ঢাকা ০৩:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেত্রকোনায় গত ১ বছরে  ২০৭টি অস্বাভাবিক মৃত্যু

২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত গত ১ বছরে নেত্রকোনা জেলায় ২০৭টি অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বেশিরভাগ অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে সড়ক দুর্ঘটনায়। সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর মিছিল ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়ায় জনমনে চরম উদ্বেগ উৎকণ্ঠা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়াও অস্বাভাবিক মৃত্যুর মধ্যে রয়েছে হত্যা, গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা, বিষপানে আত্মহত্যা, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু ও পানিতে ডুবে মৃত্যু।

সচেতন বিশ্লেষকদের মতে, অস্বাভাবিক মৃত্যুর সংখ্যা সরকারি হিসেবের চেয়েও অনেক বেশি। কারণ অনেক সময় নিভৃতপল্লী এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনা, পানিতে ডুবে মৃত্যু, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কেউ মারা গেলে পুলিশি হয়রানী কিংবা ময়না তদন্তে কাঁটা ছেড়ার ভয়ে প্রশাসনকে না জানিয়ে অথবা জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি সাপেক্ষে লাশ দাফনের ব্যবস্থা করায় সরকারি হিসেবে নথিভুক্ত হয় না।

নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) সূত্রে জানা যায়, নেত্রকোনা জেলায় ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে ১৩টি, ফেব্রুয়ারি মাসে ১৪টি, মার্চ মাসে ১৮টি, এপ্রিল মাসে ২০টি, মে মাসে ২০টি, জুন মাসে ১৮টি, জুলাই মাসে ২২টি, আগস্ট মাসে ২৫টি, সেপ্টেম্বর মাসে ১৬টি, অক্টোবর মাসে ১২টি, নভেম্বর মাসে ১৭টি ও ডিসেম্বর মাসে ১২টিসহ মোট ২০৭টি অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

নিরাপদ সড়কের দাবীতে সোচ্চার সচেতন নাগরিক সমাজ এর সভাপতি সানাউল হক মাসুম বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করতে হলে সবার আগে বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ, জেলা পরিবহন মালিক সমিতি ও জেলা মোটরযান শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের উদ্যোগে সব ধরণের যানবাহন চালকদেরকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ গাড়ি চালক তৈরি করার পাশাপাশি রাস্তায় কিভাবে গাড়ি চালাতে হয় সে সব নিয়ম কানুন সম্পর্কে তাদেরকে সচেতন করতে হবে। অপ্রাপ্ত বয়স্ক, অদক্ষ এবং মাদকাসক্ত অবস্থায় কেউ যেন গাড়ি না চালায় এবং ট্রাফিক আইন যাতে সবাই মেনে চলে তার জন্য ট্রাফিক বিভাগকে আরো সততা ও আন্তরিকতার সহিত কাজ করতে হবে।

নেত্রকোনা বিআরটিএ’র সহকারী পরিচালক জি এম নাদির হোসেন বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধ কল্পে আমরা বাস, ট্রাক, পিক-আপ ভ্যান ও অন্যান্য যানবাহন চালকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাসহ চালক হেলপার ও পথচারীদেরকে স্ব স্ব স্থান থেকে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করে যাচ্ছি।

পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম  বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধ কল্পে নিরাপদ সড়ক আইন বাস্তবায়নে আমরা পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে কাজ করে যাচ্ছি। এছাড়াও পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে সড়ক দুর্ঘটনা রোধ ও ট্রাফিক আইন মেনে চলতে চালক, হেলপার ও পথচারীদের মাঝে ব্যাপক জনসচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে হেলম্যাট বিতরন করা সহ নানা ধরনের উদ্ধুদ্ধ করণ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। পুলিশ বিভাগ সড়ক দুর্ঘটনার পরপরই মামলা নিচ্ছে এবং অভিযুক্ত চালকদেরকে গ্রেফতার করে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Gojnobi biplob

Popular Post

হামের টিকা নিয়ে পূর্ববর্তী সরকারগুলো ক্ষমাহীন অপরাধ করেছে : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

নেত্রকোনায় গত ১ বছরে  ২০৭টি অস্বাভাবিক মৃত্যু

প্রকাশের সময় : ০১:২৮:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত গত ১ বছরে নেত্রকোনা জেলায় ২০৭টি অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বেশিরভাগ অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে সড়ক দুর্ঘটনায়। সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর মিছিল ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়ায় জনমনে চরম উদ্বেগ উৎকণ্ঠা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়াও অস্বাভাবিক মৃত্যুর মধ্যে রয়েছে হত্যা, গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা, বিষপানে আত্মহত্যা, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু ও পানিতে ডুবে মৃত্যু।

সচেতন বিশ্লেষকদের মতে, অস্বাভাবিক মৃত্যুর সংখ্যা সরকারি হিসেবের চেয়েও অনেক বেশি। কারণ অনেক সময় নিভৃতপল্লী এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনা, পানিতে ডুবে মৃত্যু, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কেউ মারা গেলে পুলিশি হয়রানী কিংবা ময়না তদন্তে কাঁটা ছেড়ার ভয়ে প্রশাসনকে না জানিয়ে অথবা জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি সাপেক্ষে লাশ দাফনের ব্যবস্থা করায় সরকারি হিসেবে নথিভুক্ত হয় না।

নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) সূত্রে জানা যায়, নেত্রকোনা জেলায় ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে ১৩টি, ফেব্রুয়ারি মাসে ১৪টি, মার্চ মাসে ১৮টি, এপ্রিল মাসে ২০টি, মে মাসে ২০টি, জুন মাসে ১৮টি, জুলাই মাসে ২২টি, আগস্ট মাসে ২৫টি, সেপ্টেম্বর মাসে ১৬টি, অক্টোবর মাসে ১২টি, নভেম্বর মাসে ১৭টি ও ডিসেম্বর মাসে ১২টিসহ মোট ২০৭টি অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

নিরাপদ সড়কের দাবীতে সোচ্চার সচেতন নাগরিক সমাজ এর সভাপতি সানাউল হক মাসুম বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করতে হলে সবার আগে বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ, জেলা পরিবহন মালিক সমিতি ও জেলা মোটরযান শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের উদ্যোগে সব ধরণের যানবাহন চালকদেরকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ গাড়ি চালক তৈরি করার পাশাপাশি রাস্তায় কিভাবে গাড়ি চালাতে হয় সে সব নিয়ম কানুন সম্পর্কে তাদেরকে সচেতন করতে হবে। অপ্রাপ্ত বয়স্ক, অদক্ষ এবং মাদকাসক্ত অবস্থায় কেউ যেন গাড়ি না চালায় এবং ট্রাফিক আইন যাতে সবাই মেনে চলে তার জন্য ট্রাফিক বিভাগকে আরো সততা ও আন্তরিকতার সহিত কাজ করতে হবে।

নেত্রকোনা বিআরটিএ’র সহকারী পরিচালক জি এম নাদির হোসেন বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধ কল্পে আমরা বাস, ট্রাক, পিক-আপ ভ্যান ও অন্যান্য যানবাহন চালকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাসহ চালক হেলপার ও পথচারীদেরকে স্ব স্ব স্থান থেকে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করে যাচ্ছি।

পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম  বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধ কল্পে নিরাপদ সড়ক আইন বাস্তবায়নে আমরা পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে কাজ করে যাচ্ছি। এছাড়াও পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে সড়ক দুর্ঘটনা রোধ ও ট্রাফিক আইন মেনে চলতে চালক, হেলপার ও পথচারীদের মাঝে ব্যাপক জনসচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে হেলম্যাট বিতরন করা সহ নানা ধরনের উদ্ধুদ্ধ করণ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। পুলিশ বিভাগ সড়ক দুর্ঘটনার পরপরই মামলা নিচ্ছে এবং অভিযুক্ত চালকদেরকে গ্রেফতার করে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছে।