ্নে ফাটল ধরতে থাকে। বিথির মনে সন্দেহ জন্মায়—জামান মিয়া আরেক নারীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছেন। বিষয়টি নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে একাধিকবার উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। ঘটনার দিন দুপুরে মোবাইল ফোনে এক পর্যায়ে কথাকাটাকাটির পর, একরাশ অভিমান নিয়ে বিথি চলে যান নিজের শয়নকক্ষে।
সেখানেই ঘটে যায় সেই দুঃসহ মুহূর্ত। দ্রুত তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হলেও, ততক্ষণে থমকে গেছে তার স্পন্দন। বিথির মা বলেন, “মেয়ের বিয়ে হয়েছে মাত্র তিন মাস আগে। জামাইয়ের পরকীয়া ছিল কিনা তা আমরা জানি না। ফোনে কী কথা হয়েছে, সেটাও জানি না। বিথি আমাদের কিছুই বলেনি। না বলেই এমন একটা কঠিন কাজ করে গেল।” শৈলকুপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুম খান জানান, “বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা রুজু হয়েছে।” একটি ভুল সিদ্ধান্ত যে কত বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে, বিথির গল্প যেন তার জ্বলন্ত উদাহরণ। ভালোবাসা, বিশ্বাস আর স্বজনদের সঙ্গে খোলামেলা কথোপকথনের অভাব কীভাবে একটি সুন্দর জীবনকেই থমকে দিতে পারে, সেটাই যেন বলে গেল এই করুণ বিদায়।
ময়মনসিংহ প্রতিনিধিঃ 








