ঢাকা ০৩:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কেন্দুয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের ওপর সংগঠিত হামলার অভিযোগ। প্রশাসনের উপস্থিতিতেই স্বাক্ষর যাচাইয়ে বাধা

কেন্দুয়া নেত্রকোণা-৩ (কেন্দুয়া-আটপাড়া) সংসদীয় আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রার্থিতা যাচাই কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে ভয়ভীতি, হুমকি ও শারীরিক হামলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর অনুসারীদের বিরুদ্ধে।

উপজেলা প্রশাসনের উপস্থিতিতেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সূচনা হলেও প্রশাসনিক প্রতিনিধি ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর প্রকাশ্য হামলার ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর ২০২৫) দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে কেন্দুয়া উপজেলার বলাইশিমুল ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের অদূরে বলাইশিমুল দক্ষিণপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, স্বতন্ত্র প্রার্থী আলহাজ্ব দেলোয়ার হোসেন ভূইয়া দুলালের পক্ষে প্রয়োজনীয় ১ শতাংশ ভোটার সমর্থনের তালিকা যাচাই করতে উপজেলা প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান (ইনস্ট্রাক্টর, উপজেলা রিসোর্স সেন্টার ও প্রশাসক, গড়াডোবা ইউনিয়ন পরিষদ) ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসনে দাখিল করা তালিকা অনুযায়ী ওই সময় ১০ জন ভোটারের স্বাক্ষর যাচাই প্রক্রিয়া চলছিল। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, যাচাই কার্যক্রম শুরুর আগেই বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রফিকুল ইসলাম হিলালীর অনুসারী একটি সংঘবদ্ধ গ্রুপ ভোটার ও সাক্ষীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। তারা স্বাক্ষর প্রত্যাহার এবং সাক্ষ্য না দেওয়ার জন্য ভয়ভীতি ও হুমকি দেয়।

অভিযোগে যাদের নাম উঠে এসেছে, তারা হলেন— তোফাজ্জল হোসেন তাজ্জত (৪০), মো. খোকন মিয়া (বলাইশিমুল ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা), দীপক (বলাইশিমুল ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব), সাঈদ মিয়াসহ আরও কয়েকজন। স্থানীয়দের অভিযোগ, দলীয় পরিচয় ও প্রভাব খাটিয়ে তারা ভোটারদের ভয় দেখান এবং পুরো যাচাই প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উপজেলা প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। স্বাক্ষরের পক্ষে সাক্ষ্য দিয়ে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার সময় মো. আনিসুল হক (পিতা—মৃত আব্দুল বারেক), বলাইশিমুল মাইজপাড়ার বাসিন্দাকে তোফাজ্জল হোসেনের বাড়ির সামনে পথরোধ করে মারধর করা হয়। এ ছাড়া বলাইশিমুল দক্ষিণপাড়ার ভোটার মো. আতিকুর রহমান শফিক ও বলাইশিমুল মাইজপাড়ার মো. কালাম মিয়াকে প্রকাশ্যে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে মো. কালাম মিয়াকে পথরোধ করে আটকে রাখা হলে স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে পাঠানো হয়। অন্যদিকে, উপজেলার মোজাফফরপুর ইউনিয়নের বটতলা এলাকার ভোটার বাবুল মিয়া (পিতা—মৃত আব্দুল মালেক) অভিযোগ করেন, ফোনকলের মাধ্যমে তাকে স্বাক্ষর প্রত্যাহারের জন্য হুমকি দেওয়া হয়েছে।

তার ভাষ্য, “স্বাক্ষর বাতিল না করলে পরিণতি ভালো হবে না—এমন কথা বলা হয়েছে।” অভিযোগ অস্বীকার করে তোফাজ্জল হোসেন তাজ্জত বলেন, “আমি ইউনিয়ন পরিষদে ব্যক্তিগত কাজে গিয়েছিলাম। এ সময় আনিস মিয়া এসে তর্ক-বিতর্ক শুরু করে। পরে স্থানীয়দের সঙ্গে হাতাহাতি হয়।” ঘটনার পর থেকে বলাইশিমুল ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, এ ধরনের ভয়ভীতি অব্যাহত থাকলে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। এ বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সচেতন মহল দাবি করছেন, ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে নির্বাচনসংক্রান্ত সব কার্যক্রমে প্রশাসনের দৃশ্যমান ও কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা না হলে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে।

এ ব্যাপারে স্বতন্ত্র প্রার্থী দেলুয়ার হোসেন ভূইয়া বাদি হয়ে নেত্রকোণা জেলা রির্টাননিং কর্মকর্তার বরাবর গতকাল ১ জানুয়ারী ২০২৬ বিকেলে এক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Gojnobi biplob

Popular Post

হামের টিকা নিয়ে পূর্ববর্তী সরকারগুলো ক্ষমাহীন অপরাধ করেছে : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

কেন্দুয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের ওপর সংগঠিত হামলার অভিযোগ। প্রশাসনের উপস্থিতিতেই স্বাক্ষর যাচাইয়ে বাধা

প্রকাশের সময় : ১০:২৪:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬

কেন্দুয়া নেত্রকোণা-৩ (কেন্দুয়া-আটপাড়া) সংসদীয় আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রার্থিতা যাচাই কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে ভয়ভীতি, হুমকি ও শারীরিক হামলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর অনুসারীদের বিরুদ্ধে।

উপজেলা প্রশাসনের উপস্থিতিতেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সূচনা হলেও প্রশাসনিক প্রতিনিধি ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর প্রকাশ্য হামলার ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর ২০২৫) দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে কেন্দুয়া উপজেলার বলাইশিমুল ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের অদূরে বলাইশিমুল দক্ষিণপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, স্বতন্ত্র প্রার্থী আলহাজ্ব দেলোয়ার হোসেন ভূইয়া দুলালের পক্ষে প্রয়োজনীয় ১ শতাংশ ভোটার সমর্থনের তালিকা যাচাই করতে উপজেলা প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান (ইনস্ট্রাক্টর, উপজেলা রিসোর্স সেন্টার ও প্রশাসক, গড়াডোবা ইউনিয়ন পরিষদ) ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসনে দাখিল করা তালিকা অনুযায়ী ওই সময় ১০ জন ভোটারের স্বাক্ষর যাচাই প্রক্রিয়া চলছিল। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, যাচাই কার্যক্রম শুরুর আগেই বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রফিকুল ইসলাম হিলালীর অনুসারী একটি সংঘবদ্ধ গ্রুপ ভোটার ও সাক্ষীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। তারা স্বাক্ষর প্রত্যাহার এবং সাক্ষ্য না দেওয়ার জন্য ভয়ভীতি ও হুমকি দেয়।

অভিযোগে যাদের নাম উঠে এসেছে, তারা হলেন— তোফাজ্জল হোসেন তাজ্জত (৪০), মো. খোকন মিয়া (বলাইশিমুল ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা), দীপক (বলাইশিমুল ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব), সাঈদ মিয়াসহ আরও কয়েকজন। স্থানীয়দের অভিযোগ, দলীয় পরিচয় ও প্রভাব খাটিয়ে তারা ভোটারদের ভয় দেখান এবং পুরো যাচাই প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উপজেলা প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। স্বাক্ষরের পক্ষে সাক্ষ্য দিয়ে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার সময় মো. আনিসুল হক (পিতা—মৃত আব্দুল বারেক), বলাইশিমুল মাইজপাড়ার বাসিন্দাকে তোফাজ্জল হোসেনের বাড়ির সামনে পথরোধ করে মারধর করা হয়। এ ছাড়া বলাইশিমুল দক্ষিণপাড়ার ভোটার মো. আতিকুর রহমান শফিক ও বলাইশিমুল মাইজপাড়ার মো. কালাম মিয়াকে প্রকাশ্যে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে মো. কালাম মিয়াকে পথরোধ করে আটকে রাখা হলে স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে পাঠানো হয়। অন্যদিকে, উপজেলার মোজাফফরপুর ইউনিয়নের বটতলা এলাকার ভোটার বাবুল মিয়া (পিতা—মৃত আব্দুল মালেক) অভিযোগ করেন, ফোনকলের মাধ্যমে তাকে স্বাক্ষর প্রত্যাহারের জন্য হুমকি দেওয়া হয়েছে।

তার ভাষ্য, “স্বাক্ষর বাতিল না করলে পরিণতি ভালো হবে না—এমন কথা বলা হয়েছে।” অভিযোগ অস্বীকার করে তোফাজ্জল হোসেন তাজ্জত বলেন, “আমি ইউনিয়ন পরিষদে ব্যক্তিগত কাজে গিয়েছিলাম। এ সময় আনিস মিয়া এসে তর্ক-বিতর্ক শুরু করে। পরে স্থানীয়দের সঙ্গে হাতাহাতি হয়।” ঘটনার পর থেকে বলাইশিমুল ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, এ ধরনের ভয়ভীতি অব্যাহত থাকলে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। এ বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সচেতন মহল দাবি করছেন, ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে নির্বাচনসংক্রান্ত সব কার্যক্রমে প্রশাসনের দৃশ্যমান ও কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা না হলে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে।

এ ব্যাপারে স্বতন্ত্র প্রার্থী দেলুয়ার হোসেন ভূইয়া বাদি হয়ে নেত্রকোণা জেলা রির্টাননিং কর্মকর্তার বরাবর গতকাল ১ জানুয়ারী ২০২৬ বিকেলে এক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।