ঢাকা ১০:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইবি শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন

ছবি সংগৃহিত

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের চত্বরে এই মানববন্ধনের আয়োজন করেন তারা।

মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সংগঠন জিয়া পরিষদ, গ্রীন ফোরাম ও সাদা দল একাত্মতা পোষণ করেন। এছাড়াও শাখা ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন ও জমিয়তে তালাবায়ে আরাবিয়ার নেতৃবৃন্দ মানববন্ধনে অংশ নেয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বোরহান কবির বলেন, ‘প্রশাসন এখনো সাজিদের খুনিদেরকে আইনের আওতায় আনতে পারেনি। আমরা জানতে চাই আর কতদিন তদন্ত চলবে? কতদিন আমাদের এভাবে আশ্বাস দেওয়া হবে? আমরা আর কোন আশ্বাসে থাকতে চাই না। এই মাসের ১৭ তারিখ সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যার ৫ মাস পূর্ণ হবে।

গ্রীন ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমি ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির সদস্য ছিলাম। আমরা নির্ধারিত সময়ে সর্বোচ্চ পরিশ্রম করে রিপোর্ট জমা দিয়েছি। ভেবেছিলাম রিপোর্ট দেওয়ার পরে অতিদ্রুত একটি সুষ্ঠু সমাধান হবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, বিচার দাবিতে এখনো ছাত্রদেরকে আন্দোলনে নামতে হচ্ছে।

পাঁচ মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পরও সিআইডি কেন প্রকৃত সত্য সামনে আনতে পারছে না? আমরা এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে অতিদ্রুত শাস্তির আওতায় আনার আহ্বান জানাচ্ছি।’অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির আহ্বায়ক ছিলাম আমি। দ্রুত সময়ের মধ্যেই রিপোর্ট জমা দিয়েছি। কিন্তু ৬ মাস পার হলেও খুনিদের গ্রেফতারে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।

যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিশ্বাসের সংকট তৈরি করেছে। সাজিদের হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত ইবির পবিত্র মাটি কলঙ্কমুক্ত হবে না। এত দীর্ঘ সময় লাগার পেছনে কারও ব্যক্তিগত স্বার্থ বা নেপথ্যে প্রভাব থাকতে পারে।’

অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, ‘সাজিদ ছিলেন জুলাই অভ্যুত্থানের অগ্রনায়ক। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখনো চিহ্নিত ফ্যাসিস্টদের পদে রেখে বৈষম্যমূলকভাবে চলছে। শিক্ষক সমাজ এক বছর ধৈর্য ধরে পর্যবেক্ষণ করেছে, তবে এখন আর ধৈর্য ধরে রাখা সম্ভব নয়।

সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যার ১৪৫ দিন পার হলেও তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। যা প্রশাসনের ইচ্ছাকৃত বিলম্ব হতে পারে। চিহ্নিত ব্যক্তিদের আড়াল করার জন্য প্রশাসন গড়িমসি করছে, এটি প্রশাসনের ব্যর্থতা।’

উল্লেখ্য, গত ১৭ জুলাই বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আজিজুর রহমান হল পুকুর থেকে আল কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ বর্ষের শিক্ষার্থী সাজিদের লাশ উদ্ধার করা হয়। ভিসেরা রিপোর্ট অনুযায়ী সাজিদকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Gojnobi biplob

Popular Post

হামের টিকা নিয়ে পূর্ববর্তী সরকারগুলো ক্ষমাহীন অপরাধ করেছে : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ইবি শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন

প্রকাশের সময় : ০৩:৫১:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫
ছবি সংগৃহিত

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের চত্বরে এই মানববন্ধনের আয়োজন করেন তারা।

মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সংগঠন জিয়া পরিষদ, গ্রীন ফোরাম ও সাদা দল একাত্মতা পোষণ করেন। এছাড়াও শাখা ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন ও জমিয়তে তালাবায়ে আরাবিয়ার নেতৃবৃন্দ মানববন্ধনে অংশ নেয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বোরহান কবির বলেন, ‘প্রশাসন এখনো সাজিদের খুনিদেরকে আইনের আওতায় আনতে পারেনি। আমরা জানতে চাই আর কতদিন তদন্ত চলবে? কতদিন আমাদের এভাবে আশ্বাস দেওয়া হবে? আমরা আর কোন আশ্বাসে থাকতে চাই না। এই মাসের ১৭ তারিখ সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যার ৫ মাস পূর্ণ হবে।

গ্রীন ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমি ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির সদস্য ছিলাম। আমরা নির্ধারিত সময়ে সর্বোচ্চ পরিশ্রম করে রিপোর্ট জমা দিয়েছি। ভেবেছিলাম রিপোর্ট দেওয়ার পরে অতিদ্রুত একটি সুষ্ঠু সমাধান হবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, বিচার দাবিতে এখনো ছাত্রদেরকে আন্দোলনে নামতে হচ্ছে।

পাঁচ মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পরও সিআইডি কেন প্রকৃত সত্য সামনে আনতে পারছে না? আমরা এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে অতিদ্রুত শাস্তির আওতায় আনার আহ্বান জানাচ্ছি।’অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির আহ্বায়ক ছিলাম আমি। দ্রুত সময়ের মধ্যেই রিপোর্ট জমা দিয়েছি। কিন্তু ৬ মাস পার হলেও খুনিদের গ্রেফতারে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।

যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিশ্বাসের সংকট তৈরি করেছে। সাজিদের হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত ইবির পবিত্র মাটি কলঙ্কমুক্ত হবে না। এত দীর্ঘ সময় লাগার পেছনে কারও ব্যক্তিগত স্বার্থ বা নেপথ্যে প্রভাব থাকতে পারে।’

অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, ‘সাজিদ ছিলেন জুলাই অভ্যুত্থানের অগ্রনায়ক। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখনো চিহ্নিত ফ্যাসিস্টদের পদে রেখে বৈষম্যমূলকভাবে চলছে। শিক্ষক সমাজ এক বছর ধৈর্য ধরে পর্যবেক্ষণ করেছে, তবে এখন আর ধৈর্য ধরে রাখা সম্ভব নয়।

সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যার ১৪৫ দিন পার হলেও তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। যা প্রশাসনের ইচ্ছাকৃত বিলম্ব হতে পারে। চিহ্নিত ব্যক্তিদের আড়াল করার জন্য প্রশাসন গড়িমসি করছে, এটি প্রশাসনের ব্যর্থতা।’

উল্লেখ্য, গত ১৭ জুলাই বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আজিজুর রহমান হল পুকুর থেকে আল কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ বর্ষের শিক্ষার্থী সাজিদের লাশ উদ্ধার করা হয়। ভিসেরা রিপোর্ট অনুযায়ী সাজিদকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।