ঢাকা ০৩:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেত্রকোনায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক প্রকাশ্যে যাচাইকালে হামলা, আহত ২

নেত্রকোনা-৩ (কেন্দুয়া–আটপাড়া) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর এক শতাংশ ভোটারের দাখিল করা তালিকা প্রকাশ্যে যাচাইয়ের সময় প্রতিপক্ষের সমর্থকদের হামলায় দুইজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুরে কেন্দুয়া উপজেলার বলাইশিমুল ইউনিয়ন পরিষদের সামনে এ ঘটনা ঘটে।আহতরা হলেন— বলাইশিমুল ইউনিয়নের আড়ালিয়া গ্রামের আনিসুর রহমান এবং মাইজপাড়া গ্রামের আবুল কালাম।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার নেত্রকোনা-৩ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম হিলালী, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়াসহ মোট ছয়জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।

বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কেন্দুয়া উপজেলার গড়াডোবা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান স্বাক্ষর যাচাইয়ের জন্য বলাইশিমুল ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিত হন। এ সময় দেলোয়ার হোসেনের সমর্থকদের পাশাপাশি বিএনপি প্রার্থীর সমর্থকরাও সেখানে জড়ো হন।

অভিযোগ রয়েছে, এ সময় দেলোয়ার হোসেনের সমর্থক আনিসুর রহমান ও আবুল কালাম পরিষদে গিয়ে লোকজন জড়ো হওয়ার কারণ জানতে চাইলে বিএনপি প্রার্থীর সমর্থক বলাইশিমুল গ্রামের তোফাজ্জল হোসেন ওরফে তাইজ্জত, মাজেজুল হক ওরফে দীপক, পারভেজ মিয়াসহ কয়েকজন ক্ষিপ্ত হলে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়।

ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্য কলি আক্তার বলেন, “কোনো কারণ ছাড়া হামলা করা ঠিক হয়নি। আমি বাধা দিতে গেলে হামলাকারীদের আঘাতে ব্যথা পাই।”

তবে অভিযুক্ত তোফাজ্জল হোসেন হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হচ্ছে। দুই পক্ষের মধ্যে কিছুটা বাকবিতণ্ডা হয়েছে, কোনো হামলা হয়নি।

এ বিষয়ে বিএনপির প্রার্থী মো. রফিকুল ইসলাম হিলালী বলেন, “বিষয়টি এখনো শুনিনি। খোঁজ নিয়ে জানতে হবে। আমার কোনো সমর্থক জড়িত থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”গড়াডোবা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানের মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. রিফাতুল ইসলাম বলেন, “স্বাক্ষর যাচাইয়ের সময় কোনো কর্মকর্তা বা ব্যক্তি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Gojnobi biplob

Popular Post

হামের টিকা নিয়ে পূর্ববর্তী সরকারগুলো ক্ষমাহীন অপরাধ করেছে : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

নেত্রকোনায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক প্রকাশ্যে যাচাইকালে হামলা, আহত ২

প্রকাশের সময় : ০১:৩৪:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬
নেত্রকোনা-৩ (কেন্দুয়া–আটপাড়া) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর এক শতাংশ ভোটারের দাখিল করা তালিকা প্রকাশ্যে যাচাইয়ের সময় প্রতিপক্ষের সমর্থকদের হামলায় দুইজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুরে কেন্দুয়া উপজেলার বলাইশিমুল ইউনিয়ন পরিষদের সামনে এ ঘটনা ঘটে।আহতরা হলেন— বলাইশিমুল ইউনিয়নের আড়ালিয়া গ্রামের আনিসুর রহমান এবং মাইজপাড়া গ্রামের আবুল কালাম।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার নেত্রকোনা-৩ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম হিলালী, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়াসহ মোট ছয়জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।

বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কেন্দুয়া উপজেলার গড়াডোবা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান স্বাক্ষর যাচাইয়ের জন্য বলাইশিমুল ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিত হন। এ সময় দেলোয়ার হোসেনের সমর্থকদের পাশাপাশি বিএনপি প্রার্থীর সমর্থকরাও সেখানে জড়ো হন।

অভিযোগ রয়েছে, এ সময় দেলোয়ার হোসেনের সমর্থক আনিসুর রহমান ও আবুল কালাম পরিষদে গিয়ে লোকজন জড়ো হওয়ার কারণ জানতে চাইলে বিএনপি প্রার্থীর সমর্থক বলাইশিমুল গ্রামের তোফাজ্জল হোসেন ওরফে তাইজ্জত, মাজেজুল হক ওরফে দীপক, পারভেজ মিয়াসহ কয়েকজন ক্ষিপ্ত হলে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়।

ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্য কলি আক্তার বলেন, “কোনো কারণ ছাড়া হামলা করা ঠিক হয়নি। আমি বাধা দিতে গেলে হামলাকারীদের আঘাতে ব্যথা পাই।”

তবে অভিযুক্ত তোফাজ্জল হোসেন হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হচ্ছে। দুই পক্ষের মধ্যে কিছুটা বাকবিতণ্ডা হয়েছে, কোনো হামলা হয়নি।

এ বিষয়ে বিএনপির প্রার্থী মো. রফিকুল ইসলাম হিলালী বলেন, “বিষয়টি এখনো শুনিনি। খোঁজ নিয়ে জানতে হবে। আমার কোনো সমর্থক জড়িত থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”গড়াডোবা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানের মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. রিফাতুল ইসলাম বলেন, “স্বাক্ষর যাচাইয়ের সময় কোনো কর্মকর্তা বা ব্যক্তি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”