ঢাকা ০৬:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আওয়ামী লীগ প্রভাবশালী নেতা এনায়েত এখন জামায়াতের প্রার্থী

ছবি সংগৃহিত
বিগত আওয়ামী লীগ শাসনামলে ঢাকা-৭ আসনে একাধিকবার সংসদ সদস্য ছিলেন হাজী সেলিম। এমপি থাকা অবস্থায় পুরান ঢাকার বিশাল অংশে আওয়ামী লীগ এবং তার নিজ পরিবারের দুঃশাসন কায়েম করেছিলেন তিনি। জমি দখল, চাঁদাবাজি ও খুনের মতো অভিযোগ রয়েছে হাজী সেলিম এবং তার পরিবারের বিরুদ্ধে।
জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে নিজের দলের সঙ্গে ক্ষমতা হারান তিনি এবং বর্তমানে একাধিক মামলায় আসামি হয়ে কারাগারে বন্দী জীবন যাপন করছেন হাজী সেলিম।
তবে, ৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৭ আসনে আবারও আলোচনায় আছেন হাজী সেলিম। তবে এবার তিনি সরাসরি নির্বাচনী ময়দানে না থেকে, তার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিকে প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে মাঠে পাঠিয়েছেন। জামায়াতে ইসলামী থেকে এই আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন হাফেজ হাজী মুহাম্মদ এনায়েত উল্লাহ। জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে এনায়েত উল্লাহর নাম উঠে আসার পর থেকেই ঢাকা-৭ নির্বাচনী এলাকায় নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
এনায়েত উল্লাহ বর্তমানে পুরান ঢাকার অন্যতম ব্যবসায়ী সংগঠন মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির দায়িত্ব পালন করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের সরাসরি অনুকম্পা ছাড়া এ ধরনের পদে তার যাওয়া সম্ভব ছিল না। আড়ালে আওয়ামী লীগ পরিচয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য চালানো এই ব্যক্তি এবার জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িপাল্লা মার্কা নিয়ে নির্বাচন করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পুরান ঢাকা ও গুলিস্তানে নিজেদের অবস্থান বজায় রাখতে হাজী সেলিম, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া ও অন্যান্য আওয়ামী লীগ নেতারা সুকৌশলে এনায়েত উল্লাহকে প্রার্থী বানিয়েছেন। এজন্য জামায়াতে ইসলামী সঙ্গে যোগসাজশ করে তিনি নির্বাচন করছেন, এবং এর পেছনে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে।
ঢাকা-৭ আসনের অনেক ভোটার জানিয়েছেন, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে এমন মুখোশের আড়ালে রাজনীতি হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। তাদের মতে, যে ব্যক্তি পূর্ববর্তী সরকারের দুঃশাসনের সুবিধা ভোগ করেছে, তাকে আবার জামায়াত থেকে মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের রাজনীতিকে তারা সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে প্রতারণা হিসেবে দেখছেন।
এনায়েত উল্লাহ জামায়াতের প্রার্থী ঘোষণার পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরোনো কিছু ছবি ভাইরাল হয়েছে, যেখানে হাজী সেলিমের পাশাপাশি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গেও তার বিশেষ সম্পর্ক ফুটে উঠছে।
এছাড়া, ঢাকার গুলশান-বনানীসহ দেশে-বিদেশে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের দেখভাল করার অভিযোগও রয়েছে এনায়েত উল্লাহ ও তার বড় ছেলের বিরুদ্ধে।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Gojnobi biplob

Popular Post

হামের টিকা নিয়ে পূর্ববর্তী সরকারগুলো ক্ষমাহীন অপরাধ করেছে : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আওয়ামী লীগ প্রভাবশালী নেতা এনায়েত এখন জামায়াতের প্রার্থী

প্রকাশের সময় : ০২:৫৪:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬
ছবি সংগৃহিত
বিগত আওয়ামী লীগ শাসনামলে ঢাকা-৭ আসনে একাধিকবার সংসদ সদস্য ছিলেন হাজী সেলিম। এমপি থাকা অবস্থায় পুরান ঢাকার বিশাল অংশে আওয়ামী লীগ এবং তার নিজ পরিবারের দুঃশাসন কায়েম করেছিলেন তিনি। জমি দখল, চাঁদাবাজি ও খুনের মতো অভিযোগ রয়েছে হাজী সেলিম এবং তার পরিবারের বিরুদ্ধে।
জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে নিজের দলের সঙ্গে ক্ষমতা হারান তিনি এবং বর্তমানে একাধিক মামলায় আসামি হয়ে কারাগারে বন্দী জীবন যাপন করছেন হাজী সেলিম।
তবে, ৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৭ আসনে আবারও আলোচনায় আছেন হাজী সেলিম। তবে এবার তিনি সরাসরি নির্বাচনী ময়দানে না থেকে, তার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিকে প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে মাঠে পাঠিয়েছেন। জামায়াতে ইসলামী থেকে এই আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন হাফেজ হাজী মুহাম্মদ এনায়েত উল্লাহ। জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে এনায়েত উল্লাহর নাম উঠে আসার পর থেকেই ঢাকা-৭ নির্বাচনী এলাকায় নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
এনায়েত উল্লাহ বর্তমানে পুরান ঢাকার অন্যতম ব্যবসায়ী সংগঠন মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির দায়িত্ব পালন করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের সরাসরি অনুকম্পা ছাড়া এ ধরনের পদে তার যাওয়া সম্ভব ছিল না। আড়ালে আওয়ামী লীগ পরিচয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য চালানো এই ব্যক্তি এবার জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িপাল্লা মার্কা নিয়ে নির্বাচন করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পুরান ঢাকা ও গুলিস্তানে নিজেদের অবস্থান বজায় রাখতে হাজী সেলিম, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া ও অন্যান্য আওয়ামী লীগ নেতারা সুকৌশলে এনায়েত উল্লাহকে প্রার্থী বানিয়েছেন। এজন্য জামায়াতে ইসলামী সঙ্গে যোগসাজশ করে তিনি নির্বাচন করছেন, এবং এর পেছনে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে।
ঢাকা-৭ আসনের অনেক ভোটার জানিয়েছেন, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে এমন মুখোশের আড়ালে রাজনীতি হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। তাদের মতে, যে ব্যক্তি পূর্ববর্তী সরকারের দুঃশাসনের সুবিধা ভোগ করেছে, তাকে আবার জামায়াত থেকে মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের রাজনীতিকে তারা সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে প্রতারণা হিসেবে দেখছেন।
এনায়েত উল্লাহ জামায়াতের প্রার্থী ঘোষণার পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরোনো কিছু ছবি ভাইরাল হয়েছে, যেখানে হাজী সেলিমের পাশাপাশি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গেও তার বিশেষ সম্পর্ক ফুটে উঠছে।
এছাড়া, ঢাকার গুলশান-বনানীসহ দেশে-বিদেশে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের দেখভাল করার অভিযোগও রয়েছে এনায়েত উল্লাহ ও তার বড় ছেলের বিরুদ্ধে।