ঢাকা ০৩:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ময়মনসিংহের ভালুকায় দুই গ্রুপের পাল্টাপাল্টি হামলায় আহত অন্তত ৩০

ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) সংসদীয় আসনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর নেতাকর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। রোববার সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত দফায় দফায় পাল্টাপাল্টি এ হামলা চলে।

এতে বিএনপির দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর, স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকের কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।এ ঘটনায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় থমথমে পরিবেশ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ও ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ মোর্শেদ আলম ভালুকার বাটাজোড় এলাকায় গণসংযোগ করতে যান। সন্ধ্যার আগমুহূর্তে সেখানে ধানের শীষের সমর্থকেরা হামলা চালান। পরে স্থানীয় লোকজন স্বতন্ত্র প্রার্থীকে গাড়িতে তুলে দিলে তিনি স্থান ত্যাগ করেন।

এ ঘটনার খবরে সন্ধ্যার দিকে ভালুকা পৌর সদর এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফখরুদ্দিন আহমেদ বাচ্চুর দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর চালায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকরা। এতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে বিএনপির দলীয় লোকজন জড়ো হয়ে পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব আদি খান (শাকিল) এর কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন।

এ ছাড়াও স্বতন্ত্রপ্রার্থী মোর্শেদ আলমের ভালুকা পৌর সদরের কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। রাতে সিডস্টোর বাজারে যুবদলের কার্যালয়ে ভাঙচুর ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে সড়কে আগুন দেওয়া হয়। আগুনের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

রাত আটটার দিকেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। রাত পৌনে ১০টার দিকে পৌরশহরে পুলিশ, সেনাবাহিনীর ও ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি শান্ত হলেও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কার্যালয়ে ভাঙচুর ও উত্তেজনা চলছিল। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলার জের ধরে পৌর এলাকার সকল দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়।

নির্বাচনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব পালন করা ভালুকা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইকবাল হোসাইন বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীকে প্রচারণার সময় ধাক্কা দেওয়াকে কেন্দ্র করে স্বতন্ত্র ও বিএনপির প্রার্থীর লোকজন একে অপরের দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর করেছেন। আজ সন্ধ্যায় এ গন্ডগোল শুরু হয়, আগুন দেওয়া হয়েছে। চার-পাঁচটি স্পটে এসব ঘটনা হয়েছে। এসব নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে।

রাত আটটার দিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ মোর্শেদ আলম বলেন, ‘তিন দিন ধরেই নির্বাচনী প্রচারে ধানের শীষের প্রার্থীর লোকজন বিভিন্নভাবে আমাকে ও আমার নেতাকর্মীদের বাধার সৃষ্টি করছিল। আজ সন্ধ্যায় গণসংযোগ শেষে ফেরার পথে পেছন থেকে এসে আমাকে ঘেরাও করে হামলা করে। পরে স্থানীয় লোকজন আমাকে গাড়িতে তুলে নিরাপদে পাঠায়। এর আগে উপজেলার কাঁঠালি এলাকায় আমার দুজন কর্মীকে মাইক্রোবাসসহ আটকে মারধর করা হয়। আমার দলীয় কার্যালয়, ছাত্রদলের কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়ে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় ঝামেলা হচ্ছে। আমি সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানাবো।

বিএনপির দলীয় কার্যালয় ভাঙচুরের সময় সেখানে থাকা কর্মীরা জানিয়েছেন, শ্রমিক দলের পক্ষ থেকে নির্বাচন পরিচালনাসংক্রান্ত সভা করার সময় অতর্কিত হামলা চালান স্বতন্ত্র প্রার্থীর লোকজন।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে বিএনপির দলীয় প্রার্থী ফখর উদ্দিন আহমেদের মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি বলেন, দলীয় কার্যালয়ে কারা হামলা করেছে, তা শনাক্ত করে পরে জানাবেন।

ময়মনসিংহ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, হামলা, ভাঙচুর ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং একাধিক স্থানে অগ্নিসংযোগের খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে।

ভালুকা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Gojnobi biplob

Popular Post

হামের টিকা নিয়ে পূর্ববর্তী সরকারগুলো ক্ষমাহীন অপরাধ করেছে : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ময়মনসিংহের ভালুকায় দুই গ্রুপের পাল্টাপাল্টি হামলায় আহত অন্তত ৩০

প্রকাশের সময় : ১২:৩৯:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) সংসদীয় আসনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর নেতাকর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। রোববার সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত দফায় দফায় পাল্টাপাল্টি এ হামলা চলে।

এতে বিএনপির দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর, স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকের কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।এ ঘটনায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় থমথমে পরিবেশ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ও ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ মোর্শেদ আলম ভালুকার বাটাজোড় এলাকায় গণসংযোগ করতে যান। সন্ধ্যার আগমুহূর্তে সেখানে ধানের শীষের সমর্থকেরা হামলা চালান। পরে স্থানীয় লোকজন স্বতন্ত্র প্রার্থীকে গাড়িতে তুলে দিলে তিনি স্থান ত্যাগ করেন।

এ ঘটনার খবরে সন্ধ্যার দিকে ভালুকা পৌর সদর এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফখরুদ্দিন আহমেদ বাচ্চুর দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর চালায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকরা। এতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে বিএনপির দলীয় লোকজন জড়ো হয়ে পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব আদি খান (শাকিল) এর কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন।

এ ছাড়াও স্বতন্ত্রপ্রার্থী মোর্শেদ আলমের ভালুকা পৌর সদরের কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। রাতে সিডস্টোর বাজারে যুবদলের কার্যালয়ে ভাঙচুর ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে সড়কে আগুন দেওয়া হয়। আগুনের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

রাত আটটার দিকেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। রাত পৌনে ১০টার দিকে পৌরশহরে পুলিশ, সেনাবাহিনীর ও ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি শান্ত হলেও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কার্যালয়ে ভাঙচুর ও উত্তেজনা চলছিল। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলার জের ধরে পৌর এলাকার সকল দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়।

নির্বাচনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব পালন করা ভালুকা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইকবাল হোসাইন বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীকে প্রচারণার সময় ধাক্কা দেওয়াকে কেন্দ্র করে স্বতন্ত্র ও বিএনপির প্রার্থীর লোকজন একে অপরের দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর করেছেন। আজ সন্ধ্যায় এ গন্ডগোল শুরু হয়, আগুন দেওয়া হয়েছে। চার-পাঁচটি স্পটে এসব ঘটনা হয়েছে। এসব নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে।

রাত আটটার দিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ মোর্শেদ আলম বলেন, ‘তিন দিন ধরেই নির্বাচনী প্রচারে ধানের শীষের প্রার্থীর লোকজন বিভিন্নভাবে আমাকে ও আমার নেতাকর্মীদের বাধার সৃষ্টি করছিল। আজ সন্ধ্যায় গণসংযোগ শেষে ফেরার পথে পেছন থেকে এসে আমাকে ঘেরাও করে হামলা করে। পরে স্থানীয় লোকজন আমাকে গাড়িতে তুলে নিরাপদে পাঠায়। এর আগে উপজেলার কাঁঠালি এলাকায় আমার দুজন কর্মীকে মাইক্রোবাসসহ আটকে মারধর করা হয়। আমার দলীয় কার্যালয়, ছাত্রদলের কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়ে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় ঝামেলা হচ্ছে। আমি সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানাবো।

বিএনপির দলীয় কার্যালয় ভাঙচুরের সময় সেখানে থাকা কর্মীরা জানিয়েছেন, শ্রমিক দলের পক্ষ থেকে নির্বাচন পরিচালনাসংক্রান্ত সভা করার সময় অতর্কিত হামলা চালান স্বতন্ত্র প্রার্থীর লোকজন।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে বিএনপির দলীয় প্রার্থী ফখর উদ্দিন আহমেদের মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি বলেন, দলীয় কার্যালয়ে কারা হামলা করেছে, তা শনাক্ত করে পরে জানাবেন।

ময়মনসিংহ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, হামলা, ভাঙচুর ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং একাধিক স্থানে অগ্নিসংযোগের খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে।

ভালুকা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।