
ভালোবাসা যে ভাষা, দেশ কিংবা সংস্কৃতির কোনো সীমারেখা মানে না—তারই জীবন্ত উদাহরণ ফ্রান্সের তরুণী সিনথিয়া ইসলাম ও লক্ষ্মীপুরের আরিফুল ইসলাম রাসেলের প্রেমকাহিনি। ইউরোপের মাটি পেরিয়ে ভালোবাসার টানে সম্প্রতি স্বামীর গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুরে এসেছেন এই ফরাসি তরুণী।
বিয়ের আগে সিনথিয়া খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী ছিলেন। ইসলাম ধর্মের প্রতি আগ্রহ থেকে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন এবং নিজের নাম পরিবর্তন করে রাখেন সিনথিয়া ইসলাম। এরপর ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী লক্ষ্মীপুরে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বর্তমানে তাদের সংসারে রয়েছে দুই সন্তান—আমেনা ইসলাম (৬) ও আলিফ ইসলাম (৪)।
রাসেল ও সিনথিয়া বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বেশ পরিচিত মুখ। ২০২৪ সালে তারা “Russell & Cynthia” নামে একটি ফেসবুক পেজ চালু করেন, যার বর্তমান ফলোয়ার সংখ্যা প্রায় ২১ লাখ। এর মধ্যে ৬০ শতাংশ বিদেশি অনুসারী। তাদের ভিডিও ও কনটেন্টে ফুটে ওঠে বাংলাদেশি সংস্কৃতি, গ্রামীণ জীবন ও পারিবারিক বন্ধনের গল্প।
রাসেল বলেন, “আমার মাতৃভূমি বাংলাদেশ, আবার আমার স্ত্রীর দেশ ফ্রান্স। সন্তানদের দু’দেশের সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত করাতে চাই। ভবিষ্যতে ব্যবসা করলে ছয় মাস বাংলাদেশ ও ছয় মাস ফ্রান্সে থাকার পরিকল্পনা রয়েছে।”
সিনথিয়া ফরাসি ভাষায় জানান, বাংলাদেশের পারিবারিক বন্ধন, একে অপরের প্রতি ভালোবাসা ও সামাজিক সম্পর্ক তাকে সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করেছে। বাংলা ভাষায় তিনি হাসিমুখে বলেন, “আমার দেশ বাংলাদেশ।” শাশুড়ির হাতে তৈরি পিঠা তার প্রিয় খাবারের তালিকায় শীর্ষে।
ভিন্ন দেশ, ভিন্ন ভাষা আর ভিন্ন সংস্কৃতির মাঝেও ভালোবাসা যে সব ব্যবধান ঘুচিয়ে দিতে পারে—লক্ষ্মীপুরের মাটিতে দাঁড়িয়ে সিনথিয়া ও রাসেলের গল্প যেন তারই নিঃশব্দ প্রমাণ।
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি 








