
একটি প্রচলিত প্রবাদ আছে—মাথা ব্যথা হলে মাথা কেটে ফেলতে হয় না। কোনো সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে যদি আরও বড় সমস্যার জন্ম দেওয়া হয়, তাহলে সেটি সমাধান নয়; বরং নতুন সংকট সৃষ্টি করা। দুঃখজনক হলেও সত্য, পরিবেশ রক্ষার নামে সাম্প্রতিক কিছু নীতিগত সিদ্ধান্ত ঠিক সেই পথেই এগোচ্ছে।
পোড়া ইটের পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব ব্লক ইটকে সরকারি সকল উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে একটি সময়োপযোগী ও ইতিবাচক উদ্যোগ। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরপরই পরিবেশ সংরক্ষণের নামে দেশের প্রায় সব বালুমহাল একযোগে বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তটি ছিলো বাস্তবতাবিবর্জিত ও অপরিকল্পিত।
কারণ অত্যন্ত স্পষ্ট—বালু ছাড়া পরিবেশবান্ধব ব্লক ইট উৎপাদন সম্ভব নয়। বালুমহাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ব্লক ইট কারখানা স্থাপনকারী উদ্যোক্তারা আজ চরম সংকটে পড়েছেন। নেত্রকোণা জেলার বিভিন্ন উপজেলাসহ দেশের নানা প্রান্তে অনেক ব্যবসায়ী বিপুল লোকসানের মুখে পড়ে ইতোমধ্যে কারখানা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন। ফলে যে শিল্পকে রাষ্ট্রীয়ভাবে উৎসাহিত করার কথা ছিলো, সেটিই আজ অস্তিত্ব সংকটে।
একই সঙ্গে পুরোনো ম্যানুয়াল পদ্ধতির ইটভাটাগুলোকে পরিবেশবান্ধব করার যে রূপান্তর প্রক্রিয়া চলছিলো, তা কার্যত গোড়াতেই বাধাগ্রস্ত হয়েছে। কাঁচামালের সরবরাহ নিশ্চিত না করেই নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে যাওয়ায় পুরো ইট শিল্প আজ অনিশ্চয়তা ও বিশৃঙ্খলার মধ্যে পড়ে গেছে।
বাস্তবতা হলো—আমরা এখন কংক্রিটের যুগে প্রবেশ করেছি। হঠাৎ করে পোড়া ইটের ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া বাস্তবে সম্ভব নয়। বরং বর্তমান পরিস্থিতিতে পোড়া ইটের চাহিদা বেড়েছে। পরিকল্পনাহীনভাবে এই খাত বন্ধ করতে গেলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ব্যাহত হবে, হাজার হাজার শ্রমিক বেকার হবে এবং সর্বোপরি সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বহুগুণে বাড়বে।
পরিবেশ রক্ষা অবশ্যই রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। কিন্তু পরিবেশবান্ধব নীতি হতে হবে বাস্তবসম্মত, ধাপে ধাপে এবং বিকল্প ব্যবস্থার নিশ্চয়তা দিয়ে। অন্যথায় একটি ভুল সংশোধন করতে গিয়ে আরেকটি বড় ভুল করা হবে—যার দায় শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্র ও জনগণকেই বহন করতে হবে।
⸻
শাহ আলী তৌফিক রিপন, 








