ঢাকা ০৫:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ছয় গুণ রোগী

ছবি সংগৃহিত

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে রোগী গিজগিজ করছে। অনেকে ওয়ার্ডের বাইরে চলাচলের জায়গায় মাদুর পেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। সোমবার দুপুরে তোলা। -কালের কণ্ঠ

১০ মাস বয়সী সন্তান সুদীপ্ত দাসকে কোলে নিয়ে এক-দুই হাত জায়গার মধ্যে হাঁটাহাটি করছিলেন মা বৃষ্টি দাস। মাদুর বিছানোর জন্য বৃষ্টি দাসকে সরতে বলা হয়। শিশু সুদীপ্তর হাতে স্যালাইন দেখে সরতে বলা লোকজন একটু থমকে দাঁড়ান। একজন বললেন, ‘মাদুরটা বিছানো হলে আপনিও এটাতে থাকবেন।

বিপদেই তো মানুষের পাশে দাঁড়াতে হয়। আমরাও রোগী নিয়ে আসছি।’ কিছু সময়ের জন্য ভাগাভাগি হলো মাদুর।২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে গতকাল সোমবার (৮ ডিসেম্বর) দুপুরে এ চিত্র চোখে পড়ে।
জেলার আশুগঞ্জ উপজেলার লালপুর গ্রামের বৃষ্টি দাস জানালেন, ডায়রিয়ায় আক্রান্ত সন্তানকে নিয়ে দুই দিন ধরে হাসপাতালে আসছেন তিনি। স্যালাইন দিয়ে আবার বাড়িতে নিয়ে যান। শয্যা বরাদ্দ না থাকায় দাঁড়িয়ে কিংবা বসে থেকে শিশুর চিকিৎসা করাচ্ছেন।কক্ষের মেঝে ছাড়িয়ে বাইরে হাঁটাচলার অংশেও রোগী। শয্যা যারা পাননি, তারা মাদুর বিছিয়ে আছেন। সংখ্যায় ১০০ ছাড়িয়ে গেছে। সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা নাগাদ ১৬ জন ভর্তি হয়েছেন। এটি সোমবারের চিত্র হলেও গত সপ্তাহ দুয়েক ধরেই এমন অবস্থা।

শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। রোগীদের মধ্যে শিশুদের সংখ্যা বেশি।এদিকে হাসপাতালে অতিরিক্ত রোগী সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদেরকে। ওষুধসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী না থাকায় রোগীরাও যথাযথ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা অবশ্য বিষয়টি স্বীকার করে দ্রুত সবকিছু স্বাভাবিক হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।হাসপাতালের তৃতীয় তলায় ডায়রিয়া ওয়ার্ডের অবস্থান। গত রবিবার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা নাগাদ ১১৬ জন ভর্তি ছিল সেখানে। অর্থাৎ শয্যার চেয়ে ছয় গুণ বেশি রোগী। চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি যান ৪৭ জন। সোমবার সকাল সোয়া ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ১৬ জন ভর্তি হন—এমন তথ্যই দিলেন সিনিয়র স্টাফ নার্স আকাশ সূত্রধর।

ডায়রিয়া ওয়ার্ডের বাইরে হাতে লাগিয়ে স্যালাইন লাগিয়ে শুয়ে ছিলেন ৮০ বছরের বেশি বয়সী পৌর এলাকার কান্দিপাড়া সাফিয়া বেগম, সঙ্গে ছেলেসহ স্বজনরা। ছেলে সোহাগ মিয়া বলেন, ‘আম্মাকে নিয়ে সকালবেলা এসেছি। তবে সিট (শয্যা) পাইনি। বাইরে-ভেতরে রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি।’

ভাতিজিকে নিয়ে আসা আরমান মিয়া বলেন, ‘যদি ওষুধ আর অন্যান্য সেবা ঠিকভাবে দিতে না পারে, তাহলে সরকারি হাসপাতালে থেকে লাভ কি। আর এখানে যে অবস্থা দেখা যাচ্ছে, তাতে তো রোগী আরো বেশি অসুস্থ হয়ে যাবে।’

২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মো. শাহীন ভূঁইয়া সোমবার বিকেলে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দুই সপ্তাহ ধরে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। শয্যার অনেক বেশি রোগী এখন ভর্তি থাকে।

এর মধ্যে ৬০ ভাগই শিশু।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কিছু ওষুধ ও স্বাস্থ্যসেবা সামগ্রীর কমতি রয়েছে এটা ঠিক। তবে ডায়রিয়ার চিকৎসায় জরুরি প্রয়োজনে যেসব প্রয়োজন সেগুলো আছে। অন্যান্য সামগ্রীও কিছুদিনের মধ্যে পেয়ে যাব বলে আশা করি।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Gojnobi biplob

Popular Post

হামের টিকা নিয়ে পূর্ববর্তী সরকারগুলো ক্ষমাহীন অপরাধ করেছে : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ছয় গুণ রোগী

প্রকাশের সময় : ০৪:২৯:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫
ছবি সংগৃহিত

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে রোগী গিজগিজ করছে। অনেকে ওয়ার্ডের বাইরে চলাচলের জায়গায় মাদুর পেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। সোমবার দুপুরে তোলা। -কালের কণ্ঠ

১০ মাস বয়সী সন্তান সুদীপ্ত দাসকে কোলে নিয়ে এক-দুই হাত জায়গার মধ্যে হাঁটাহাটি করছিলেন মা বৃষ্টি দাস। মাদুর বিছানোর জন্য বৃষ্টি দাসকে সরতে বলা হয়। শিশু সুদীপ্তর হাতে স্যালাইন দেখে সরতে বলা লোকজন একটু থমকে দাঁড়ান। একজন বললেন, ‘মাদুরটা বিছানো হলে আপনিও এটাতে থাকবেন।

বিপদেই তো মানুষের পাশে দাঁড়াতে হয়। আমরাও রোগী নিয়ে আসছি।’ কিছু সময়ের জন্য ভাগাভাগি হলো মাদুর।২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে গতকাল সোমবার (৮ ডিসেম্বর) দুপুরে এ চিত্র চোখে পড়ে।
জেলার আশুগঞ্জ উপজেলার লালপুর গ্রামের বৃষ্টি দাস জানালেন, ডায়রিয়ায় আক্রান্ত সন্তানকে নিয়ে দুই দিন ধরে হাসপাতালে আসছেন তিনি। স্যালাইন দিয়ে আবার বাড়িতে নিয়ে যান। শয্যা বরাদ্দ না থাকায় দাঁড়িয়ে কিংবা বসে থেকে শিশুর চিকিৎসা করাচ্ছেন।কক্ষের মেঝে ছাড়িয়ে বাইরে হাঁটাচলার অংশেও রোগী। শয্যা যারা পাননি, তারা মাদুর বিছিয়ে আছেন। সংখ্যায় ১০০ ছাড়িয়ে গেছে। সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা নাগাদ ১৬ জন ভর্তি হয়েছেন। এটি সোমবারের চিত্র হলেও গত সপ্তাহ দুয়েক ধরেই এমন অবস্থা।

শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। রোগীদের মধ্যে শিশুদের সংখ্যা বেশি।এদিকে হাসপাতালে অতিরিক্ত রোগী সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদেরকে। ওষুধসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী না থাকায় রোগীরাও যথাযথ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা অবশ্য বিষয়টি স্বীকার করে দ্রুত সবকিছু স্বাভাবিক হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।হাসপাতালের তৃতীয় তলায় ডায়রিয়া ওয়ার্ডের অবস্থান। গত রবিবার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা নাগাদ ১১৬ জন ভর্তি ছিল সেখানে। অর্থাৎ শয্যার চেয়ে ছয় গুণ বেশি রোগী। চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি যান ৪৭ জন। সোমবার সকাল সোয়া ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ১৬ জন ভর্তি হন—এমন তথ্যই দিলেন সিনিয়র স্টাফ নার্স আকাশ সূত্রধর।

ডায়রিয়া ওয়ার্ডের বাইরে হাতে লাগিয়ে স্যালাইন লাগিয়ে শুয়ে ছিলেন ৮০ বছরের বেশি বয়সী পৌর এলাকার কান্দিপাড়া সাফিয়া বেগম, সঙ্গে ছেলেসহ স্বজনরা। ছেলে সোহাগ মিয়া বলেন, ‘আম্মাকে নিয়ে সকালবেলা এসেছি। তবে সিট (শয্যা) পাইনি। বাইরে-ভেতরে রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি।’

ভাতিজিকে নিয়ে আসা আরমান মিয়া বলেন, ‘যদি ওষুধ আর অন্যান্য সেবা ঠিকভাবে দিতে না পারে, তাহলে সরকারি হাসপাতালে থেকে লাভ কি। আর এখানে যে অবস্থা দেখা যাচ্ছে, তাতে তো রোগী আরো বেশি অসুস্থ হয়ে যাবে।’

২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মো. শাহীন ভূঁইয়া সোমবার বিকেলে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দুই সপ্তাহ ধরে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। শয্যার অনেক বেশি রোগী এখন ভর্তি থাকে।

এর মধ্যে ৬০ ভাগই শিশু।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কিছু ওষুধ ও স্বাস্থ্যসেবা সামগ্রীর কমতি রয়েছে এটা ঠিক। তবে ডায়রিয়ার চিকৎসায় জরুরি প্রয়োজনে যেসব প্রয়োজন সেগুলো আছে। অন্যান্য সামগ্রীও কিছুদিনের মধ্যে পেয়ে যাব বলে আশা করি।’