ঢাকা ০৩:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে সুরমা নদীর ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ৩ গ্রাম

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারের মান্নারগাঁও ইউনিয়নের আশরাফপুর, আজমপুর ও ইদনপুর গ্রাম ভয়াবহ নদীভাঙনের কবলে পড়েছে। সুরমা নদীর উত্তাল স্রোতে ধীরে ধীরে এসব গ্রাম বিলীন হচ্ছে। প্রতিদিন ভেঙে পড়ছে বসতভিটা ও ফসলি জমি।

একাধিকবার নদীভাঙনের কবল থেকে রক্ষায় রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেতে মানববন্ধন করেন তিন গ্রামের বাসিন্দারা। তারা আজমপুর, আশরাফপুর ও ইদনপুরসহ আশপাশের গ্রামগুলো রক্ষার দাবি জানান। তবুও সরকারি উদ্যোগ না নেয়ায় দিশেহারা এলাকার মানুষজন।

স্থানীয়রা জানায়, সুরমার টানা ভাঙনে ইতোমধ্যে তিন গ্রামের শতাধিক বাড়িঘর নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। শতাধিক একর ফসলি জমি নদীগর্ভে একাকার হওয়ায় ভেসে গেছে এলাকাবাসীর স্বপ্ন। এখনো প্রতিদিন এলাকার ফসলি জমি নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে। ভাঙন প্রতিদিনই ভয়াবহ আকার ধারণ করছে, এতে পুরো এলাকা হুমকির মুখে পড়েছে। নদী সবকিছু কেড়ে নিচ্ছে। ‘দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আমরা নিঃস্ব হয়ে যাব’, এভাবেই হতাশা প্রকাশ করেন ভুক্তভোগীরা।

ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক সদস্য আজাদ মিয়া বলেন, ‘দিন দিন নদী যেভাবে সুরমার পাড় ভাঙছে, তাতে মনে হয় আমরা আর বেশিদিন এখানে টিকে থাকতে পারব না। একসময় এ নদী ছিল জীবনের প্রতীক, আর এখন হয়ে উঠেছে দুশ্চিন্তার কারণ। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে টিকেয়ে রাখতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে তিন গ্রামের বাহিরেও আশপাশের পাঁচ থেকে সাতটি গ্রাম নদীর পেটে চলে যাবে।’

স্থানীয় বাসিন্দা সিরাজ মিয়া বলেন, ‘প্রতিদিন চোখের সামনে ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি নদীতে ভেঙে পড়ছে। ভেসে যাচ্ছে আমার স্বপ্ন ও মাথা গুজার ঠাঁই, আমরা বাঁচব কীভাবে? একটার পর একটা পরিবার নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে। অথচ সরকার এখনো নীরব। আমরা দ্রুত এই সমস্যার সমাধান চাই।’

মান্নারগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান ইজ্জত আলী জানান, এলাকাবাসী বহুবার স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানিয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে শুধু আজমপুর, ইদনপুর আর আশরাফপুর নয়, আশপাশের আরো কয়েকটি গ্রাম সুরমা নদীর গর্ভে তলিয়ে যাবে।

সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে এলাকাবাসী দাবি করেন, জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ও পাথর ফেলে তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি স্থায়ী সমাধানের জন্য নদী শাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে।

এ বিষয়ে দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অরুপ রতন সিংহ জানান, আজমপুর, ইদনপুর ও আশরাফপুর গ্রামবাসীর মানববন্ধনের বিষয়টি নজরে আসার সাথে সাথে সুরমার ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। নদীভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট দফতরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Gojnobi biplob

Popular Post

হামের টিকা নিয়ে পূর্ববর্তী সরকারগুলো ক্ষমাহীন অপরাধ করেছে : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে সুরমা নদীর ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ৩ গ্রাম

প্রকাশের সময় : ০১:৪৬:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারের মান্নারগাঁও ইউনিয়নের আশরাফপুর, আজমপুর ও ইদনপুর গ্রাম ভয়াবহ নদীভাঙনের কবলে পড়েছে। সুরমা নদীর উত্তাল স্রোতে ধীরে ধীরে এসব গ্রাম বিলীন হচ্ছে। প্রতিদিন ভেঙে পড়ছে বসতভিটা ও ফসলি জমি।

একাধিকবার নদীভাঙনের কবল থেকে রক্ষায় রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেতে মানববন্ধন করেন তিন গ্রামের বাসিন্দারা। তারা আজমপুর, আশরাফপুর ও ইদনপুরসহ আশপাশের গ্রামগুলো রক্ষার দাবি জানান। তবুও সরকারি উদ্যোগ না নেয়ায় দিশেহারা এলাকার মানুষজন।

স্থানীয়রা জানায়, সুরমার টানা ভাঙনে ইতোমধ্যে তিন গ্রামের শতাধিক বাড়িঘর নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। শতাধিক একর ফসলি জমি নদীগর্ভে একাকার হওয়ায় ভেসে গেছে এলাকাবাসীর স্বপ্ন। এখনো প্রতিদিন এলাকার ফসলি জমি নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে। ভাঙন প্রতিদিনই ভয়াবহ আকার ধারণ করছে, এতে পুরো এলাকা হুমকির মুখে পড়েছে। নদী সবকিছু কেড়ে নিচ্ছে। ‘দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আমরা নিঃস্ব হয়ে যাব’, এভাবেই হতাশা প্রকাশ করেন ভুক্তভোগীরা।

ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক সদস্য আজাদ মিয়া বলেন, ‘দিন দিন নদী যেভাবে সুরমার পাড় ভাঙছে, তাতে মনে হয় আমরা আর বেশিদিন এখানে টিকে থাকতে পারব না। একসময় এ নদী ছিল জীবনের প্রতীক, আর এখন হয়ে উঠেছে দুশ্চিন্তার কারণ। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে টিকেয়ে রাখতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে তিন গ্রামের বাহিরেও আশপাশের পাঁচ থেকে সাতটি গ্রাম নদীর পেটে চলে যাবে।’

স্থানীয় বাসিন্দা সিরাজ মিয়া বলেন, ‘প্রতিদিন চোখের সামনে ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি নদীতে ভেঙে পড়ছে। ভেসে যাচ্ছে আমার স্বপ্ন ও মাথা গুজার ঠাঁই, আমরা বাঁচব কীভাবে? একটার পর একটা পরিবার নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে। অথচ সরকার এখনো নীরব। আমরা দ্রুত এই সমস্যার সমাধান চাই।’

মান্নারগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান ইজ্জত আলী জানান, এলাকাবাসী বহুবার স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানিয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে শুধু আজমপুর, ইদনপুর আর আশরাফপুর নয়, আশপাশের আরো কয়েকটি গ্রাম সুরমা নদীর গর্ভে তলিয়ে যাবে।

সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে এলাকাবাসী দাবি করেন, জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ও পাথর ফেলে তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি স্থায়ী সমাধানের জন্য নদী শাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে।

এ বিষয়ে দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অরুপ রতন সিংহ জানান, আজমপুর, ইদনপুর ও আশরাফপুর গ্রামবাসীর মানববন্ধনের বিষয়টি নজরে আসার সাথে সাথে সুরমার ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। নদীভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট দফতরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।