ঢাকা ০৩:২২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মানিকগঞ্জের সিংগাইরে এক বছরে ৬১ ট্রান্সফরমার চুরি

ছবি সংগৃহিত

মানিকগঞ্জের সিংগাইরে গত ২০২৫ সালে উপজেলাব্যাপী পল্লী বিদ্যুতের মোট ৬১টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। এতে গ্রাহক ও সাধারণ মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

প্রতিটি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় থানায় মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সিংগাইর পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।সবশেষে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি রাতে উপজেলার ধল্লায় ট্রান্সফরমার চুরি করতে গিয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় এক চোরের। পুলিশ জানায়, নিহতের নাম মিনহাজ উদ্দিন (৩২)। তিনি ময়মনসিংহের গৌরীপুর থানার বাঙ্গুর হাটি গ্রামের অসীম উদ্দিনের ছেলে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার করা হলে এ ধরনের ঘটনা অনেকাংশে কমে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে ট্রান্সফরমার চুরির কারণে চাষাবাদ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি গ্রাহক ও কৃষকেরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।

পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা গেছে, আবাসিক গ্রাহকদের বেলায় প্রথমবার ট্রান্সফরমার চুরি হলে অর্ধেক ভর্তুকি দেয়া হয়। কিন্তু সেচ গ্রাহকদের পুরো অর্থই তাদের বহন করতে হয়। এতে কৃষক ও সেচনির্ভর গ্রাহকরা আর্থিক চাপের মুখেও পড়ছেন।

মেদুলিয়া গ্রামের সেচ গ্রাহক মো: মাসুম মিয়া জানান, তার চুরি হওয়া পাঁচ কেভিএ ট্রান্সফরমারের মূল্য ধরা হয়েছে ৫৭ হাজার টাকা, যা পরিশোধ করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। এতে বোরো ধান চাষ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তিনি।

ভাকুম গ্রামের আরেক গ্রাহক মো: আমিনুর রহমান বলেন, ‘টানা তিনবার সেচের ট্রান্সফরমার চুরি হওয়ায় প্রায় তিন লাখ টাকা আমাদের ভর্তুকি দিতে হয়েছে।’

ভুক্তভোগী গ্রাহকদের অভিযোগ, পল্লী বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট কেউ জড়িত না থাকলে এভাবে একের পর এক ট্রান্সফরমার চুরি হওয়া সম্ভব নয়। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে মানিকগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সিংগাইর জোনাল অফিসের ডিজিএম মো: গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘দক্ষ ইলেকট্রিশিয়ান বা বাইরের কেউ এ চুরির সাথে জড়িত থাকতে পারে, তবে পল্লী বিদ্যুতের কোনো কর্মচারীর পক্ষে এ কাজ করা সম্ভব নয়।’

তিনি জানান, তার দীর্ঘ কর্মজীবনে এ এলাকায় এতো বেশি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা আগে দেখেননি তিনি। চুরিরোধে ধল্লা ও জামির্তা এলাকায় মাইকিং কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের এজিএম (কম) দেবব্রত ভৌমিক জানান, গত বছর চুরি হওয়া ৬১টি ট্রান্সফরমারের ঘটনায় থানায় মামলা করা হয়েছে। তবে ভুক্তভোগী গ্রাহকদের নাম ও ঠিকানা জানতে চাইলে অপারগতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘এগুলো দিয়ে আমার লাভ কি?’

অন্যদিকে থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তাদের রেকর্ড অনুযায়ী ২০১৫ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় দু’টি মামলা হয়েছে। এরমধ্যে একটি ধল্লায় ও অপরটি তালেবপুরে।

এ বিষয়ে সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘আমি অল্প দিন এ থানায় যোগদান করেছি। এরমধ্যে যে কয়টি অভিযোগ দিয়েছে তার অ্যাকশন নেয়া হয়েছে। শীতকালে ঘন কুয়াশার সুযোগ নিচ্ছেন চোরেরা। পুলিশ তৎপর রয়েছে। কুয়াশা কমে গেলে হয়তো চুরি আর হবে না।’

আশঙ্কাজনক হারে ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় শুধু বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নই নয়, বরং জননিরাপত্তা ও আর্থিক ক্ষতির বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Gojnobi biplob

Popular Post

হামের টিকা নিয়ে পূর্ববর্তী সরকারগুলো ক্ষমাহীন অপরাধ করেছে : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

মানিকগঞ্জের সিংগাইরে এক বছরে ৬১ ট্রান্সফরমার চুরি

প্রকাশের সময় : ০১:৩০:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

ছবি সংগৃহিত

মানিকগঞ্জের সিংগাইরে গত ২০২৫ সালে উপজেলাব্যাপী পল্লী বিদ্যুতের মোট ৬১টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। এতে গ্রাহক ও সাধারণ মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

প্রতিটি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় থানায় মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সিংগাইর পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।সবশেষে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি রাতে উপজেলার ধল্লায় ট্রান্সফরমার চুরি করতে গিয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় এক চোরের। পুলিশ জানায়, নিহতের নাম মিনহাজ উদ্দিন (৩২)। তিনি ময়মনসিংহের গৌরীপুর থানার বাঙ্গুর হাটি গ্রামের অসীম উদ্দিনের ছেলে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার করা হলে এ ধরনের ঘটনা অনেকাংশে কমে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে ট্রান্সফরমার চুরির কারণে চাষাবাদ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি গ্রাহক ও কৃষকেরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।

পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা গেছে, আবাসিক গ্রাহকদের বেলায় প্রথমবার ট্রান্সফরমার চুরি হলে অর্ধেক ভর্তুকি দেয়া হয়। কিন্তু সেচ গ্রাহকদের পুরো অর্থই তাদের বহন করতে হয়। এতে কৃষক ও সেচনির্ভর গ্রাহকরা আর্থিক চাপের মুখেও পড়ছেন।

মেদুলিয়া গ্রামের সেচ গ্রাহক মো: মাসুম মিয়া জানান, তার চুরি হওয়া পাঁচ কেভিএ ট্রান্সফরমারের মূল্য ধরা হয়েছে ৫৭ হাজার টাকা, যা পরিশোধ করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। এতে বোরো ধান চাষ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তিনি।

ভাকুম গ্রামের আরেক গ্রাহক মো: আমিনুর রহমান বলেন, ‘টানা তিনবার সেচের ট্রান্সফরমার চুরি হওয়ায় প্রায় তিন লাখ টাকা আমাদের ভর্তুকি দিতে হয়েছে।’

ভুক্তভোগী গ্রাহকদের অভিযোগ, পল্লী বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট কেউ জড়িত না থাকলে এভাবে একের পর এক ট্রান্সফরমার চুরি হওয়া সম্ভব নয়। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে মানিকগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সিংগাইর জোনাল অফিসের ডিজিএম মো: গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘দক্ষ ইলেকট্রিশিয়ান বা বাইরের কেউ এ চুরির সাথে জড়িত থাকতে পারে, তবে পল্লী বিদ্যুতের কোনো কর্মচারীর পক্ষে এ কাজ করা সম্ভব নয়।’

তিনি জানান, তার দীর্ঘ কর্মজীবনে এ এলাকায় এতো বেশি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা আগে দেখেননি তিনি। চুরিরোধে ধল্লা ও জামির্তা এলাকায় মাইকিং কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের এজিএম (কম) দেবব্রত ভৌমিক জানান, গত বছর চুরি হওয়া ৬১টি ট্রান্সফরমারের ঘটনায় থানায় মামলা করা হয়েছে। তবে ভুক্তভোগী গ্রাহকদের নাম ও ঠিকানা জানতে চাইলে অপারগতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘এগুলো দিয়ে আমার লাভ কি?’

অন্যদিকে থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তাদের রেকর্ড অনুযায়ী ২০১৫ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় দু’টি মামলা হয়েছে। এরমধ্যে একটি ধল্লায় ও অপরটি তালেবপুরে।

এ বিষয়ে সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘আমি অল্প দিন এ থানায় যোগদান করেছি। এরমধ্যে যে কয়টি অভিযোগ দিয়েছে তার অ্যাকশন নেয়া হয়েছে। শীতকালে ঘন কুয়াশার সুযোগ নিচ্ছেন চোরেরা। পুলিশ তৎপর রয়েছে। কুয়াশা কমে গেলে হয়তো চুরি আর হবে না।’

আশঙ্কাজনক হারে ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় শুধু বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নই নয়, বরং জননিরাপত্তা ও আর্থিক ক্ষতির বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।