ঢাকা ০৩:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজবাড়ীতে তেলের টাকা চাওয়ায় গাড়িচাপা দিয়ে রিপনকে হত্যা: আদালতে আসামিদের স্বীকারোক্তি

ছবি সংগৃহিত

রাজবাড়ীতে তেলের টাকা পরিশোধ না করে পালাতে গিয়েই গাড়িচাপায় পেট্রোল পাম্পের কর্মী রিপন সাহা (২৮) মারা যাওয়ার কথা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন আসামিরা। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদালত প্রধান আসামিসহ দুইজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শনিবার বিকেল ৪টার দিকে রাজবাড়ী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ এর বিচারক মো. মহসিন হাসান ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় গাড়িচালক কামাল হোসেনের স্বীকারোক্তি লিপিবদ্ধ করেন। পরে প্রধান আসামি রাজবাড়ী জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আবুল হাশেম সুজন ও কামাল হোসেনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় নিহতের ছোট ভাই লিটন সাহা বাদী হয়ে রাজবাড়ী থানায় হত্যা ও প্রতারণার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। নিহত রিপন সাহার বাড়ি রাজবাড়ী সদর উপজেলার খানখানাপুর ইউনিয়নের চর খানখানাপুর গ্রামে। দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন বড়। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে রাজবাড়ী সদর উপজেলার গোয়ালন্দ মোড়ে অবস্থিত করিম ফিলিং স্টেশনে একটি জিপ গাড়িতে করে আসেন আবুল হাশেম সুজন ও তার চালক কামাল হোসেন। তারা পাঁচ হাজার টাকার অকটেন নেয়ার পর টাকা পরিশোধ না করে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় পেট্রোল পাম্পের কর্মচারী রিপন সাহা বাধা দিলে তার ওপর দিয়েই গাড়ি চালিয়ে দেওয়া হয়। এতে ঘটনাস্থলেই রিপন সাহার মৃত্যু হয়।

ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। পরে শুক্রবার দুপুরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে। আবুল হাশেম সুজন পেশায় একজন ঠিকাদার। তিনি ২০১৯ সালে রাজবাড়ী জেলা যুবদলের সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন। শনিবার কেন্দ্রীয় যুবদলের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সুজন বর্তমানে যুবদলের সঙ্গে কোনো সাংগঠনিক সম্পর্ক নেই।

পুলিশ সূত্র জানায়, আবুল হাশেম সুজনের বিরুদ্ধে এর আগেও অস্ত্রসহ একাধিক মামলার অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি মামলা চলমান।

রাজবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার জিয়াউর রহমান বলেন, আদালতে চালকের স্বীকারোক্তির পর দুই আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবার দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Gojnobi biplob

Popular Post

হামের টিকা নিয়ে পূর্ববর্তী সরকারগুলো ক্ষমাহীন অপরাধ করেছে : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

রাজবাড়ীতে তেলের টাকা চাওয়ায় গাড়িচাপা দিয়ে রিপনকে হত্যা: আদালতে আসামিদের স্বীকারোক্তি

প্রকাশের সময় : ১২:২৮:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

ছবি সংগৃহিত

রাজবাড়ীতে তেলের টাকা পরিশোধ না করে পালাতে গিয়েই গাড়িচাপায় পেট্রোল পাম্পের কর্মী রিপন সাহা (২৮) মারা যাওয়ার কথা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন আসামিরা। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদালত প্রধান আসামিসহ দুইজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শনিবার বিকেল ৪টার দিকে রাজবাড়ী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ এর বিচারক মো. মহসিন হাসান ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় গাড়িচালক কামাল হোসেনের স্বীকারোক্তি লিপিবদ্ধ করেন। পরে প্রধান আসামি রাজবাড়ী জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আবুল হাশেম সুজন ও কামাল হোসেনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় নিহতের ছোট ভাই লিটন সাহা বাদী হয়ে রাজবাড়ী থানায় হত্যা ও প্রতারণার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। নিহত রিপন সাহার বাড়ি রাজবাড়ী সদর উপজেলার খানখানাপুর ইউনিয়নের চর খানখানাপুর গ্রামে। দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন বড়। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে রাজবাড়ী সদর উপজেলার গোয়ালন্দ মোড়ে অবস্থিত করিম ফিলিং স্টেশনে একটি জিপ গাড়িতে করে আসেন আবুল হাশেম সুজন ও তার চালক কামাল হোসেন। তারা পাঁচ হাজার টাকার অকটেন নেয়ার পর টাকা পরিশোধ না করে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় পেট্রোল পাম্পের কর্মচারী রিপন সাহা বাধা দিলে তার ওপর দিয়েই গাড়ি চালিয়ে দেওয়া হয়। এতে ঘটনাস্থলেই রিপন সাহার মৃত্যু হয়।

ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। পরে শুক্রবার দুপুরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে। আবুল হাশেম সুজন পেশায় একজন ঠিকাদার। তিনি ২০১৯ সালে রাজবাড়ী জেলা যুবদলের সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন। শনিবার কেন্দ্রীয় যুবদলের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সুজন বর্তমানে যুবদলের সঙ্গে কোনো সাংগঠনিক সম্পর্ক নেই।

পুলিশ সূত্র জানায়, আবুল হাশেম সুজনের বিরুদ্ধে এর আগেও অস্ত্রসহ একাধিক মামলার অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি মামলা চলমান।

রাজবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার জিয়াউর রহমান বলেন, আদালতে চালকের স্বীকারোক্তির পর দুই আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবার দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।