ঢাকা ০৩:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দীর্ঘ ১৯ মাস পর আত্রাইয়ের সুমন হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

  • নওগাঁ প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : ০২:১৮:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২৭৪ বার পড়া হয়েছে

দীর্ঘ ১৯ মাস পর নওগাঁ জেলার আত্রাই থানার আলোচিত সুমন হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনের কথা জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় প্রধান আসামি শাফিউলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তার দেওয়া তথ্যে একটি পুকুর থেকে নিহত সুমনের হাড়গোড় ও বিচ্ছিন্ন কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় আত্রাই থানায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, “আটক শাফিউল জিজ্ঞাসাবাদে সুমনকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।”

আত্রাই উপজেলার কয়সা গ্রামের মো. শাহাদাত হোসেনের ছেলে সুমন ২০২৪ সালের ২০ জুন রাত আনুমানিক ১১টা ৪৫ মিনিটে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে ২২ জুন আত্রাই থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়।

খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বাড়ির পাশে পড়ে থাকা একটি ইটের টুকরায় রক্তের দাগ দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে ইটের রক্তের ডিএনএ পরীক্ষা করা হয় এবং তা সুমনের রক্ত বলে শনাক্ত হয়।

এরপর সুমনের স্ত্রী ২০২৫ সালের ১৫ নভেম্বর আত্রাই থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘদিন ধরে মামলাটির কোনো অগ্রগতি না থাকায় তদন্ত কার্যক্রম অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়ে।

সপ্তাহখানেক আগে সুমনের পরিবার ও স্বজনরা নওগাঁ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে গিয়ে মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পুলিশ সুপার তাদের বক্তব্য শোনেন এবং মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করেন। এরপর তিনি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম), আত্রাই থানার ওসি ও তদন্তকারী কর্মকর্তাকে নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দেন।

তদন্তে প্রযুক্তি ব্যবহার করে সন্দেহভাজন শাফিউলকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেন। জিজ্ঞাসাবাদে শাফিউল পুলিশকে জানান, সুমন তার স্ত্রীকে ‘অনৈতিক প্রস্তাব’ দেন এবং হাত ধরে টানাটানি করায় তিনি ক্ষিপ্ত হন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২২ জুন তিনি ও তার ছোট ভাই সায়েম পরিকল্পনা করে সুমনকে বাড়ি থেকে ডেকে নেন। গভীর রাতে বাড়ির পাশের নির্জন রাস্তায় নিয়ে গিয়ে মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়। পরে দুই ভাই মিলে লাশ গুম করার জন্য পাশের নিচু জায়গায় মাটি চাপা দেন।

শাফিউলের ছোট ভাই সায়েম কয়েক মাস আগে আত্মহত্যা করেন। পরিবার ও স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ শাফিউলকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চালায়।

পরে শাফিউলের দেওয়া তথ্যে শুক্রবার বিকেলে কয়শা গ্রামের রমজানের পুকুরের পানি সেচে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সুমনের হাড়গোড় ও বিচ্ছিন্ন কঙ্কাল উদ্ধার করা হয় বলে জানান পুলিশ সুপার।

তিনি বলেন, “পুলিশ যে কোনো অপরাধ উদঘাটন ও দমন করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Gojnobi biplob

Popular Post

হামের টিকা নিয়ে পূর্ববর্তী সরকারগুলো ক্ষমাহীন অপরাধ করেছে : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

দীর্ঘ ১৯ মাস পর আত্রাইয়ের সুমন হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

প্রকাশের সময় : ০২:১৮:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

দীর্ঘ ১৯ মাস পর নওগাঁ জেলার আত্রাই থানার আলোচিত সুমন হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনের কথা জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় প্রধান আসামি শাফিউলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তার দেওয়া তথ্যে একটি পুকুর থেকে নিহত সুমনের হাড়গোড় ও বিচ্ছিন্ন কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় আত্রাই থানায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, “আটক শাফিউল জিজ্ঞাসাবাদে সুমনকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।”

আত্রাই উপজেলার কয়সা গ্রামের মো. শাহাদাত হোসেনের ছেলে সুমন ২০২৪ সালের ২০ জুন রাত আনুমানিক ১১টা ৪৫ মিনিটে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে ২২ জুন আত্রাই থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়।

খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বাড়ির পাশে পড়ে থাকা একটি ইটের টুকরায় রক্তের দাগ দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে ইটের রক্তের ডিএনএ পরীক্ষা করা হয় এবং তা সুমনের রক্ত বলে শনাক্ত হয়।

এরপর সুমনের স্ত্রী ২০২৫ সালের ১৫ নভেম্বর আত্রাই থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘদিন ধরে মামলাটির কোনো অগ্রগতি না থাকায় তদন্ত কার্যক্রম অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়ে।

সপ্তাহখানেক আগে সুমনের পরিবার ও স্বজনরা নওগাঁ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে গিয়ে মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পুলিশ সুপার তাদের বক্তব্য শোনেন এবং মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করেন। এরপর তিনি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম), আত্রাই থানার ওসি ও তদন্তকারী কর্মকর্তাকে নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দেন।

তদন্তে প্রযুক্তি ব্যবহার করে সন্দেহভাজন শাফিউলকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেন। জিজ্ঞাসাবাদে শাফিউল পুলিশকে জানান, সুমন তার স্ত্রীকে ‘অনৈতিক প্রস্তাব’ দেন এবং হাত ধরে টানাটানি করায় তিনি ক্ষিপ্ত হন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২২ জুন তিনি ও তার ছোট ভাই সায়েম পরিকল্পনা করে সুমনকে বাড়ি থেকে ডেকে নেন। গভীর রাতে বাড়ির পাশের নির্জন রাস্তায় নিয়ে গিয়ে মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়। পরে দুই ভাই মিলে লাশ গুম করার জন্য পাশের নিচু জায়গায় মাটি চাপা দেন।

শাফিউলের ছোট ভাই সায়েম কয়েক মাস আগে আত্মহত্যা করেন। পরিবার ও স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ শাফিউলকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চালায়।

পরে শাফিউলের দেওয়া তথ্যে শুক্রবার বিকেলে কয়শা গ্রামের রমজানের পুকুরের পানি সেচে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সুমনের হাড়গোড় ও বিচ্ছিন্ন কঙ্কাল উদ্ধার করা হয় বলে জানান পুলিশ সুপার।

তিনি বলেন, “পুলিশ যে কোনো অপরাধ উদঘাটন ও দমন করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।”