ঢাকা ০৩:২২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইনুর মামলায় পঞ্চম দিনের মত সাক্ষ্য চলছে

ছবি সংগৃহিত

চব্বিশের জুলাই–আগস্ট আন্দোলনকে ঘিরে কুষ্টিয়ায় ৬ জন হত্যাসহ ৮টি অভিযোগে দায়ের হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে চলছে পঞ্চম দিনের মতো সাক্ষ্যগ্রহণ।

সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) বেলা সোয়া ১১টার পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন- অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

ট্রাইব্যুনালে আজ অবশিষ্ট জবানবন্দি দিচ্ছেন সিআইডির ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবের উপপরিদর্শক শাহেদ জোবায়ের লরেন্স। তিনি এ মামলার চার নম্বর সাক্ষী। তার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে জেরা করবেন ইনুর আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী। গত ৮ ডিসেম্বর জবানবন্দি দেন এই উপপরিদর্শক। ওই দিন শেষ না হওয়ায় আজ পুনরায় দিচ্ছেন তিনি।

প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করছেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। সঙ্গে রয়েছেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, আবদুস সাত্তার পালোয়ানসহ অন্যরা।এদিন সকালে কারাগার থেকে হাসানুল হক ইনুকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করে পুলিশ। তার উপস্থিতিতেই সাক্ষ্য দিচ্ছেন সাক্ষীরা।

গত ২ ডিসেম্বর দ্বিতীয় দিনের জেরা শেষ হয়। সেদিন দ্বিতীয় সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেওয়া বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা ও প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহাকে জেরা করেন ইনুর আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী। এর আগের দিন ১ ডিসেম্বর তিনি সাক্ষ্য দেন। একই দিনে প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন মো. রাইসুল হক, যিনি মেহেরপুরের বাসিন্দা হলেও আন্দোলনের সময় কুষ্টিয়া শহরের একটি মেসে থাকতেন।

এর আগে, গত ৩০ নভেম্বর চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম মামলার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন। একই দিনে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিরুদ্ধে ইনুর রিভিউ আবেদন শুনানি হয়।

তার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন আইনজীবী সিফাত মাহমুদ ও মনসুরুল হক। উভয় পক্ষের বক্তব্য শেষে ট্রাইব্যুনাল আবেদনটি খারিজ করে দেয়। ২ নভেম্বর ইনুর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে আটটি অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয় এবং সেদিন বিচারক তাকে অভিযোগগুলো পড়ে শোনান।

চলতি বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর এই মামলায় ইনুকে ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তার আগের ২৫ সেপ্টেম্বর জুলাই–আগস্টে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতায় সহযোগিতাসহ আটটি অভিযোগ এনে প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে। পরবর্তীকালে শুনানিতে অভিযোগগুলো উপস্থাপন করা হলে আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করেন।

গত বছরের ২৬ আগস্ট রাজধানীর উত্তরা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর থেকে তিনি বিভিন্ন মামলায় কারাগারে রয়েছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তিনি তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

জুলাই–আগস্ট আন্দোলনে কুষ্টিয়া শহরে নিহত হন শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী ও চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ। আহত হয় বহু মানুষ।

এসব ঘটনার ওপর ভিত্তি করে ইনুর বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে মামলা হয়। পরবর্তী তদন্তে উসকানি ও ষড়যন্ত্রসহ আটটি অভিযোগ চূড়ান্ত করে প্রসিকিউশন। মামলার ফরমাল চার্জ ৩৯ পৃষ্ঠার এবং এতে সাক্ষী রাখা হয়েছে ২০ জনকে। পাশাপাশি তিনটি অডিও ও ছয়টি ভিডিও নথি হিসেবে উপস্থাপন করেছে প্রসিকিউশন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Gojnobi biplob

Popular Post

হামের টিকা নিয়ে পূর্ববর্তী সরকারগুলো ক্ষমাহীন অপরাধ করেছে : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ইনুর মামলায় পঞ্চম দিনের মত সাক্ষ্য চলছে

প্রকাশের সময় : ১২:৩৬:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫

ছবি সংগৃহিত

চব্বিশের জুলাই–আগস্ট আন্দোলনকে ঘিরে কুষ্টিয়ায় ৬ জন হত্যাসহ ৮টি অভিযোগে দায়ের হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে চলছে পঞ্চম দিনের মতো সাক্ষ্যগ্রহণ।

সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) বেলা সোয়া ১১টার পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন- অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

ট্রাইব্যুনালে আজ অবশিষ্ট জবানবন্দি দিচ্ছেন সিআইডির ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবের উপপরিদর্শক শাহেদ জোবায়ের লরেন্স। তিনি এ মামলার চার নম্বর সাক্ষী। তার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে জেরা করবেন ইনুর আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী। গত ৮ ডিসেম্বর জবানবন্দি দেন এই উপপরিদর্শক। ওই দিন শেষ না হওয়ায় আজ পুনরায় দিচ্ছেন তিনি।

প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করছেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। সঙ্গে রয়েছেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, আবদুস সাত্তার পালোয়ানসহ অন্যরা।এদিন সকালে কারাগার থেকে হাসানুল হক ইনুকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করে পুলিশ। তার উপস্থিতিতেই সাক্ষ্য দিচ্ছেন সাক্ষীরা।

গত ২ ডিসেম্বর দ্বিতীয় দিনের জেরা শেষ হয়। সেদিন দ্বিতীয় সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেওয়া বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা ও প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহাকে জেরা করেন ইনুর আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী। এর আগের দিন ১ ডিসেম্বর তিনি সাক্ষ্য দেন। একই দিনে প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন মো. রাইসুল হক, যিনি মেহেরপুরের বাসিন্দা হলেও আন্দোলনের সময় কুষ্টিয়া শহরের একটি মেসে থাকতেন।

এর আগে, গত ৩০ নভেম্বর চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম মামলার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন। একই দিনে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিরুদ্ধে ইনুর রিভিউ আবেদন শুনানি হয়।

তার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন আইনজীবী সিফাত মাহমুদ ও মনসুরুল হক। উভয় পক্ষের বক্তব্য শেষে ট্রাইব্যুনাল আবেদনটি খারিজ করে দেয়। ২ নভেম্বর ইনুর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে আটটি অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয় এবং সেদিন বিচারক তাকে অভিযোগগুলো পড়ে শোনান।

চলতি বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর এই মামলায় ইনুকে ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তার আগের ২৫ সেপ্টেম্বর জুলাই–আগস্টে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতায় সহযোগিতাসহ আটটি অভিযোগ এনে প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে। পরবর্তীকালে শুনানিতে অভিযোগগুলো উপস্থাপন করা হলে আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করেন।

গত বছরের ২৬ আগস্ট রাজধানীর উত্তরা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর থেকে তিনি বিভিন্ন মামলায় কারাগারে রয়েছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তিনি তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

জুলাই–আগস্ট আন্দোলনে কুষ্টিয়া শহরে নিহত হন শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী ও চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ। আহত হয় বহু মানুষ।

এসব ঘটনার ওপর ভিত্তি করে ইনুর বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে মামলা হয়। পরবর্তী তদন্তে উসকানি ও ষড়যন্ত্রসহ আটটি অভিযোগ চূড়ান্ত করে প্রসিকিউশন। মামলার ফরমাল চার্জ ৩৯ পৃষ্ঠার এবং এতে সাক্ষী রাখা হয়েছে ২০ জনকে। পাশাপাশি তিনটি অডিও ও ছয়টি ভিডিও নথি হিসেবে উপস্থাপন করেছে প্রসিকিউশন।