
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে রোগী গিজগিজ করছে। অনেকে ওয়ার্ডের বাইরে চলাচলের জায়গায় মাদুর পেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। সোমবার দুপুরে তোলা। -কালের কণ্ঠ
১০ মাস বয়সী সন্তান সুদীপ্ত দাসকে কোলে নিয়ে এক-দুই হাত জায়গার মধ্যে হাঁটাহাটি করছিলেন মা বৃষ্টি দাস। মাদুর বিছানোর জন্য বৃষ্টি দাসকে সরতে বলা হয়। শিশু সুদীপ্তর হাতে স্যালাইন দেখে সরতে বলা লোকজন একটু থমকে দাঁড়ান। একজন বললেন, ‘মাদুরটা বিছানো হলে আপনিও এটাতে থাকবেন।
ডায়রিয়া ওয়ার্ডের বাইরে হাতে লাগিয়ে স্যালাইন লাগিয়ে শুয়ে ছিলেন ৮০ বছরের বেশি বয়সী পৌর এলাকার কান্দিপাড়া সাফিয়া বেগম, সঙ্গে ছেলেসহ স্বজনরা। ছেলে সোহাগ মিয়া বলেন, ‘আম্মাকে নিয়ে সকালবেলা এসেছি। তবে সিট (শয্যা) পাইনি। বাইরে-ভেতরে রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি।’
ভাতিজিকে নিয়ে আসা আরমান মিয়া বলেন, ‘যদি ওষুধ আর অন্যান্য সেবা ঠিকভাবে দিতে না পারে, তাহলে সরকারি হাসপাতালে থেকে লাভ কি। আর এখানে যে অবস্থা দেখা যাচ্ছে, তাতে তো রোগী আরো বেশি অসুস্থ হয়ে যাবে।’
২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মো. শাহীন ভূঁইয়া সোমবার বিকেলে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দুই সপ্তাহ ধরে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। শয্যার অনেক বেশি রোগী এখন ভর্তি থাকে।
এর মধ্যে ৬০ ভাগই শিশু।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কিছু ওষুধ ও স্বাস্থ্যসেবা সামগ্রীর কমতি রয়েছে এটা ঠিক। তবে ডায়রিয়ার চিকৎসায় জরুরি প্রয়োজনে যেসব প্রয়োজন সেগুলো আছে। অন্যান্য সামগ্রীও কিছুদিনের মধ্যে পেয়ে যাব বলে আশা করি।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি 








