
নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার রোয়াইলবাড়ি আমতলা ইউনিয়নের চর আমতলা গ্রামের কোনাপাড়া এলাকায় এক পরিবার প্রায় এক মাস ধরে বিদ্যুৎবিহীন জীবনযাপন করছে।
এতে শিক্ষার্থী তিন শিশু ও পরিবারের জীবিকা দুটোই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ষষ্ঠ শ্রেণির সাদিয়া, তৃতীয় শ্রেণির সায়মা ও দ্বিতীয় শ্রেণির সামিউল—এই তিন ভাইবোন বিদ্যুৎ না থাকায় পড়াশোনায় মনোযোগ হারাচ্ছে।
তাদের বাবা মো. আবুল কাশেম অটোগাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন, কিন্তু চার্জ দিতে না পারায় উপার্জনের পথও প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিবেশী মৃত দুলালের স্ত্রী ছফুরা বেগম (৫৫), তাঁর দেবর মো. সাইকুল ইসলাম (৪০) ও ছফুরার ছেলে ফারুক (২৬) বিদ্যুৎ সংযোগে বাধা দিচ্ছেন।
এ বিষয়ে গত ২৬ অক্টোবর আবুল কাশেম কেন্দুয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজারের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। জানা যায়, ২০২২ সালে ছফুরা বেগমের বাড়ির সীমানার খুঁটি থেকে কাশেমের বাড়িতে সংযোগ নেওয়া হয়। কিন্তু এক মাস আগে ঝড়ে গাছ পড়ে তার ছিঁড়ে গেলে পল্লী বিদ্যুৎ কর্মীরা সংযোগ পুনঃস্থাপন করতে গেলে অভিযুক্তরা বাধা দেন। স্থানীয়ভাবে বহুবার অনুরোধ করেও সমাধান মেলেনি বলে জানান কাশেম।
তিনি বলেন, “বাধা দানকারীদের অনুরোধ করেছি, স্থানীয় মাতব্বরদের কাছেও গিয়েছি, কিন্তু কেউ কিছু করছে না। এখন রান্নাবান্না বন্ধ, বাচ্চারা পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারছে না।
অভিযুক্ত ছফুরা বেগম জানান, “বিদ্যুতের লাইন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় অন্যদিক দিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি। আমার দেবর সাইকুলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।” তবে সাইকুল ইসলামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, যার মধ্যে রয়েছেন রোয়াইলবাড়ি আমতলা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, আমরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছি, বিদ্যুৎ সরবরাহে বাধা দেওয়া ঠিক হয়নি। দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।” কেন্দুয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম ওমর ফারুক বলেন, “আমাদের কর্মীরা সংযোগ দিতে গেলে বাধার মুখে পড়ে।
বিষয়টি সমাধানে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”
শহ আলী তৌীফক রিপন, ষ্টাপ রির্পোটার 









