ঢাকা ০৮:১০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ড. আসিফ নজরুল রিয়াদের সম্মেলনে বলেন দক্ষ জনশক্তি গড়াই আগামীর লক্ষ্য

  • বেঙ্গল নিউজ ডেক্স
  • প্রকাশের সময় : ১২:০৯:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২১৮ বার পড়া হয়েছে

পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক শ্রমবাজারের কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং আন্তর্জাতিক চাহিদার সাথে সংগতি রেখে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে বাংলাদেশ তার সর্বোচ্চ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অনুষ্ঠিত তৃতীয় গ্লোবাল লেবার মার্কেট সম্মেলনে (GLMC) অংশগ্রহণ করে এই দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।

গতকাল সোমবার অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট করেন যে, বাংলাদেশ কেবল সংখ্যায় নয়, বরং গুণগত মানসম্পন্ন দক্ষ শ্রমিক বিদেশে প্রেরণের মাধ্যমে রেমিট্যান্স যোদ্ধা ও সংশ্লিষ্ট দেশের উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে চায়।

সম্মেলনে ড. আসিফ নজরুল বলেন, আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে বাংলাদেশ বদ্ধপরিকর। তিনি উল্লেখ করেন যে, চতুর্থ শিল্প বিপ্লব এবং প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের ফলে শ্রমবাজারের চাহিদা দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। গতানুগতিক অদক্ষ শ্রমিকের পরিবর্তে এখন কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন পেশাজীবীদের চাহিদা সবচেয়ে বেশি।

এই চাহিদা পূরণে বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, বিদেশে গমনেচ্ছু কর্মীদের দক্ষতা যাচাই ও মান নিশ্চিতকরণে ব্যাপক সংস্কার আনা হয়েছে।

বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য অন্যতম প্রধান শ্রমবাজার সৌদি আরব। ড. আসিফ নজরুল তাঁর বক্তব্যে সৌদি তাকামল-এর সাথে সম্পাদিত দক্ষতা যাচাই কর্মসূচি (Skill Verification Program – SVP) চুক্তির অভাবনীয় সাফল্যের কথা তুলে ধরেন।

বর্তমান অগ্রগতি: এই চুক্তির অধীনে বাংলাদেশ বর্তমানে প্রতি মাসে ৬০,০০০ কর্মীকে বিভিন্ন কারিগরি ও বৃত্তিমূলক পেশায় দক্ষতার সনদ প্রদান করছে।

বাজারের চাহিদা: সৌদি আরবের শ্রমবাজারের প্রকৃত ও বর্তমান চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রেখেই এই প্রশিক্ষণ ও সার্টিফিকেট প্রদান করা হচ্ছে, যা বাংলাদেশি কর্মীদের উচ্চ বেতনে কাজ পাওয়ার পথ প্রশস্ত করছে।

সম্মেলনে ড. আসিফ নজরুল বাংলাদেশের শ্রম খাতের আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অর্জনের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ আইএলও (ILO)-এর দশটি মৌলিক কনভেনশন অনুমোদন করে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। এটি শ্রমবাজারে ন্যায্যতা, শ্রমিক কল্যাণ এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন।

এই প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে সম্প্রতি জারি করা হয়েছে ‘বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫’। এই অধ্যাদেশের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:

ট্রেড ইউনিয়ন গঠন সহজীকরণ: শ্রমিকদের নিজেদের দাবি আদায়ে সংগঠিত হওয়ার প্রক্রিয়াকে আরও গণতান্ত্রিক ও সহজ করা হয়েছে।

মজুরি বৈষম্য দূরীকরণ: লিঙ্গ-ভিত্তিক যেকোনো বৈষম্য দূর করে ‘সমান কাজে সমান মজুরি’ নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

কালো তালিকাভুক্তি নিষিদ্ধকরণ: শ্রমিকদের অযৌক্তিকভাবে কালো তালিকাভুক্ত করার প্রথা বন্ধ করা হয়েছে, যা তাদের কর্মসংস্থান নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

নিরাপদ অভিবাসন: সম্প্রতি বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে স্বাক্ষরিত শ্রমিক নিয়োগ চুক্তি নিরাপদ এবং ব্যয়সাশ্রয়ী অভিবাসনে মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এ বছর রিয়াদে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO)-এর মহাসচিব গিলবার্ট এফ. হুংবো-সহ বিশ্বের প্রায় ৩৫টি দেশের শ্রমমন্ত্রী ও নীতি-নির্ধারকরা অংশগ্রহণ করেন। বিশ্বজুড়ে চলমান ভূ-রাজনীতি এবং অর্থনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে শ্রমবাজারের সংকট সমাধানে এই সম্মেলন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

সম্মেলনের শেষে ড. আসিফ নজরুল প্রবাসী কর্মীদের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে প্রবাসীদের অবদান অনস্বীকার্য। তাদের জন্য সম্মানজনক কর্মসংস্থান এবং বিদেশযাত্রা নিরাপদ করাই এই সরকারের মূল লক্ষ্য।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Gojnobi biplob

স্বামী বিদেশে থাকতেই অন্তঃসত্ত্বা, পরে গোপন গর্ভপাতের অভিযোগ চিকিৎসা প্রতিবেদনে ‘অসম্পূর্ণ গর্ভপাত’, এফিডেভিটের পর ঘটনাপ্রবাহ ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য

ড. আসিফ নজরুল রিয়াদের সম্মেলনে বলেন দক্ষ জনশক্তি গড়াই আগামীর লক্ষ্য

প্রকাশের সময় : ১২:০৯:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক শ্রমবাজারের কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং আন্তর্জাতিক চাহিদার সাথে সংগতি রেখে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে বাংলাদেশ তার সর্বোচ্চ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অনুষ্ঠিত তৃতীয় গ্লোবাল লেবার মার্কেট সম্মেলনে (GLMC) অংশগ্রহণ করে এই দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।

গতকাল সোমবার অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট করেন যে, বাংলাদেশ কেবল সংখ্যায় নয়, বরং গুণগত মানসম্পন্ন দক্ষ শ্রমিক বিদেশে প্রেরণের মাধ্যমে রেমিট্যান্স যোদ্ধা ও সংশ্লিষ্ট দেশের উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে চায়।

সম্মেলনে ড. আসিফ নজরুল বলেন, আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে বাংলাদেশ বদ্ধপরিকর। তিনি উল্লেখ করেন যে, চতুর্থ শিল্প বিপ্লব এবং প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের ফলে শ্রমবাজারের চাহিদা দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। গতানুগতিক অদক্ষ শ্রমিকের পরিবর্তে এখন কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন পেশাজীবীদের চাহিদা সবচেয়ে বেশি।

এই চাহিদা পূরণে বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, বিদেশে গমনেচ্ছু কর্মীদের দক্ষতা যাচাই ও মান নিশ্চিতকরণে ব্যাপক সংস্কার আনা হয়েছে।

বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য অন্যতম প্রধান শ্রমবাজার সৌদি আরব। ড. আসিফ নজরুল তাঁর বক্তব্যে সৌদি তাকামল-এর সাথে সম্পাদিত দক্ষতা যাচাই কর্মসূচি (Skill Verification Program – SVP) চুক্তির অভাবনীয় সাফল্যের কথা তুলে ধরেন।

বর্তমান অগ্রগতি: এই চুক্তির অধীনে বাংলাদেশ বর্তমানে প্রতি মাসে ৬০,০০০ কর্মীকে বিভিন্ন কারিগরি ও বৃত্তিমূলক পেশায় দক্ষতার সনদ প্রদান করছে।

বাজারের চাহিদা: সৌদি আরবের শ্রমবাজারের প্রকৃত ও বর্তমান চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রেখেই এই প্রশিক্ষণ ও সার্টিফিকেট প্রদান করা হচ্ছে, যা বাংলাদেশি কর্মীদের উচ্চ বেতনে কাজ পাওয়ার পথ প্রশস্ত করছে।

সম্মেলনে ড. আসিফ নজরুল বাংলাদেশের শ্রম খাতের আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অর্জনের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ আইএলও (ILO)-এর দশটি মৌলিক কনভেনশন অনুমোদন করে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। এটি শ্রমবাজারে ন্যায্যতা, শ্রমিক কল্যাণ এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন।

এই প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে সম্প্রতি জারি করা হয়েছে ‘বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫’। এই অধ্যাদেশের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:

ট্রেড ইউনিয়ন গঠন সহজীকরণ: শ্রমিকদের নিজেদের দাবি আদায়ে সংগঠিত হওয়ার প্রক্রিয়াকে আরও গণতান্ত্রিক ও সহজ করা হয়েছে।

মজুরি বৈষম্য দূরীকরণ: লিঙ্গ-ভিত্তিক যেকোনো বৈষম্য দূর করে ‘সমান কাজে সমান মজুরি’ নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

কালো তালিকাভুক্তি নিষিদ্ধকরণ: শ্রমিকদের অযৌক্তিকভাবে কালো তালিকাভুক্ত করার প্রথা বন্ধ করা হয়েছে, যা তাদের কর্মসংস্থান নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

নিরাপদ অভিবাসন: সম্প্রতি বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে স্বাক্ষরিত শ্রমিক নিয়োগ চুক্তি নিরাপদ এবং ব্যয়সাশ্রয়ী অভিবাসনে মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এ বছর রিয়াদে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO)-এর মহাসচিব গিলবার্ট এফ. হুংবো-সহ বিশ্বের প্রায় ৩৫টি দেশের শ্রমমন্ত্রী ও নীতি-নির্ধারকরা অংশগ্রহণ করেন। বিশ্বজুড়ে চলমান ভূ-রাজনীতি এবং অর্থনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে শ্রমবাজারের সংকট সমাধানে এই সম্মেলন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

সম্মেলনের শেষে ড. আসিফ নজরুল প্রবাসী কর্মীদের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে প্রবাসীদের অবদান অনস্বীকার্য। তাদের জন্য সম্মানজনক কর্মসংস্থান এবং বিদেশযাত্রা নিরাপদ করাই এই সরকারের মূল লক্ষ্য।