ঢাকা ১০:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মানবতাবিরোধী অপরাধে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী হাসিনাসহ ১২ সেনা কর্মকর্তার বিচার শুরু আজ

জেআইসি সেলে গুম-নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক-বর্তমান ১২ সেনা কর্মকর্তার বিচার আজ শুরু হবে।

সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এই মামলার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন ও প্রথম সাক্ষীর জবানবন্দির মধ্য দিয়ে এই মামলার বিচার শুরু হবে। প্যানেলের বাকি দুই সদস্য বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

এর আগে গত ১৮ ডিসেম্বর আসামিরদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়। ওই দিন ট্রাইব্যুনালের এ আদেশের পর প্রসিকিউটর শাইখ মাহদী বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো গুমের বিচার শুরু হতে যাচ্ছে। ৫টি চার্জ গঠন করে আদেশ দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।

তিনি আরও বলেন, জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টারটি আয়নাঘরে বিভিন্ন সময়ে প্রায় ২৬ জন গুম করে রাখা হয়েছিল। তাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। এসবের ভিত্তিতেই শেখ হাসিনা ও সেনা কর্মকর্তাসহ ১৩ আসামির বিরুদ্ধে এই চার্জটি গঠন করে আদালত। আমরা প্রসিকিউশনের পক্ষে ৪০ জনেরও বেশি সাক্ষীর নাম জমা দিয়েছি।

এ মামলায় তিনজন আসামি গ্রেপ্তার রয়েছেন। তারা হলেন-ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী। এছাড়া পলাতক ১০ আসামির পাঁচজনই ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিভিন্ন মেয়াদে। এর মধ্যে রয়েছেন-লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আকবর হোসেন, মেজর জেনারেল (অব.) সাইফুল আবেদিন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) সাইফুল আলম, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী ও মেজর জেনারেল (অব.) হামিদুল হক।

বাকিরা হলেন-শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষাবিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ তৌহিদুল উল ইসলাম, মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মখছুরুল হক।

গত ৭ ডিসেম্বর অভিযোগ গঠনের ওপর শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। শুনানিতে জেআইসি সেলে সরকারবিরোধী ঘরানার লোকদের কীভাবে তুলে নিয়ে গম রেখে নির্যাতন করা হতো, সেসব ভয়াবহ বর্ণনা দেন তিনি। একই সঙ্গে ২০১৫ সালের ২২ অক্টোবর থেকে ২০২৪-এর ৫ আগস্ট পর্যন্ত গুম হওয়া ২৬ জনের বীভৎসতা সামনে আনেন।

শুনানি শেষে ১৩ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের আবেদন করেন চিফ প্রসিকিউটরে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেওয়া হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Gojnobi biplob

স্বামী বিদেশে থাকতেই অন্তঃসত্ত্বা, পরে গোপন গর্ভপাতের অভিযোগ চিকিৎসা প্রতিবেদনে ‘অসম্পূর্ণ গর্ভপাত’, এফিডেভিটের পর ঘটনাপ্রবাহ ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য

মানবতাবিরোধী অপরাধে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী হাসিনাসহ ১২ সেনা কর্মকর্তার বিচার শুরু আজ

প্রকাশের সময় : ১২:১২:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

জেআইসি সেলে গুম-নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক-বর্তমান ১২ সেনা কর্মকর্তার বিচার আজ শুরু হবে।

সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এই মামলার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন ও প্রথম সাক্ষীর জবানবন্দির মধ্য দিয়ে এই মামলার বিচার শুরু হবে। প্যানেলের বাকি দুই সদস্য বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

এর আগে গত ১৮ ডিসেম্বর আসামিরদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়। ওই দিন ট্রাইব্যুনালের এ আদেশের পর প্রসিকিউটর শাইখ মাহদী বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো গুমের বিচার শুরু হতে যাচ্ছে। ৫টি চার্জ গঠন করে আদেশ দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।

তিনি আরও বলেন, জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টারটি আয়নাঘরে বিভিন্ন সময়ে প্রায় ২৬ জন গুম করে রাখা হয়েছিল। তাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। এসবের ভিত্তিতেই শেখ হাসিনা ও সেনা কর্মকর্তাসহ ১৩ আসামির বিরুদ্ধে এই চার্জটি গঠন করে আদালত। আমরা প্রসিকিউশনের পক্ষে ৪০ জনেরও বেশি সাক্ষীর নাম জমা দিয়েছি।

এ মামলায় তিনজন আসামি গ্রেপ্তার রয়েছেন। তারা হলেন-ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী। এছাড়া পলাতক ১০ আসামির পাঁচজনই ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিভিন্ন মেয়াদে। এর মধ্যে রয়েছেন-লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আকবর হোসেন, মেজর জেনারেল (অব.) সাইফুল আবেদিন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) সাইফুল আলম, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী ও মেজর জেনারেল (অব.) হামিদুল হক।

বাকিরা হলেন-শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষাবিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ তৌহিদুল উল ইসলাম, মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মখছুরুল হক।

গত ৭ ডিসেম্বর অভিযোগ গঠনের ওপর শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। শুনানিতে জেআইসি সেলে সরকারবিরোধী ঘরানার লোকদের কীভাবে তুলে নিয়ে গম রেখে নির্যাতন করা হতো, সেসব ভয়াবহ বর্ণনা দেন তিনি। একই সঙ্গে ২০১৫ সালের ২২ অক্টোবর থেকে ২০২৪-এর ৫ আগস্ট পর্যন্ত গুম হওয়া ২৬ জনের বীভৎসতা সামনে আনেন।

শুনানি শেষে ১৩ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের আবেদন করেন চিফ প্রসিকিউটরে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেওয়া হয়।