ঢাকা ০৮:১০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নৈরাজ্যের অবসান হতে হবে মন্তব্য শিক্ষার্থীদের

ছবি সংগৃহিত

অসতর্কতাবশত এক শিক্ষার্থীর ফেলা থুতু অন্য এক শিক্ষার্থীর শরীরে লাগাকে কেন্দ্র করে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের রাতভর সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ঘটনাকে সামাজিক অসহিষ্ণুতা ও আইনশৃঙ্খলার ভঙ্গুর পরিস্থিতি থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেখার সুযোগ নেই।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেপরোয়া সংঘাত প্রায় নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। এ ধরনের নৈরাজ্যিক কর্মকাণ্ডে একদিকে যেমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিপুল সম্পদের ক্ষতিসাধন হচ্ছে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনও ব্যাহত হচ্ছে, আবার সংঘাতে জড়িয়ে আহতও হচ্ছেন অসংখ্য শিক্ষার্থী। এই পরিস্থিতি শিক্ষার্থী, অভিভাবক, নাগরিক—সবার জন্যই চরম উদ্বেগের।

রোববার রাতে ঢাকার আশুলিয়ায় বেসরকারি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ১৫০ শিক্ষার্থী আহত হন। সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীর একটি মেসে হামলা চালান।

অন্যদিকে ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা সিটি ইউনিভার্সিটিতে হামলা চালিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিকে লন্ডভন্ড করে দেন। ১৩টি গাড়ি আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। উপাচার্য, ট্রেজারার ও রেজিস্ট্রার কক্ষ ভাঙচুর করা হয়, নথিপত্রও নিয়ে যাওয়া হয়। সিটি ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ঘটনায় তাদের ২০-২৫ কোটি টাকার সম্পদ বিনষ্ট হয়েছে।

সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে বাংলাদেশে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা দেড় শ ছাড়িয়েছে। জনসংখ্যার বিচারে উচ্চশিক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীর অনুপাত এখন প্রায় ২০ শতাংশ। এটা সম্ভব হয়েছে সরকারি ও ব্যক্তি উদ্যোগে অবকাঠামোগত বিনিয়োগের ফলে।

কিন্তু উচ্চশিক্ষার মান ও উদ্দেশ্য নিয়ে বরাবরই বড় প্রশ্ন রয়ে গেছে। উচ্চশিক্ষা যেখানে একজন শিক্ষার্থীকে পরমতসহিষ্ণু, উদার, মানবিক করে তোলার কথা, দুর্ভাগ্যজনকভাবে তার বিপরীত যাত্রাটাই আমরা লক্ষ করছি। ফলে আমাদের শিক্ষাদর্শনে যে বড় গলদ রয়ে গেছে, এই আত্মোপলব্ধিটা এখন জরুরি হয়ে পড়েছে।

দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কয়েক ঘণ্টা ধরে সংঘাতে লিপ্ত থাকলেও সেটা থামাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কোনো কার্যকর ভূমিকা নিতে দেখা যায়নি। পুলিশের এটা একটা বড় ব্যর্থতা।

বিশ্ববিদ্যালয় দুটির প্রশাসন, প্রক্টরিয়াল টিম ও ছাত্র উপদেষ্টাদের ভূমিকাও যথেষ্ট ছিল বলে আমরা মনে করি না। শিক্ষার্থীদের মধ্যে সহিষ্ণুতা, উদারতার মতো মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো নিদারুণ ব্যর্থ হচ্ছে। আমাদের অবশ্যই উত্তরণের পথ খুঁজে বের করতে হবে। এমন নৈরাজ্যের অবসান হতে হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Gojnobi biplob

স্বামী বিদেশে থাকতেই অন্তঃসত্ত্বা, পরে গোপন গর্ভপাতের অভিযোগ চিকিৎসা প্রতিবেদনে ‘অসম্পূর্ণ গর্ভপাত’, এফিডেভিটের পর ঘটনাপ্রবাহ ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নৈরাজ্যের অবসান হতে হবে মন্তব্য শিক্ষার্থীদের

প্রকাশের সময় : ১২:০২:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫

ছবি সংগৃহিত

অসতর্কতাবশত এক শিক্ষার্থীর ফেলা থুতু অন্য এক শিক্ষার্থীর শরীরে লাগাকে কেন্দ্র করে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের রাতভর সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ঘটনাকে সামাজিক অসহিষ্ণুতা ও আইনশৃঙ্খলার ভঙ্গুর পরিস্থিতি থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেখার সুযোগ নেই।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেপরোয়া সংঘাত প্রায় নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। এ ধরনের নৈরাজ্যিক কর্মকাণ্ডে একদিকে যেমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিপুল সম্পদের ক্ষতিসাধন হচ্ছে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনও ব্যাহত হচ্ছে, আবার সংঘাতে জড়িয়ে আহতও হচ্ছেন অসংখ্য শিক্ষার্থী। এই পরিস্থিতি শিক্ষার্থী, অভিভাবক, নাগরিক—সবার জন্যই চরম উদ্বেগের।

রোববার রাতে ঢাকার আশুলিয়ায় বেসরকারি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ১৫০ শিক্ষার্থী আহত হন। সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীর একটি মেসে হামলা চালান।

অন্যদিকে ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা সিটি ইউনিভার্সিটিতে হামলা চালিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিকে লন্ডভন্ড করে দেন। ১৩টি গাড়ি আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। উপাচার্য, ট্রেজারার ও রেজিস্ট্রার কক্ষ ভাঙচুর করা হয়, নথিপত্রও নিয়ে যাওয়া হয়। সিটি ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ঘটনায় তাদের ২০-২৫ কোটি টাকার সম্পদ বিনষ্ট হয়েছে।

সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে বাংলাদেশে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা দেড় শ ছাড়িয়েছে। জনসংখ্যার বিচারে উচ্চশিক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীর অনুপাত এখন প্রায় ২০ শতাংশ। এটা সম্ভব হয়েছে সরকারি ও ব্যক্তি উদ্যোগে অবকাঠামোগত বিনিয়োগের ফলে।

কিন্তু উচ্চশিক্ষার মান ও উদ্দেশ্য নিয়ে বরাবরই বড় প্রশ্ন রয়ে গেছে। উচ্চশিক্ষা যেখানে একজন শিক্ষার্থীকে পরমতসহিষ্ণু, উদার, মানবিক করে তোলার কথা, দুর্ভাগ্যজনকভাবে তার বিপরীত যাত্রাটাই আমরা লক্ষ করছি। ফলে আমাদের শিক্ষাদর্শনে যে বড় গলদ রয়ে গেছে, এই আত্মোপলব্ধিটা এখন জরুরি হয়ে পড়েছে।

দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কয়েক ঘণ্টা ধরে সংঘাতে লিপ্ত থাকলেও সেটা থামাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কোনো কার্যকর ভূমিকা নিতে দেখা যায়নি। পুলিশের এটা একটা বড় ব্যর্থতা।

বিশ্ববিদ্যালয় দুটির প্রশাসন, প্রক্টরিয়াল টিম ও ছাত্র উপদেষ্টাদের ভূমিকাও যথেষ্ট ছিল বলে আমরা মনে করি না। শিক্ষার্থীদের মধ্যে সহিষ্ণুতা, উদারতার মতো মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো নিদারুণ ব্যর্থ হচ্ছে। আমাদের অবশ্যই উত্তরণের পথ খুঁজে বের করতে হবে। এমন নৈরাজ্যের অবসান হতে হবে।