
নেত্রকোনার মদনে শাওন নামের এক নবম শ্রেনির শিক্ষার্থীকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসনাত জামান। আটককৃতরা হলেন মদন পৌরসভার মিতালি রোডের বাসিন্দা এনামুল হকের ছেলে মাহফুজ ( ১৭)। মাহফুজ এ বছর জাহাঙ্গীরপুর তহুরা আমিন সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেনির শিক্ষার্থী।
এর আগে এই ঘটনায় গত মঙ্গলবার কায়েস নামের আরেক কিশোরকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায় পুলিশ। কায়েস উপজেলার চানগাও চকপাড়ার সাসতন মিয়ার ছেলে।
এ ছাড়াও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মাহফুজের ছোট বোন মাহফুজা আক্তার ইভা(১৩) কে বুধবার সন্ধ্যায় আটক করা হয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ,নিহতের পরিবার ও স্থানীয় লোকজন সূত্রে জানা গেছে, নিহত শাওন ও গ্রেপ্তারকৃত মাহফুজ দুই জনেই একই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও তাদের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিল। পরে মাহফুজের বোন ইভার সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করে শাওন।
বিষয়টি মাহফুজ টের পেয়ে শাওনের ওপর ক্ষিপ্ত হয়। ক্ষোভ থেকে হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসনাত জামান জানান,’ শাওন হত্যাকান্ডের ঘটনায় দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদ শেষে এক কিশোরীকে তাদের পরিবারের হেফাজতে দেওয়া হয়েছে। প্রেম সংক্রান্ত বিরোধ থেকে হত্যাকান্ডের ঘটতে পারে বলে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে। মূল ঘটনা উদঘাটনের জন্য পুলিশ কাজ করছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ডিসেম্বর বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় স্কুলছাত্র শাওন। পরিবারের লোকজন অনেক খোঁজাখুঁজি করলেও তাকে খুঁজে পায়নি। পরে সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) সকালে কদমশ্রী হাওরের কৃষি জমি থেকে শাওনের মরদেহ উদ্ধার করে থানা পুলিশ। ওই ঘটনায় নিহত শাওনের বাবা আওলাদ হোসেন ভূইয়া ৩১ ডিসেম্বর অজ্ঞাতনামা আসামি করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ইমরান হোসেন
ইমরান হোসেন , মদন -নেত্রকোণা 








