ঢাকা ০৮:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রায় এক দশক পর জাতিসংঘের আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যার বিচার শুরু

প্রায় এক দশক পর মিয়ানমারের ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত গণহত্যা মামলার বিচার শুরু হতে যাচ্ছে জাতিসংঘের আদালত ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে (আইসিজি)। এই আদালত ‘বৈশ্বিক আদালত’ বা ‘ওয়ার্ল্ড কোর্ট’ নামেও পরিচিত। খবর রয়টার্স।

নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে অবস্থিত জাতিসংঘের এই আদালতে আজ সোমবার দেশটির স্থানীয় সময় সকাল ১০টা থেকে (বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা) মামলার শুনানি শুরু হবে। টানা তিন সপ্তাহ ধরে চলবে এই শুনানিপর্ব।

জাতিসংঘের আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যা সংক্রান্ত যে মামলাটি নথিভুক্ত রয়েছে, তার তদন্তকারী সংস্থা ‘ইউএন ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইনভেস্টিগেটিভ মেকানিজম ফর মিয়ানমার’-এর প্রধান নিকোলাস কৌমজিয়ান বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

২০১৭ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের কয়েকটি পুলিশ স্টেশন ও সেনা ছাউনিতে বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। এসব হামলার জন্য সশস্ত্র রোহিঙ্গা গোষ্ঠী আরাকান স্যালভেশন আর্মি (আরসা)-কে দায়ী করে মিয়ানমার সরকার। এর পরপরই ওই মাসে রোহিঙ্গা অধ্যুষিত গ্রামগুলোতে অভিযান শুরু করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।

অভিযানের নামে সেনাবাহিনীর চালানো হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের মুখে পড়ে লাখ লাখ রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশসহ আশপাশের বিভিন্ন দেশে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। বাংলাদেশ সরকারের হিসাব অনুযায়ী, সে সময় প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় এবং তারা এখনো সেখানেই অবস্থান করছে।

২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অভিযানের পর জাতিসংঘের একটি অনুসন্ধানী দল তদন্ত চালিয়ে সেনাবাহিনীর কর্মকাণ্ডকে ‘গণহত্যামূলক তৎপরতা’ হিসেবে উল্লেখ করে। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই ২০১৯ সালে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আইসিজিতে গণহত্যার মামলা দায়ের করে।

অভিযানের সময় মিয়ানমারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন অং সান সুচি। তিনি জাতিসংঘের তদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেন এবং গাম্বিয়ার মামলাকে ‘অসম্পূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর’ বলে আখ্যা দেন। তবে ২০২১ সালে সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বর্তমানে তিনি কারাবন্দি রয়েছেন।

এই মামলার প্রধান তদন্তকারী নিকোলাস কৌমজিয়ান রয়টার্সকে বলেন, গণহত্যার সংজ্ঞা নির্ধারণ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় এই মামলা একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Gojnobi biplob

Popular Post

হামের টিকা নিয়ে পূর্ববর্তী সরকারগুলো ক্ষমাহীন অপরাধ করেছে : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রায় এক দশক পর জাতিসংঘের আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যার বিচার শুরু

প্রকাশের সময় : ০৩:৪৬:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

প্রায় এক দশক পর মিয়ানমারের ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত গণহত্যা মামলার বিচার শুরু হতে যাচ্ছে জাতিসংঘের আদালত ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে (আইসিজি)। এই আদালত ‘বৈশ্বিক আদালত’ বা ‘ওয়ার্ল্ড কোর্ট’ নামেও পরিচিত। খবর রয়টার্স।

নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে অবস্থিত জাতিসংঘের এই আদালতে আজ সোমবার দেশটির স্থানীয় সময় সকাল ১০টা থেকে (বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা) মামলার শুনানি শুরু হবে। টানা তিন সপ্তাহ ধরে চলবে এই শুনানিপর্ব।

জাতিসংঘের আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যা সংক্রান্ত যে মামলাটি নথিভুক্ত রয়েছে, তার তদন্তকারী সংস্থা ‘ইউএন ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইনভেস্টিগেটিভ মেকানিজম ফর মিয়ানমার’-এর প্রধান নিকোলাস কৌমজিয়ান বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

২০১৭ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের কয়েকটি পুলিশ স্টেশন ও সেনা ছাউনিতে বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। এসব হামলার জন্য সশস্ত্র রোহিঙ্গা গোষ্ঠী আরাকান স্যালভেশন আর্মি (আরসা)-কে দায়ী করে মিয়ানমার সরকার। এর পরপরই ওই মাসে রোহিঙ্গা অধ্যুষিত গ্রামগুলোতে অভিযান শুরু করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।

অভিযানের নামে সেনাবাহিনীর চালানো হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের মুখে পড়ে লাখ লাখ রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশসহ আশপাশের বিভিন্ন দেশে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। বাংলাদেশ সরকারের হিসাব অনুযায়ী, সে সময় প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় এবং তারা এখনো সেখানেই অবস্থান করছে।

২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অভিযানের পর জাতিসংঘের একটি অনুসন্ধানী দল তদন্ত চালিয়ে সেনাবাহিনীর কর্মকাণ্ডকে ‘গণহত্যামূলক তৎপরতা’ হিসেবে উল্লেখ করে। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই ২০১৯ সালে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আইসিজিতে গণহত্যার মামলা দায়ের করে।

অভিযানের সময় মিয়ানমারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন অং সান সুচি। তিনি জাতিসংঘের তদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেন এবং গাম্বিয়ার মামলাকে ‘অসম্পূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর’ বলে আখ্যা দেন। তবে ২০২১ সালে সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বর্তমানে তিনি কারাবন্দি রয়েছেন।

এই মামলার প্রধান তদন্তকারী নিকোলাস কৌমজিয়ান রয়টার্সকে বলেন, গণহত্যার সংজ্ঞা নির্ধারণ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় এই মামলা একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।