ঢাকা ১০:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শেখ হাসিনার রায় নিয়ে জাতিসংঘের বিবৃতি

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডাদেশ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ।

সোমবার রাতে জাতিসংঘের মানবাধিকার দফতরের মুখপাত্র রাভিনা শামদাসানি এক প্রতিক্রিয়ায় যেকোনও পরিস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ডের বিরোধী অবস্থান তুলে ধরেছেন।

মুখপাত্র রাভিনা শামদাসানি বলেন, ঢাকায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে রায় ঘোষণাটি গত বছর বিক্ষোভ দমনে সংঘটিত গুরুতর লঙ্ঘনের শিকারদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।

মানবাধিকার দফতরের মুখপাত্র বলেন, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে আমাদের তথ্য-উপাত্তভিত্তিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকে, আমরা দায়ীদের, বিশেষত, নেতৃত্বের এবং কমান্ডের অবস্থানে থাকা ব্যক্তিদের আন্তর্জাতিক মান অনুসারে জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়ে আসছি।

আমরা এ-ও জোর দিয়ে বলেছি, ভুক্তভোগীদের কার্যকর প্রতিকার এবং ক্ষতিপূরণের সুযোগ থাকতে হবে।

রাভিনা শামদাসানি বলেন, যদিও এই বিচারপ্রক্রিয়া আমরা প্রত্যক্ষ করিনি, তবে আমরা সব সময়ই, বিশেষত আন্তর্জাতিক অপরাধের অভিযোগে এমন জবাবদিহি প্রক্রিয়াগুলো নির্দ্বিধায় যথাযথ প্রক্রিয়া ও ন্যায়সংগত বিচারের আন্তর্জাতিক মান পূরণের পক্ষে সমর্থন জানিয়ে আসছি। এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখানে বিচার পরিচালিত হয়েছে আসামির অনুপস্থিতিতে এবং এর ফলে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়েছে।

রাভিনা শামদাসানি আরও বলেন, আমরা মৃত্যুদণ্ডাদেশের ব্যাপারেও দুঃখ প্রকাশ করছি। কারণ আমরা যেকোনও পরিস্থিতিতেই মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা করি।

জাতিসংঘের মানবাধিকার দফতরের মুখপাত্র বলেন, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক আশা প্রকাশ করেছেন, বাংলাদেশ সত্য উদ্ঘাটন, ক্ষতিপূরণ এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার একটি সামগ্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে জাতীয় পুনর্মিলন ও প্রশমনের পথে অগ্রসর হবে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক মানসম্মত অর্থবহ এবং রূপান্তরমূলক নিরাপত্তা খাত সংস্কার অন্তর্ভুক্ত থাকা উচিত, যাতে এমন মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নির্যাতন আর কখনও না ঘটে।

এই প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ সরকার ও জনগণকে সহায়তা করতে জাতিসংঘ মানবাধিকার দফতর প্রস্তুত আছে।

মুখপাত্র আরও বলেন, হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। ভলকার তুর্ক সবাইকে এসব ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় সংযম প্রদর্শনের অনুরোধ করেছেন। সূত্র: ইউএন নিউজ

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Gojnobi biplob

স্বামী বিদেশে থাকতেই অন্তঃসত্ত্বা, পরে গোপন গর্ভপাতের অভিযোগ চিকিৎসা প্রতিবেদনে ‘অসম্পূর্ণ গর্ভপাত’, এফিডেভিটের পর ঘটনাপ্রবাহ ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য

শেখ হাসিনার রায় নিয়ে জাতিসংঘের বিবৃতি

প্রকাশের সময় : ১০:২০:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডাদেশ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ।

সোমবার রাতে জাতিসংঘের মানবাধিকার দফতরের মুখপাত্র রাভিনা শামদাসানি এক প্রতিক্রিয়ায় যেকোনও পরিস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ডের বিরোধী অবস্থান তুলে ধরেছেন।

মুখপাত্র রাভিনা শামদাসানি বলেন, ঢাকায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে রায় ঘোষণাটি গত বছর বিক্ষোভ দমনে সংঘটিত গুরুতর লঙ্ঘনের শিকারদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।

মানবাধিকার দফতরের মুখপাত্র বলেন, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে আমাদের তথ্য-উপাত্তভিত্তিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকে, আমরা দায়ীদের, বিশেষত, নেতৃত্বের এবং কমান্ডের অবস্থানে থাকা ব্যক্তিদের আন্তর্জাতিক মান অনুসারে জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়ে আসছি।

আমরা এ-ও জোর দিয়ে বলেছি, ভুক্তভোগীদের কার্যকর প্রতিকার এবং ক্ষতিপূরণের সুযোগ থাকতে হবে।

রাভিনা শামদাসানি বলেন, যদিও এই বিচারপ্রক্রিয়া আমরা প্রত্যক্ষ করিনি, তবে আমরা সব সময়ই, বিশেষত আন্তর্জাতিক অপরাধের অভিযোগে এমন জবাবদিহি প্রক্রিয়াগুলো নির্দ্বিধায় যথাযথ প্রক্রিয়া ও ন্যায়সংগত বিচারের আন্তর্জাতিক মান পূরণের পক্ষে সমর্থন জানিয়ে আসছি। এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখানে বিচার পরিচালিত হয়েছে আসামির অনুপস্থিতিতে এবং এর ফলে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়েছে।

রাভিনা শামদাসানি আরও বলেন, আমরা মৃত্যুদণ্ডাদেশের ব্যাপারেও দুঃখ প্রকাশ করছি। কারণ আমরা যেকোনও পরিস্থিতিতেই মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা করি।

জাতিসংঘের মানবাধিকার দফতরের মুখপাত্র বলেন, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক আশা প্রকাশ করেছেন, বাংলাদেশ সত্য উদ্ঘাটন, ক্ষতিপূরণ এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার একটি সামগ্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে জাতীয় পুনর্মিলন ও প্রশমনের পথে অগ্রসর হবে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক মানসম্মত অর্থবহ এবং রূপান্তরমূলক নিরাপত্তা খাত সংস্কার অন্তর্ভুক্ত থাকা উচিত, যাতে এমন মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নির্যাতন আর কখনও না ঘটে।

এই প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ সরকার ও জনগণকে সহায়তা করতে জাতিসংঘ মানবাধিকার দফতর প্রস্তুত আছে।

মুখপাত্র আরও বলেন, হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। ভলকার তুর্ক সবাইকে এসব ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় সংযম প্রদর্শনের অনুরোধ করেছেন। সূত্র: ইউএন নিউজ