ঢাকা ১০:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রতীকের জোর নাকি তৃণমূলের আস্থা? কেন্দুয়া-আটপাড়ায় সিদ্ধান্ত এখন জনতার হাতে

দরজায় কড়া নাড়ছে বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচন। নেত্রকোনা–০৩ (কেন্দুয়া–আটপাড়া) সংসদীয় আসনে এখন নির্বাচনী উত্তাপ তুঙ্গে। হাট-বাজার, চায়ের দোকান কিংবা পাড়া-মহল্লা—সর্বত্রই এখন আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু একটাই -ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে কার মাথায় উঠছে বিজয়ের মুকুট? দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর কার পক্ষে যাবে জনতার রায়?
এবারের নির্বাচনে এই আসনে দ্বিমুখী লড়াইয়ের সমীকরণ তৈরি হয়েছে। একদিকে রয়েছেন তৃণমূল রাজনীতির পরিচিত মুখ বিএনপি ঘরানার স্বতন্ত্র প্রার্থী আলহাজ্ব দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া দুলাল, অন্যদিকে দলীয় প্রতীক নিয়ে লড়ছেন অভিজ্ঞ রাজনৈতিক সংগঠক আলহাজ্ব রফিকুল ইসলাম হিলালী।
স্বতন্ত্র প্রার্থী দুলাল চেয়ারম্যান দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল রাজনীতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত থেকে তিনি সাধারণ মানুষের আস্থার জায়গা তৈরি করেছেন। বিশেষ করে বিগত ৫ই আগস্টের পর-তার অবস্থান এবং তার ক্লীন ইমেজের কারণে ভোটারদের একটি বড় অংশ তাকে ‘জনতার নেতা’ হিসেবে দেখছেন। তাঁর অনুসারীদের মতে, দলীয় প্রভাবের চেয়ে ব্যক্তিগত ইমেজই এখানে বড় ফ্যাক্টর।
অন্যদিকে ধানের শীষের প্রার্থী রফিকুল ইসলাম হিলালী একজন আধুনিক ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির অধিকারী মানুষ। তিনি জেলা পর্যায়ে্র একজন প্রভাবশালী নেতা। নিবেদিতপ্রাণ দলীয় কর্মী এবং দক্ষ সংগঠক হিসেবে তাঁর শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে। দলীয় ভোটব্যাংকের পাশাপাশি তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতা জয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সমর্থকরা।
বাস্তবতার নিরিখে ভোটারদের ভাবনা
২০২৪ সালের নির্বাচনের অভিজ্ঞতা টেনে স্থানীয় বিশ্লেষকরা বলছেন, কেবল কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান থাকলেই যে জয় নিশ্চিত—এমন ধারণা এবার পাল্টে যেতে পারে। ভোটারদের মতে, আত্মবিশ্বাস থাকা ভালো, কিন্তু অহংকার পতনের কারণ হতে পারে। প্রার্থী স্বতন্ত্র হোক বা দলীয়—শেষ পর্যন্ত ব্যালটেই নির্ধারিত হবে প্রকৃত জনপ্রিয়তা।
জনসাধারণের দাবি, প্রচারণা যেন কেবল ভোট চাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে; বরং তা যেন হয় ইতিবাচক। রাজনীতিতে চরিত্রহনন বা ব্যক্তিগত আক্রমণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। কারণ একজন অযোগ্য নেতা নির্বাচিত হলে তার মাসুল দিতে হয় আগামী প্রজন্মকে।
তবে শেষ কথা বলবে ব্যালট কেন্দুয়া–আটপাড়ার মোড়ে মোড়ে এখন উৎকণ্ঠার দোলাচল। এবারের নির্বাচনে নেতিবাচক প্রচারণার চেয়ে ইতিবাচক রাজনীতিকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন সাধারণ ভোটাররা। দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসবেন, তা জানতে অপেক্ষা আর মাত্র কয়েকটা দিনের ।
গণতন্ত্রের সৌন্দর্যে হার-জিত থাকবেই, তবে সবকিছুর ঊর্ধ্বে জনরায়কে শ্রদ্ধা জানানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। শেষ পর্যন্ত এলাকার উন্নয়ন ও জনগণের আস্থার প্রতিফলন ঘটবে ব্যালট বাক্সে—এমনটাই প্রত্যাশা নেত্রকোনা-০৩ আসনের সাধারণ মানুষের।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Gojnobi biplob

স্বামী বিদেশে থাকতেই অন্তঃসত্ত্বা, পরে গোপন গর্ভপাতের অভিযোগ চিকিৎসা প্রতিবেদনে ‘অসম্পূর্ণ গর্ভপাত’, এফিডেভিটের পর ঘটনাপ্রবাহ ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য

প্রতীকের জোর নাকি তৃণমূলের আস্থা? কেন্দুয়া-আটপাড়ায় সিদ্ধান্ত এখন জনতার হাতে

প্রকাশের সময় : ১২:৫৩:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬
দরজায় কড়া নাড়ছে বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচন। নেত্রকোনা–০৩ (কেন্দুয়া–আটপাড়া) সংসদীয় আসনে এখন নির্বাচনী উত্তাপ তুঙ্গে। হাট-বাজার, চায়ের দোকান কিংবা পাড়া-মহল্লা—সর্বত্রই এখন আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু একটাই -ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে কার মাথায় উঠছে বিজয়ের মুকুট? দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর কার পক্ষে যাবে জনতার রায়?
এবারের নির্বাচনে এই আসনে দ্বিমুখী লড়াইয়ের সমীকরণ তৈরি হয়েছে। একদিকে রয়েছেন তৃণমূল রাজনীতির পরিচিত মুখ বিএনপি ঘরানার স্বতন্ত্র প্রার্থী আলহাজ্ব দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া দুলাল, অন্যদিকে দলীয় প্রতীক নিয়ে লড়ছেন অভিজ্ঞ রাজনৈতিক সংগঠক আলহাজ্ব রফিকুল ইসলাম হিলালী।
স্বতন্ত্র প্রার্থী দুলাল চেয়ারম্যান দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল রাজনীতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত থেকে তিনি সাধারণ মানুষের আস্থার জায়গা তৈরি করেছেন। বিশেষ করে বিগত ৫ই আগস্টের পর-তার অবস্থান এবং তার ক্লীন ইমেজের কারণে ভোটারদের একটি বড় অংশ তাকে ‘জনতার নেতা’ হিসেবে দেখছেন। তাঁর অনুসারীদের মতে, দলীয় প্রভাবের চেয়ে ব্যক্তিগত ইমেজই এখানে বড় ফ্যাক্টর।
অন্যদিকে ধানের শীষের প্রার্থী রফিকুল ইসলাম হিলালী একজন আধুনিক ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির অধিকারী মানুষ। তিনি জেলা পর্যায়ে্র একজন প্রভাবশালী নেতা। নিবেদিতপ্রাণ দলীয় কর্মী এবং দক্ষ সংগঠক হিসেবে তাঁর শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে। দলীয় ভোটব্যাংকের পাশাপাশি তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতা জয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সমর্থকরা।
বাস্তবতার নিরিখে ভোটারদের ভাবনা
২০২৪ সালের নির্বাচনের অভিজ্ঞতা টেনে স্থানীয় বিশ্লেষকরা বলছেন, কেবল কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান থাকলেই যে জয় নিশ্চিত—এমন ধারণা এবার পাল্টে যেতে পারে। ভোটারদের মতে, আত্মবিশ্বাস থাকা ভালো, কিন্তু অহংকার পতনের কারণ হতে পারে। প্রার্থী স্বতন্ত্র হোক বা দলীয়—শেষ পর্যন্ত ব্যালটেই নির্ধারিত হবে প্রকৃত জনপ্রিয়তা।
জনসাধারণের দাবি, প্রচারণা যেন কেবল ভোট চাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে; বরং তা যেন হয় ইতিবাচক। রাজনীতিতে চরিত্রহনন বা ব্যক্তিগত আক্রমণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। কারণ একজন অযোগ্য নেতা নির্বাচিত হলে তার মাসুল দিতে হয় আগামী প্রজন্মকে।
তবে শেষ কথা বলবে ব্যালট কেন্দুয়া–আটপাড়ার মোড়ে মোড়ে এখন উৎকণ্ঠার দোলাচল। এবারের নির্বাচনে নেতিবাচক প্রচারণার চেয়ে ইতিবাচক রাজনীতিকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন সাধারণ ভোটাররা। দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসবেন, তা জানতে অপেক্ষা আর মাত্র কয়েকটা দিনের ।
গণতন্ত্রের সৌন্দর্যে হার-জিত থাকবেই, তবে সবকিছুর ঊর্ধ্বে জনরায়কে শ্রদ্ধা জানানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। শেষ পর্যন্ত এলাকার উন্নয়ন ও জনগণের আস্থার প্রতিফলন ঘটবে ব্যালট বাক্সে—এমনটাই প্রত্যাশা নেত্রকোনা-০৩ আসনের সাধারণ মানুষের।