ঢাকা ০৩:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় জাতিসংঘের সহায়তা চাইলেন প্রধান উপদেষ্টা

  • বেঙ্গল নিউজ ডেক্স
  • প্রকাশের সময় : ১১:১৬:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২১৩ বার পড়া হয়েছে

ছবি সংগৃহিত

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভুয়া তথ্য ও বিভ্রান্তি মোকাবিলায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়ের সহায়তা চেয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এ বিষয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্কের সঙ্গে মঙ্গলবার টেলিফোনে কথা বলেন তিনি।

আলোচনায় অধ্যাপক ইউনূস বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে ভুয়া তথ্যের একধরনের বন্যা দেখা যাচ্ছে। বিদেশি গণমাধ্যমের পাশাপাশি স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র থেকেও এসব তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা সংবাদ, গুজব ও অনুমানের ছড়াছড়ি চলছে, যা নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে সরকার উদ্বিগ্ন।

জবাবে ভলকার তুর্ক বলেন, বিষয়টি তাঁর নজরে এসেছে। তিনি জানান, ভুয়া তথ্যের ক্রমবর্ধমান এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় বাংলাদেশের পাশে থাকবে। তিনি বলেন, ‘ভুয়া তথ্যের পরিমাণ অনেক। এ সমস্যা মোকাবিলায় যা করা প্রয়োজন, আমরা তা করব।’

এ ক্ষেত্রে জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে বলেও জানান তিনি।টেলিফোনালাপে দুই পক্ষ আসন্ন গণভোট, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের গুরুত্ব, গুম সংক্রান্ত কমিশনের কার্যক্রম, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (এনএইচআরসি) গঠন এবং বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করেন।

ভলকার তুর্ক গুমসংক্রান্ত বিষয়গুলোর অনুসন্ধান ও কাজ এগিয়ে নিতে ‘বাস্তব অর্থে স্বাধীন’ একটি জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। এর জবাবে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ ইতিমধ্যে জারি করা হয়েছে এবং ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগেই নতুন কমিশন পুনর্গঠন করা হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা যাওয়ার আগেই এটি করব।’

প্রধান উপদেষ্টা আরও জানান, তিনি গুমসংক্রান্ত কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনারের কাছে হস্তান্তর করেছেন। ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত স্বৈরশাসনামলে সংঘটিত গুমের শিকার ব্যক্তিদের জন্য জবাবদিহি ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে এই প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এ সময় ভলকার তুর্ক গত দেড় বছরে প্রধান উপদেষ্টার নেয়া উদ্যোগগুলোর প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, তাঁর দপ্তর গুমসংক্রান্ত কমিশনের কাজে সহায়তা করেছে এবং ভবিষ্যতেও এই সহায়তা অব্যাহত থাকবে।টেলিফোনালাপের সময় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে এসডিজি সমন্বয়ক ও জ্যেষ্ঠ সচিব লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Gojnobi biplob

Popular Post

হামের টিকা নিয়ে পূর্ববর্তী সরকারগুলো ক্ষমাহীন অপরাধ করেছে : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় জাতিসংঘের সহায়তা চাইলেন প্রধান উপদেষ্টা

প্রকাশের সময় : ১১:১৬:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

ছবি সংগৃহিত

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভুয়া তথ্য ও বিভ্রান্তি মোকাবিলায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়ের সহায়তা চেয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এ বিষয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্কের সঙ্গে মঙ্গলবার টেলিফোনে কথা বলেন তিনি।

আলোচনায় অধ্যাপক ইউনূস বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে ভুয়া তথ্যের একধরনের বন্যা দেখা যাচ্ছে। বিদেশি গণমাধ্যমের পাশাপাশি স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র থেকেও এসব তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা সংবাদ, গুজব ও অনুমানের ছড়াছড়ি চলছে, যা নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে সরকার উদ্বিগ্ন।

জবাবে ভলকার তুর্ক বলেন, বিষয়টি তাঁর নজরে এসেছে। তিনি জানান, ভুয়া তথ্যের ক্রমবর্ধমান এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় বাংলাদেশের পাশে থাকবে। তিনি বলেন, ‘ভুয়া তথ্যের পরিমাণ অনেক। এ সমস্যা মোকাবিলায় যা করা প্রয়োজন, আমরা তা করব।’

এ ক্ষেত্রে জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে বলেও জানান তিনি।টেলিফোনালাপে দুই পক্ষ আসন্ন গণভোট, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের গুরুত্ব, গুম সংক্রান্ত কমিশনের কার্যক্রম, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (এনএইচআরসি) গঠন এবং বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করেন।

ভলকার তুর্ক গুমসংক্রান্ত বিষয়গুলোর অনুসন্ধান ও কাজ এগিয়ে নিতে ‘বাস্তব অর্থে স্বাধীন’ একটি জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। এর জবাবে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ ইতিমধ্যে জারি করা হয়েছে এবং ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগেই নতুন কমিশন পুনর্গঠন করা হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা যাওয়ার আগেই এটি করব।’

প্রধান উপদেষ্টা আরও জানান, তিনি গুমসংক্রান্ত কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনারের কাছে হস্তান্তর করেছেন। ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত স্বৈরশাসনামলে সংঘটিত গুমের শিকার ব্যক্তিদের জন্য জবাবদিহি ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে এই প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এ সময় ভলকার তুর্ক গত দেড় বছরে প্রধান উপদেষ্টার নেয়া উদ্যোগগুলোর প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, তাঁর দপ্তর গুমসংক্রান্ত কমিশনের কাজে সহায়তা করেছে এবং ভবিষ্যতেও এই সহায়তা অব্যাহত থাকবে।টেলিফোনালাপের সময় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে এসডিজি সমন্বয়ক ও জ্যেষ্ঠ সচিব লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।