ঢাকা ০৩:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফেসবুক প্রতারণায় ৭৬ লাখ ৩২ হাজার টাকার সম্পদ অর্জন, বাজেয়াপ্ত করল সিআইডি

  • বেঙ্গল নিউজ ডেক্স
  • প্রকাশের সময় : ০১:০৮:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২১৩ বার পড়া হয়েছে

ফেসবুকের মাধ্যমে বিভিন্ন ছদ্মপরিচয়ে প্রতারণা করে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মনিরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির ৭৬ লাখ ৩২ হাজার টাকার স্থাবর সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।জেষ্ঠ্য বিশেষ জজ ঢাকা মহানগর দায়রা আদালতের আদেশে এই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানানো হয়।সিআইডির তদন্তে জানা যায়, অভিযুক্ত মনিরুল ইসলাম ফেসবুকে বিভিন্ন পেশার বয়স্ক ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠাতেন।

বিশ্বাস অর্জনের জন্য তিনি কখনো নামী ডাক্তার, কলেজের অধ্যক্ষ, আবার কখনো প্রধানমন্ত্রীর পিএস পরিচয়ে ভিকটিমদের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতেন। এমনকি ফোনে নারী কণ্ঠ নকল করে মা-বাবার অসুস্থতার কথা বলে তিনি মানুষের সহানুভূতি আদায় করতেন। এক পর্যায়ে ধার হিসেবে টাকা নিতেন এবং টাকা পাওয়ার পরপরই মোবাইল ফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যেতেন।

মনিরুল ইসলাম নিজের ব্যাংক হিসাব ছাড়াও অন্যের জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে খোলা বিকাশ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। এই অর্থে তিনি রাজধানীর ডেমরা থানাধীন আমুলিয়া মডেল টাউনে ৭.৫ শতাংশ জমি (দলিল মূল্য ৯ লাখ ৩৩ হাজার টাকা) এবং দারুসসালাম এলাকায় ২ হাজার ১৫০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট (দলিল মূল্য ৪২ লাখ ২৫ হাজার টাকা) ক্রয় করেন।

আদালতের আদেশে এই জমি ও ফ্ল্যাটসহ মোট ৭৬ লাখ ৩২ হাজার টাকার সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।ফেসবুকে প্রতারণার মাধ্যমে ২৪ লাখ ৭৪ হাজার টাকা আত্মসাতের একটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগে ২০২৩ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বাড্ডা থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে (মামলা নং-১৭) মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা করে সিআইডি।

তদন্তে অবৈধ অর্থে সম্পদ কেনার প্রমাণ পাওয়ায় আদালতের কাছে তা বাজেয়াপ্তের আবেদন করা হয়েছিল। বর্তমানে মামলাটি সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট তদন্ত করছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, অপরাধের সাথে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। অর্থপাচার ও আর্থিক অপরাধ দমনে সিআইডি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে এবং এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে কঠোর অবস্থান বজায় রাখবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Gojnobi biplob

Popular Post

হামের টিকা নিয়ে পূর্ববর্তী সরকারগুলো ক্ষমাহীন অপরাধ করেছে : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ফেসবুক প্রতারণায় ৭৬ লাখ ৩২ হাজার টাকার সম্পদ অর্জন, বাজেয়াপ্ত করল সিআইডি

প্রকাশের সময় : ০১:০৮:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬

ফেসবুকের মাধ্যমে বিভিন্ন ছদ্মপরিচয়ে প্রতারণা করে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মনিরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির ৭৬ লাখ ৩২ হাজার টাকার স্থাবর সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।জেষ্ঠ্য বিশেষ জজ ঢাকা মহানগর দায়রা আদালতের আদেশে এই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানানো হয়।সিআইডির তদন্তে জানা যায়, অভিযুক্ত মনিরুল ইসলাম ফেসবুকে বিভিন্ন পেশার বয়স্ক ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠাতেন।

বিশ্বাস অর্জনের জন্য তিনি কখনো নামী ডাক্তার, কলেজের অধ্যক্ষ, আবার কখনো প্রধানমন্ত্রীর পিএস পরিচয়ে ভিকটিমদের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতেন। এমনকি ফোনে নারী কণ্ঠ নকল করে মা-বাবার অসুস্থতার কথা বলে তিনি মানুষের সহানুভূতি আদায় করতেন। এক পর্যায়ে ধার হিসেবে টাকা নিতেন এবং টাকা পাওয়ার পরপরই মোবাইল ফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যেতেন।

মনিরুল ইসলাম নিজের ব্যাংক হিসাব ছাড়াও অন্যের জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে খোলা বিকাশ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। এই অর্থে তিনি রাজধানীর ডেমরা থানাধীন আমুলিয়া মডেল টাউনে ৭.৫ শতাংশ জমি (দলিল মূল্য ৯ লাখ ৩৩ হাজার টাকা) এবং দারুসসালাম এলাকায় ২ হাজার ১৫০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট (দলিল মূল্য ৪২ লাখ ২৫ হাজার টাকা) ক্রয় করেন।

আদালতের আদেশে এই জমি ও ফ্ল্যাটসহ মোট ৭৬ লাখ ৩২ হাজার টাকার সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।ফেসবুকে প্রতারণার মাধ্যমে ২৪ লাখ ৭৪ হাজার টাকা আত্মসাতের একটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগে ২০২৩ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বাড্ডা থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে (মামলা নং-১৭) মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা করে সিআইডি।

তদন্তে অবৈধ অর্থে সম্পদ কেনার প্রমাণ পাওয়ায় আদালতের কাছে তা বাজেয়াপ্তের আবেদন করা হয়েছিল। বর্তমানে মামলাটি সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট তদন্ত করছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, অপরাধের সাথে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। অর্থপাচার ও আর্থিক অপরাধ দমনে সিআইডি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে এবং এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে কঠোর অবস্থান বজায় রাখবে।